Ajker Patrika

ভোটের যাত্রায় ঈদের আমেজ

  • ভোটের দুই দিন ছুটির সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি যোগ হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি পাঁচ দিন।
  • ময়মনসিংহ ও উত্তরাঞ্চলে যাত্রায় দীর্ঘ যানজট। বাস কম, পিকআপ-ট্রাকে করে ফিরছে মানুষ।
  • সব রুটেই বাসে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ, প্রতিবাদে সাভারে মহাসড়ক অবরোধ।
বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা
ভোটের যাত্রায় ঈদের আমেজ
কমলাপুর রেলস্টেশনে গতকাল ঘরমুখী মানুষের উপচে পড়া ভিড়। ট্রেনের ভেতরে স্থান না হওয়ায় অনেকে চড়েন ছাদে। আজকের পত্রিকা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ভোটাধিকার প্রয়োগে রাজধানী ঢাকা ছাড়ছেন লাখো মানুষ। রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল ও লঞ্চঘাটে যাত্রীদের চাপ বেড়েছে কয়েক গুণ। কোথাও বাসের সংকট, কোথাও ট্রেনের ছাদে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা—সব মিলিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। এ ছাড়া মহাসড়কে যাত্রাপথে ছিল যানজটও। এ ছাড়া অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধের ঘটনাও ঘটল গতকাল।

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি ছুটি ঘোষণা করা হয়। এরপর ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি। চার দিনের সরকারি ছুটির সঙ্গে ১৫ ফেব্রুয়ারি শ্রীশ্রী শিবরাত্রি ব্রতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। ফলে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আজ থেকে টানা পাঁচ দিনের ছুটি থাকছে।

গতকাল ১০ ফেব্রুয়ারি শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের জন্য সাধারণ ছুটি ছিল। সব মিলিয়ে কেউ পেয়েছেন চার দিন, কেউ পেয়েছেন পাঁচ দিন ছুটি। এতে ঈদের মতো ঘরমুখী মানুষের ঢল নেমেছে।

গতকাল মঙ্গলবার অফিস ছুটির পর রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ও টার্মিনালে ঘরমুখী মানুষের ভিড় আরও বেড়ে যায়। রেলওয়ে সূত্র জানায়, সোমবার সন্ধ্যার পর থেকেই কমলাপুর, বিমানবন্দর ও গাজীপুর রেলস্টেশনে যাত্রীদের ভিড় বেড়েছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলগামী ট্রেনগুলোতে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ দেখা গেছে।

কমলাপুর রেলস্টেশনের স্টেশন ম্যানেজার মো. শাহাদাত হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, সোমবার থেকেই যাত্রীর চাপ বেড়েছে। রেলওয়ের পক্ষ থেকে ট্রেনের ছাদে যাত্রী ওঠার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। তবে অনেক যাত্রী বিভিন্নভাবে ছাদে ওঠার চেষ্টা করছেন।

উত্তরের যাত্রায় ভোগান্তি

সড়কপথেও যাত্রীদের চাপ বেড়েছে, বেড়েছে যানজটও। গতকাল সকালে একযোগে রওনা হওয়ায় গাজীপুরের ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। কালিয়াকৈরের চন্দ্রা মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় ঘণ্টায় পর ঘণ্টা আটকে থেকে দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা। গাজীপুর ট্রাফিক পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার বিকেলে বিভিন্ন পোশাক কারখানা ছুটি হলে রাতে কালিয়াকৈরের চন্দ্রা থেকে বাড়ইপাড়া পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। গতকাল সকালে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও যাত্রীদের চাপ কমেনি বরং বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ে যানজট। মাওনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, হঠাৎ করে একসঙ্গে সব কলকারখানা ছুটি হওয়ার কারণে মহাসড়কে যাত্রীদের চাপ বেড়েছে।

এদিকে সাভারের আশুলিয়ায় যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত বাস ভাড়া আদায়ের অভিযোগে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়ক অবরোধ করেন শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক ও ঘরমুখী যাত্রীরা। গতকাল সকালে গুরুত্বপূর্ণ এ মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ। গতকাল সকাল ৮টা দিকে তাঁরা সড়ক অবরোধ করেন। পরে সকাল ১০টার দিকে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।

সকালের গাজীপুরের পর যানবাহনের চাপ দুপুরে বাড়ে টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জ অংশে। গতকাল দুপুরের দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকায় যানজট সৃষ্টি হয়। হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুপুর থেকে মহাসড়কের এলেঙ্গা থেকে সদর উপজেলার শিবপুর পর্যন্ত উত্তরবঙ্গগামী লেনে এ যানজট সৃষ্টি হলে ভোগান্তিতে পড়েন ঘরমুখী মানুষেরা।

এদিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে গত সোমবার ছিল তীব্র যানজট। এ দিন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে প্রায় ১০ কিলোমিটার যানজট সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জ এবং চট্টগ্রামের আনোয়ারা, কর্ণফুলীসহ বিভিন্ন এলাকায় যাত্রীদের কাছ থেকে দ্বিগুণ-তিন গুণ ভাড়া আদায়ের অভিযোগ ওঠে। গণপরিবহন সংকটের সুযোগ নিয়ে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ যাত্রীদের।

গতকাল ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে গতকাল বাসের চেয়ে ট্রাকের যাতায়াত ছিল বেশ। এসব বাহনের করেই বাড়ি ফিরতে দেখা যায় অনেককে। এ ছাড়া মুন্সিগঞ্জের পদ্মা সেতুর টোল প্লাজায় মোটরসাইকেলের চাপও বেড়ে যায়। পদ্মা সেতুর সাইডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সাদ জানান, সেতুর টোল প্লাজায় মূলত মোটরসাইকেলের চাপ বেশি থাকে। দুপুরের দিকে চাপ বাড়ে, বিকেলের দিকে তা কমে আসে।

পরিবহন মালিক সমিতি সূত্র জানিয়েছে, বাস রিকুইজিশনের কারণে সড়কে যানবাহনের সংখ্যা কম থাকায় অনেক যাত্রী সময়মতো বাস পাচ্ছেন না।

ফাঁকা হচ্ছে ঢাকা

ভোট দিতে মানুষ ঢাকা ছাড়ায় গতকাল দুপুরের পর থেকেই রাজধানীর সড়কগুলো অনেকটাই ফাঁকা হয়ে গেছে। যানজট না থাকায় স্বস্তিতে চলাচল করছেন পথচারী ও অফিসগামীরা। তবে গণপরিবহন সংকটের কারণে অনেককে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ঈদের মতো মানুষ বাড়ি ফিরছে ভোট দিতে। তবে পরিবহন ব্যবস্থাপনা দুর্বল হওয়ায় ভোগান্তি বাড়ছে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও রয়েছে।

প্রসঙ্গত, গতকাল রাত ১২টা থেকে মোটরসাইকেল চলাচলে এবং বুধবার রাত ১২টা থেকে সব ধরনের যান চলাচলে বিধিনিষেধ জারি করেছে নির্বাচন কমিশন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত