নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

গত ১৫ বছরে বিচার বিভাগকে দলীয়করণ করা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ। তিনি বলেন, বিচার বিভাগ অনেক ক্ষেত্রেই হয়ে উঠেছিল রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের হাতিয়ার। বিচার বিভাগকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। সুবিচারের পরিবর্তে অবিচারই প্রাধান্য পেয়েছিল।
আজ রোববার প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ। আপিল বিভাগের এক নম্বর এজলাসে অ্যাটর্নি জেনারেল ও সুপ্রিম কোর্ট বারের পক্ষ থেকে এই সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, গতে ১৫ বছরে বিচারপ্রার্থী অসহায়, নিপীড়িত মানুষের আহাজারি আদালতের মনে আঁচর কাটতে পারেনি। ফলে বিচারের বাণী নিভৃতে কেঁদেছে। নারী, পুরুষ এবং শিশুদের কান্নায় আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। কিন্তু বিচার বিভাগ সেই অত্যাচারিত মানুষের পাশে ন্যায়ের ঝান্ডা নিয়ে দাঁড়াতে ব্যর্থ হয়েছে।
আরশাদুর রউফ আরও বলেন, বিচার বিভাগের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতির সয়লাব বয়ে গিয়েছিল। বিচারের কারণ-বিহীন দীর্ঘসূত্রতা এবং উদ্দেশ্যমূলক অতি দ্রুত বিচার দু’টোই বিচার বিভাগকে আশঙ্কায় ফেলে দিয়েছিল। বিচার বিভাগ তার স্বকীয়তা ও স্বাধীনতা হারিয়ে ফেলেছিল। ফলে বিচার বিভাগ নিয়ে মানুষের প্রত্যাশার কবর রচিত হয়েছিল। কিন্তু ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার সফল বিপ্লবের পর এক অপার সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়। বিচার বিভাগ তার হারানো গৌরব ও মর্যাদা ফিরে পায়।
তিনি আরও বলেন, বিচার বিভাগের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো দুর্নীতি। দুর্নীতির এই বিষবাষ্প বিচারকার্যের সঙ্গে সম্পর্কিত সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আক্রান্ত করেছে। জাতি প্রত্যাশা করে বিচার বিভাগ সিন্ডিকেট মুক্ত হোক, দুর্নীতিমুক্ত হোক। দুর্নীতির প্রচলিত ধারণায় অর্থনৈতিক লেনদেনকে বোঝালেও, বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতি ডিনামাইটের চেয়েও ধ্বংসাত্মক, অ্যাটম বোমার চেয়েও ভয়াবহ, ক্যানসারের চেয়েও মরণঘাতী। সুতরাং শুদ্ধি অভিযানের মাধ্যমে বিচার বিভাগের সকল স্তর থেকে দুর্নীতি নির্মূল করতে হবে।
আরশাদুর রউফ আরও বলেন, রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গের নিরীক্ষক বিচার বিভাগ। যখন অন্য দুই অঙ্গ এড়িয়ে যায়, ভুল করে, অন্যায় বা অবৈধ কোনো কিছু করে-তখন বিচার বিভাগ সাড়া দেয়, প্রতিরোধ ও প্রতিকারের ব্যবস্থা করে। আর কখনো যেন বিচার বিভাগ তার পথ না হারায়, অনাকাঙ্ক্ষিত সমালোচনার শিকার না হয়, অপ্রত্যাশিত আক্রমণের শিকার না হয় বা স্বার্থান্বেষী মহলের স্বার্থের কেন্দ্রে পরিণত না হয় সে দিকে সংশ্লিষ্টদের এবং কর্তৃপক্ষের সচেতনতা থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এর আগে বক্তব্যের শুরুতেই আরশাদুর রউফ ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের লাখো শহীদ, আহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনা মা-বোনদের স্মরণ করেন। স্মরণ করেন সদ্য প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়াকেও।
জুলাই শহীদদের স্মরণ করে আরশাদুর রউফ বলেন, বিনম্রচিত্তে স্মরণ করছি জুলাই ২০২৪ সালের অকুতোভয় সন্তান শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ফাইয়াজসহ প্রায় দেড় হাজার শহীদ এবং ত্রিশ সহস্রাধিক আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী সংগ্রামী ছাত্র-জনতাকে, যাদের অকাতরে বিলিয়ে দেওয়া রক্তের ডানায় ভর করে আমরা পেয়েছি স্বাধীন সার্বভৌম নতুন এক বাংলাদেশ। রাজপথে বুক পেতে দেওয়া এসব বীর সন্তানদের রক্ত পিচ্ছিল পথ বেয়ে পৃথিবীর বুকে আবির্ভূত হয়েছে আজকের এ স্বপ্নের বাংলাদেশ। ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার স্বৈরাচার-বিরোধী গণবিপ্লব একসূত্রে গাঁথা এক অবিচ্ছেদ্য, পবিত্র ও হিরণ্ময় পরম্পরা। উভয় ক্ষেত্রে সংগ্রামীদের স্বপ্ন ও দাবি কেবল একটি মানচিত্র, পতাকা বা শাসকের পরিবর্তন ছিল না। বরং তাঁদের স্বপ্ন ছিল সামাজিক সুবিচার ও মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন, বৈষম্যহীন, ইনসাফ ভিত্তিক এক নিরাপদ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা।

গত ১৫ বছরে বিচার বিভাগকে দলীয়করণ করা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ। তিনি বলেন, বিচার বিভাগ অনেক ক্ষেত্রেই হয়ে উঠেছিল রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের হাতিয়ার। বিচার বিভাগকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। সুবিচারের পরিবর্তে অবিচারই প্রাধান্য পেয়েছিল।
আজ রোববার প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ। আপিল বিভাগের এক নম্বর এজলাসে অ্যাটর্নি জেনারেল ও সুপ্রিম কোর্ট বারের পক্ষ থেকে এই সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, গতে ১৫ বছরে বিচারপ্রার্থী অসহায়, নিপীড়িত মানুষের আহাজারি আদালতের মনে আঁচর কাটতে পারেনি। ফলে বিচারের বাণী নিভৃতে কেঁদেছে। নারী, পুরুষ এবং শিশুদের কান্নায় আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। কিন্তু বিচার বিভাগ সেই অত্যাচারিত মানুষের পাশে ন্যায়ের ঝান্ডা নিয়ে দাঁড়াতে ব্যর্থ হয়েছে।
আরশাদুর রউফ আরও বলেন, বিচার বিভাগের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতির সয়লাব বয়ে গিয়েছিল। বিচারের কারণ-বিহীন দীর্ঘসূত্রতা এবং উদ্দেশ্যমূলক অতি দ্রুত বিচার দু’টোই বিচার বিভাগকে আশঙ্কায় ফেলে দিয়েছিল। বিচার বিভাগ তার স্বকীয়তা ও স্বাধীনতা হারিয়ে ফেলেছিল। ফলে বিচার বিভাগ নিয়ে মানুষের প্রত্যাশার কবর রচিত হয়েছিল। কিন্তু ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার সফল বিপ্লবের পর এক অপার সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়। বিচার বিভাগ তার হারানো গৌরব ও মর্যাদা ফিরে পায়।
তিনি আরও বলেন, বিচার বিভাগের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো দুর্নীতি। দুর্নীতির এই বিষবাষ্প বিচারকার্যের সঙ্গে সম্পর্কিত সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আক্রান্ত করেছে। জাতি প্রত্যাশা করে বিচার বিভাগ সিন্ডিকেট মুক্ত হোক, দুর্নীতিমুক্ত হোক। দুর্নীতির প্রচলিত ধারণায় অর্থনৈতিক লেনদেনকে বোঝালেও, বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতি ডিনামাইটের চেয়েও ধ্বংসাত্মক, অ্যাটম বোমার চেয়েও ভয়াবহ, ক্যানসারের চেয়েও মরণঘাতী। সুতরাং শুদ্ধি অভিযানের মাধ্যমে বিচার বিভাগের সকল স্তর থেকে দুর্নীতি নির্মূল করতে হবে।
আরশাদুর রউফ আরও বলেন, রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গের নিরীক্ষক বিচার বিভাগ। যখন অন্য দুই অঙ্গ এড়িয়ে যায়, ভুল করে, অন্যায় বা অবৈধ কোনো কিছু করে-তখন বিচার বিভাগ সাড়া দেয়, প্রতিরোধ ও প্রতিকারের ব্যবস্থা করে। আর কখনো যেন বিচার বিভাগ তার পথ না হারায়, অনাকাঙ্ক্ষিত সমালোচনার শিকার না হয়, অপ্রত্যাশিত আক্রমণের শিকার না হয় বা স্বার্থান্বেষী মহলের স্বার্থের কেন্দ্রে পরিণত না হয় সে দিকে সংশ্লিষ্টদের এবং কর্তৃপক্ষের সচেতনতা থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এর আগে বক্তব্যের শুরুতেই আরশাদুর রউফ ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের লাখো শহীদ, আহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনা মা-বোনদের স্মরণ করেন। স্মরণ করেন সদ্য প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়াকেও।
জুলাই শহীদদের স্মরণ করে আরশাদুর রউফ বলেন, বিনম্রচিত্তে স্মরণ করছি জুলাই ২০২৪ সালের অকুতোভয় সন্তান শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ফাইয়াজসহ প্রায় দেড় হাজার শহীদ এবং ত্রিশ সহস্রাধিক আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী সংগ্রামী ছাত্র-জনতাকে, যাদের অকাতরে বিলিয়ে দেওয়া রক্তের ডানায় ভর করে আমরা পেয়েছি স্বাধীন সার্বভৌম নতুন এক বাংলাদেশ। রাজপথে বুক পেতে দেওয়া এসব বীর সন্তানদের রক্ত পিচ্ছিল পথ বেয়ে পৃথিবীর বুকে আবির্ভূত হয়েছে আজকের এ স্বপ্নের বাংলাদেশ। ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার স্বৈরাচার-বিরোধী গণবিপ্লব একসূত্রে গাঁথা এক অবিচ্ছেদ্য, পবিত্র ও হিরণ্ময় পরম্পরা। উভয় ক্ষেত্রে সংগ্রামীদের স্বপ্ন ও দাবি কেবল একটি মানচিত্র, পতাকা বা শাসকের পরিবর্তন ছিল না। বরং তাঁদের স্বপ্ন ছিল সামাজিক সুবিচার ও মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন, বৈষম্যহীন, ইনসাফ ভিত্তিক এক নিরাপদ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সময় সহিংসতার ঘটনায় দায়ের করা এক হত্যা মামলায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক সাবেক প্রতিমন্ত্রী দীপঙ্কর তালুকদারকে ৫ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
১ ঘণ্টা আগে
মানিকগঞ্জ রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীকে ধাক্কা দেওয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় বাধার অভিযোগ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের কানে আসেনি। তিনি বলেছেন, ‘আমার কানে এটা আসেনি। এরকম অসঙ্গতি হয়ে থাকলে রিটার্নিং কর্মকর্তা দেখবেন।’
১ ঘণ্টা আগে
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে করার তফসিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট দায়ের করা হয়েছে। আজ সোমবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ এই রিট দায়ের করেন। রিটে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচনের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
২ ঘণ্টা আগে
এ সম্পর্কিত আবেদনের চিঠিতে বলা হয়, ‘উল্লিখিত আসামিগণ যাতে বিদেশে পালিয়ে যেতে না পারেন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিনীত অনুরোধ করা হলো। বিষয়টি অতীব জরুরি।’
২ ঘণ্টা আগে