
কক্সবাজারের পর্যটন ও সার্বিক শৃঙ্খলা রক্ষায় স্থানীয় জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, অন্য কোনো দেশের অনুকরণে নয়, বরং নিজস্ব সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ একটি ‘বেটার বাংলাদেশ’ বা আরও উন্নত ও বাসযোগ্য রাষ্ট্রে পরিণত হবে।
গতকাল শনিবার রাতে কক্সবাজারের একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এই মন্তব্য করেন। সাড়ে চার মাস আগে দেশে ফেরার পর বিভিন্ন এলাকা সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বিগত ১৭ বছরে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন না হওয়া নিয়ে খেদ প্রকাশ করেন সরকারপ্রধান।
বিগত সরকারের বিভিন্ন প্রতিশ্রুতির প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা প্রায়ই শুনতাম—বাংলাদেশকে আমরা সিঙ্গাপুর বানিয়ে ফেলব, বাংলাদেশকে আমরা কানাডা বানিয়ে ফেলব, বাংলাদেশকে অমুক বানিয়ে ফেলব। আমি বাংলাদেশকে অন্য কিছু বানাতে চাই না। বাংলাদেশকে আমি একটু বেটার (আরও ভালো) বানাতে চাই।’
প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, দেশের এই ইতিবাচক পরিবর্তন শুধু সরকারের একার পক্ষে আনা সম্ভব নয়। এর জন্য দল-মতনির্বিশেষে দেশের সব স্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
বিশ্বের দীর্ঘতম বালুকাময় সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারকে বিশ্বের দরবারে সঠিকভাবে উপস্থাপন করার জন্য স্থানীয় প্রতিনিধিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। শহরে প্রবেশের মুখে ‘বিশ্বের দীর্ঘতম সি বিচ, স্যান্ডি সি বিচ’ লেখা সাইনবোর্ডের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘আপনারা সকলে মিলে কক্সবাজারের প্রতিনিধিত্ব করছেন। এই কক্সবাজারকে পরিচ্ছন্ন একটি নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে আপনাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’
পর্যটন নগরীর ট্রাফিক ব্যবস্থা ও নাগরিক নিরাপত্তার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কক্সবাজারকে আপনারা সুশৃঙ্খল একটি শহর হিসেবে গড়ে তুলতে পারেন, যেখানে সবগুলো যান শৃঙ্খলার মধ্যে থাকবে, সুন্দরভাবে পার্কিং করবে, ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলাচল করবে এবং মানুষ হাঁটার সময় নিরাপদ বোধ করবে।’
গত সাড়ে চার মাসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তারেক রহমান বিগত দীর্ঘ সময়জুড়ে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন না হওয়ার কারণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ‘দেশে ফেরার পর গত সাড়ে চার মাসে আমি দেশের বিভিন্ন জায়গায় গিয়েছি। আমার কাছে মনে হয়েছে, যে কাজগুলোর কথা বলা হচ্ছে, এই কাজগুলো গত ১৭ বছরে হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু তা হয়নি।’
জমে থাকা প্রচুর কাজ সম্পন্ন করে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের সামগ্রিক পরিবর্তনের জন্য বর্তমান সরকারকে অনেকগুলো চ্যালেঞ্জিং কাজ হাতে নিতে হচ্ছে।’
কক্সবাজারের সার্বিক উন্নয়নকে গতিশীল করতে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি আশ্বাস দেন, কক্সবাজার বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তর করার কাজ দ্রুত শেষ করা হবে। এ ছাড়া পর্যটন ও সামুদ্রিক সম্পদের যথাযথ ব্যবহারের উদ্দেশ্যে কক্সবাজারে একটি মেরিন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সরকারের শীর্ষ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মো. হেলাল, বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সহধর্মিণী হাসিনা আহমদ উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশ শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই গাড়ি চালিয়ে কক্সবাজারের দৃষ্টিনন্দন মেরিন ড্রাইভ সড়ক ঘুরে দেখেন। এরপর রাত সোয়া ১২টার দিকে এক বিশেষ বিমানে তিনি ঢাকার উদ্দেশে কক্সবাজার ত্যাগ করেন।

ভারতের অনুমোদন না পাওয়ায় আগামীকাল সোমবার, অর্থাৎ ১৫ জুন থেকে বাংলাদেশে মাত্র ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি করবে নেপাল। অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানির পরিকল্পনা থাকলেও ভারতের সেন্ট্রাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটি (সিইএ) এখন পর্যন্ত সেই অনুমোদন দেয়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট জ্বালানি কর্মকর্তারা।
১ ঘণ্টা আগে
সড়ক-সেতুতে ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) পদ্ধতিতে টোল দিতে অপরিহার্য আরএফআইডি ট্যাগ ৭০ শতাংশ গাড়ির ক্ষেত্রেই কাজ করছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। ইটিসি ব্যবস্থা চালু করা সংস্থাগুলো এ দাবি করেছে।
১০ ঘণ্টা আগে
এক ব্যতিক্রমী সফরে পর্যটন নগরী কক্সবাজার ঘুরে এলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী শনিবার সন্ধ্যায় তাঁর ঢাকায় ফেরার কথা থাকলেও, সব হিসাব-নিকাশ ওলটপালট করে গভীর রাত পর্যন্ত কক্সবাজারেই অবস্থান করেন তিনি।
১১ ঘণ্টা আগে
পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) কর্তৃক দীর্ঘদিন ধরে চলমান বৈষম্য ও বঞ্চনার প্রতিবাদে দৈনিক এক ঘণ্টা অতিরিক্ত কাজ করার কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। একই সঙ্গে সরকারের জ্বালানি সাশ্রয় কর্মসূচির প্রতি সংহতি এবং গ্রাহকসেবা ও রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধির লক্ষ্যেও এই উদ্যোগ...
১৫ ঘণ্টা আগে