Ajker Patrika

দেশ ছাড়ার বিষয়ে যা বললেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০: ৫৪
দেশ ছাড়ার বিষয়ে যা বললেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। ফাইল ছবি

দেশ ছাড়ার বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। গতকাল শনিবার দিবাগত রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি দাবি করেছেন, কর্মস্থল থেকে ‘যথাযথভাবে’ বিদায় নিয়েই তিনি ঢাকা ছেড়েছেন।

গত শুক্রবার সকালে এমিরেটস এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে জার্মানির উদ্দেশে রওনা হন তৈয়্যব। এরপর তাঁর দেশ ছাড়ার বিষয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর আসতে থাকে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ফয়েজ আহমদ ফেসবুকে লেখেন, ‘ফেব্রুয়ারির ৮, ৯, ১০ তারিখে আনুষ্ঠানিক বিদায় নিয়েছি আইসিটি, পিটিডি (পোস্ট ও টেলিকম বিভাগ) ও বিটিআরসি থেকে। এরপর নির্বাচনের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছি। প্রযুক্তিনির্ভর নির্বাচনী আয়োজনে আমার কিছু কন্ট্রিবিউশন ছিল। কলিগদের থেকেও ঠিকঠাক বিদায় নিয়েছি।’

ফয়েজ আহমদ বলেন, ‘১০ ফেব্রুয়ারি অফিশিয়ালি শেষ কর্মদিবস ছিল। সেদিন কর্মকর্তা-কর্মচারী সবার সঙ্গে একসঙ্গে ফেয়ারওয়েল ডিনার করেছি। গান গেয়ে বিদায় দিয়েছেন আমার সহকর্মীরা, ওয়ালে পাবেন।’

ফয়েজ আহমদ লিখেছেন, ‘একজন আত্মমর্যাদাসম্পন্ন এবং সৎ ব্যক্তিকে দুটো অসম্মানজনক কটুকথা শোনানোর আগে তথ্য যাচাই-বাছাই করে নেবেন, চাওয়াটা খুব বেশি বড় না। বিদায়ের সময় এক সহকর্মী জিজ্ঞেস করেছিল, পরে কী করবেন? বলেছি, একটা চাকরি খুঁজতে হবে দ্রুত। দেশের জন্য কাজ করতে এসে ফাইন্যান্সিয়ালি অনেক লোকসান হয়েছে। সেভিংস যা ছিল সব শেষ হয়েছে।’

দেশ ছাড়ার কারণ হিসেবে ফয়েজ বলছেন, ‘ছেলের স্কুলে প্যারেন্টস মিটিং আছে প্লাস স্ত্রীর মেডিকেল ইমার্জেন্সি আছে। ছুটি চেয়ে যথাযথভাবেই পরিবারের কাছে যাচ্ছি। একটা দীর্ঘ সময় সন্তান ও পরিবারকে সময় দিতে পারিনি, পরিবারকে কিছুটা সময় দিতে হবে। প্লাস আজকে ভ্যালেন্টাইন ডে।’

ছুটিতে বই পড়বেন বলে জানান ফয়েজ আহমদ। তিনি বলেন, ‘অনেকগুলো বই উপহার পেয়েছি, বইগুলো সঙ্গে নিয়ে এসেছি। দীর্ঘ ক্লান্তির পরে একটু লম্বা বিশ্রাম প্রয়োজন। স্লিপিং সাইকেল ডিসরাপ্ট হওয়ায় বিগত এক বছর নিয়মিত ঘুমাতে পারিনি। বিশ্রামের পাশাপাশি উপহার পাওয়া বইগুলো পড়ব। পত্রিকার কলাম নিয়মিত পড়তাম, বিগত সময়ে আমার সহলেখকেরা যেসব মৌলিক লেখা লিখেছেন সেগুলোও পড়তে হবে।’

কোনো দুর্নীতি করেননি দাবি করে ফয়েজ লিখেছেন, ‘আমি অল্প সময়ে জীবনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি, এটুকু বলতে পারি। একটা শীর্ষ দুর্নীতিগ্রস্ত মন্ত্রণালয়ে নতুন ব্যবস্থাপনা, নতুন প্রযুক্তি এবং স্বচ্ছতা এনেছি। সবগুলা পুরানা আইন ও পলিসি পরিবর্তন করতে পাগলের মতো খেটেছি। এগুলো প্রায় ৫ বছরের কাজ। বিশ্বাস না হলে কোনো পেশাদার গবেষণা সংস্থা এবং অডিট ফার্ম দিয়ে যাচাই-বাছাই করে নিয়েন। আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বলতে পারি, আমি ১ টাকাও দুর্নীতি করিনি। আমি বাই ভার্চু সৎ লোক। টাকা মারছি এটা নিতে পারি না। মোবাইল ব্যবসায়ীরা, টেলিকম মাফিয়ারা আমার বিরুদ্ধে কুৎসা করেছে। আমি তাদের কাছে মাথা নত করিনি।’

দ্রুত একটা চাকরি খুঁজবেন বলে জানান ফয়েজ আহমদ। তিনি বলেন, ‘দ্রুত একটা চাকরি খুঁজব। আমার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাব। আমার স্ত্রী-সন্তানকে ডিপ্রাইভ করে, নিরাপদ জীবন ফেলে দেশে এসেছি, কিছু মানুষ আমাকে যে যেভাবে পেরেছে অপমান, অপদস্থ করতে কাজ করেছে। মাঝে মাঝে মনে হয়, এই দেশের উল্লেখযোগ্য মানুষ সৎ লোক এবং নলেজ ড্রিভেন লিডারশিপ ডিজার্ভ করে না। এই কষ্ট আমাকে তীব্রভাবে আঘাত করেছে। আমি সাধারণ মানুষ, সাধারণ পানাহার করি, সাধারণ চলাফেরা করি। নিজের কাছে সৎ ও স্বচ্ছ আছি।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত