Ajker Patrika

রাজনৈতিক সমর্থন দেখাতে হবে ব্যালট বাক্সে, সরকারি অফিসে নয়: নবীন কর্মকর্তাদের প্রধানমন্ত্রী

বাসস
আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৩: ১৬
রাজনৈতিক সমর্থন দেখাতে হবে ব্যালট বাক্সে, সরকারি অফিসে নয়: নবীন কর্মকর্তাদের প্রধানমন্ত্রী
বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মিলনায়তনে ৮১তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: পিএমও

প্রশাসনে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত সমর্থন থাকাটা দোষের নয়। তবে সেই সমর্থনের প্রতিফলন ঘটতে হবে ব্যালট বাক্সে, সরকারি অফিসে নয়।

আজ রোববার সন্ধ্যায় সাভারে বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) মিলনায়তনে ৮১তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

নবীন বিসিএস কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে। জনগণ নির্বাচনে ভোট দিয়ে যে ইশতেহারের পক্ষে রায় দিয়েছেন, সেটি এখন জনগণের ইশতেহার ও জনগণের দলিল। সেই ইশতেহার বাস্তবায়নে প্রশাসনিক দায়িত্ব আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে আপনাদের কাছে জনগণ শুধু আদেশ-নির্দেশ নয়, মানবিকতাও আশা করে। সরকারি সেবা নিতে গিয়ে কোনো নাগরিক যেন হয়রানির শিকার না হন, তা কর্মকর্তাদের নিশ্চিত করতে হবে।

তারেক রহমান বলেন, একটি সরকারের সার্বিক সফলতার জন্য দক্ষতা, সততা ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন প্রশাসন অত্যন্ত জরুরি। এ ধরনের বৈশিষ্ট্য শুধু একজন কর্মকর্তাকেই সমৃদ্ধ করে না, রাষ্ট্র ও সরকারকেও সমৃদ্ধ করে।

নবীন কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একাডেমিক জ্ঞান অর্জনের পর ব্যবহারিক জীবনে সেই জ্ঞান প্রয়োগের কলাকৌশল প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিখেছেন। এখন সরকারি প্রশাসনে যে যার ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞানের প্রতিফলন ঘটাতে হবে।

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের বিভিন্ন ক্যাডারে কর্মস্থল ও কাজের ধরন ভিন্ন হতে পারে, তবে তাঁদের সবার প্রথম ও প্রধান পরিচয় তাঁরা জনপ্রশাসনের কর্মকর্তা। তাঁদের মূল দায়িত্ব জনগণের সেবা করা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে কী করা উচিত আর কী করা উচিত নয়, তা কর্মকর্তারা নিজেরাই ভালো জানেন। তবে জানা বিষয়গুলো কর্মক্ষেত্রে বাস্তবায়নের সদিচ্ছাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

নির্মোহভাবে নাগরিক সেবায় নিজেদের আত্মনিয়োগ করতে হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জীবনের প্রয়োজনে প্রত্যেকেরই কখনো না কখনো অন্যের সহযোগিতার প্রয়োজন হয়। নিজেরা অন্যের কাছ থেকে যে ধরনের ব্যবহার প্রত্যাশা করেন, সেবা নিতে আসা নাগরিকদের সঙ্গেও ঠিক তেমন আচরণ করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী উদাহরণ দিয়ে বলেন, কোনো নাগরিকের আবেদনপত্রে ভুল থাকলে শুধু ভুলের কথা জানিয়ে তাঁকে ফিরিয়ে না দিয়ে সুনির্দিষ্টভাবে ভুলটি দেখিয়ে দেওয়া এবং কোথায় গিয়ে তা সংশোধন করতে হবে, সে বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া উচিত। এটিই মানবিকতা ও আন্তরিকতার বহিঃপ্রকাশ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রশাসনের কর্মকর্তাদের অবশ্যই বিধিবদ্ধ নিয়ম ও আইনের আওতায় দায়িত্ব পালন করতে হবে। তবে দায়িত্ব পালনের সময় নাগরিকের সঙ্গে মানবিক আচরণ করা হচ্ছে কি না, সেটিও আধুনিক রাষ্ট্র ও প্রশাসনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

কর্মকর্তাদের পছন্দের পদে পদায়ন কিংবা পদোন্নতির জন্য পেশাগত দক্ষতা ও সততার সঙ্গে আপস না করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের যেকোনো স্থানে জনপ্রশাসনের যেকোনো পদে দায়িত্ব পালনের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকাই চূড়ান্ত পেশাদারত্বের পরিচয়। একটি সরকার যেমন চিরস্থায়ী নয়, জনপ্রশাসনের কোনো পদও কারও জন্য চিরস্থায়ী নয়।

প্রশাসনে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার ওপর গুরুত্বারোপ করে তারেক রহমান বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত সমর্থন থাকাটা দোষের নয়। তবে সেই সমর্থনের প্রতিফলন ঘটতে হবে ব্যালট বাক্সে, সরকারি অফিসে নয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রশাসনে দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে সরকারি সেবা সহজ ও নাগরিকবান্ধব করার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক উদ্যোগের পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ইতিবাচক মানসিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে নবীন কর্মকর্তাদের কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতার বিষয়েও নবীন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঘরবাড়ি, অফিস-আদালতসহ চারপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও দেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে চার মাসব্যাপী ৮১তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের মধ্যে শীর্ষ ১০ জনের হাতে সনদ তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রসাশনবিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী প্রমুখ।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত