Ajker Patrika

ড. ইউনূস লন্ডনে গিয়ে ক্যাপ্টেনকে ট্রফি দিয়ে নির্বাচনের তারিখ এনেছেন: সংসদে প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৬: ৫০
ড. ইউনূস লন্ডনে গিয়ে ক্যাপ্টেনকে ট্রফি দিয়ে নির্বাচনের তারিখ এনেছেন: সংসদে প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম
মীর শাহে আলম। ছবি: সংগৃহীত

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস লন্ডনে গিয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের ট্রফি দিয়ে নির্বাচনের তারিখ নিয়ে এসেছেন বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এ কথা বলেন তিনি।

তিনটি আন্দোলনের ট্রফি বিএনপির ঘরে বলে দাবি করে মীর শাহে আলম বলেন, ‘১৯৭১, ১৯৯০ ও জুলাই-আগস্ট—তিনটি আন্দোলনের ট্রফিই আমাদের ঘরে। এ রকম ট্রফি শুধু বিএনপির ঘরে, অন্য কোনো রাজনৈতিক দল দেখাতে পারবে না। আওয়ামী লীগ ৭১ ও ৯০ বলতে পারবে, কিন্তু জুলাই-আগস্টের ট্রফি তাদের ঘরে নাই। বিরোধী দলের বন্ধুরা জুলাই-আগস্ট বলতে পারবে, কিন্তু ৭১ ও ৯০ বলতে পারবে না।’

এ সময় বিরোধীদলীয় নেতারা হইচই করেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিরোধী দলের এমপিরা হইচই করতে পারেন। তাঁরা নব্বইয়ের কথা বলতে পারেন। ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে ঢাকঢোল পিটিয়ে তাঁরাই আওয়ামী লীগের নির্বাচনে গিয়েছিলেন, আমরা যাইনি।’

মীর শাহে আলম বলেন, এনসিপির এক নেতা বাইরে বলেছিলেন, জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতা খেলেছে আর ট্রফি বিএনপি নিয়েছে।

এ সময় বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা হইচই করলে স্পিকার বলেন, ‘মাননীয় সংসদ সদস্যরা, বক্তাকে কোনো বাধা দেবেন না। আপনারাও আপনাদের বক্তব্য উপস্থাপন করতে পারেন।’

পরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে ছাত্র-জনতার সঙ্গে আমরা সবাই ছিলাম। ট্রফি আমরা কারও কাছে নিতে যাইনি। ক্যাপ্টেন কে? সেটা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস চিনেন। এ কারণে উনি লন্ডনে গিয়ে আমাদের ক্যাপ্টেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে ট্রফি দিয়ে নির্বাচনের তারিখ নিয়ে এসেছেন। এতে প্রমাণিত হয়—ছাত্র-জনতার আন্দোলনের নেতৃত্বে মূল ভূমিকা কোন দলের ছিল, কোন নেতার ছিল; আমরা সবাই আন্দোলন করেছি, এটা অস্বীকার করার সুযোগ নাই। কিন্তু ক্যাপ্টেন একজনই থাকেন, সে ক্যাপ্টেনের কাছে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান লন্ডনে গিয়ে আলোচনা করে নির্বাচনের তারিখ নিয়ে আসছেন বলেই এ দেশে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে।’

জাতীয় সংসদের স্পিকার বীর মুক্তিযোদ্ধা হাফিজ উদ্দিন আহমদের উদ্দেশে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাকে দেখলে এখানে অনেকের ভালো লাগবে, কারও কারও ভালো লাগবে না। কিন্তু আপনি ১৯৭১ সালকে প্রতিনিধিত্ব করছেন। এই ক্রেডিট বিএনপির, কারণ, স্বাধীনতার ঘোষক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান।’

সরকারি দলের বেঞ্চে অনেক মুক্তিযোদ্ধা উল্লেখ করে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এটি বিরোধী দলের বেঞ্চের মধ্যে খুঁজে পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এ সময় বিরোধী দলের সদস্যরা হইচই করেন। তখন স্পিকার বলেন, ‘বিরোধী দলের বেঞ্চেও মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন। আমি নিজেও দেখেছি, গাজী নজরুল ইসলাম (সাতক্ষীরা-৩) একজন মুক্তিযোদ্ধা।’

বিরোধী দলের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া বিরোধী দলের (২০০১ সালের সরকার) এমপিদের গাড়িতে পতাকা দিয়ে দায়মুক্তি দিয়ে সরকারের অংশ করে জাতির কাছে সম্মানিত করেছেন। সে কথা তো একবারও বলেন না! আপনাদের শহীদ মিনারে নিয়ে যাওয়ার সংস্কৃতি বেগম খালেদা জিয়া. . ।’

সবার আন্দোলনের ফসল বর্তমান সংসদ উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরাও আন্দোলন করেছি, আপনারাও আন্দোলন করেছেন। কিন্তু ২০১৪ সালের পরে আপনাদের আর খুঁজে পাইনি। দীর্ঘদিন যাবত আমরা চারদলীয় জোট, ২০ দলীয় জোট একসঙ্গে ছিলাম। একে অপরকে কিন্তু বহুভাবে চিনি। একই মিটিংয়ে বসে আন্দোলন, লড়াই করেছি, সমাবেশ করেছি। কিন্তু কোনো এক অজানা কারণে আপনারা গুপ্ত হয়ে জুলাই-আগস্টের পরে প্রকাশ্য এসে জাতির সামনে বারবার জুলাই-আগস্টকে ধারণ করে ভুল বোঝাতে চাচ্ছেন। আপনারা জুলাই-আগস্টকে এমনভাবে ধারণ করতে চান, মনে হয়, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ হয়নি, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন হয়নি। যদিও ২০১৮ সালের নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে বর্তমান বিরোধী দলের নেতা শফিকুর রহমানসহ জামায়াতের নেতারা বিএনপির মনোনয়নে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেছিল।’

সরকার পরিচালনায় বিরোধী দলের সহযোগিতা চেয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে দেশকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যেতে চাই, যাতে মানুষ মনে করে, একসময়কার জোটবদ্ধ বিএনপি-জামায়াত যদিও আজকে আলাদা আলাদা, কিন্তু তারা আবার ভেতরে ভেতরে এক হয়ে দেশকে ভালো জায়গায়, সুন্দর জায়গায় নিয়ে গেছে।’

প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য শেষে ফ্লোর নেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রথম দিনই অঙ্গীকার করেছি যে, এ বিরোধী দল গতানুগতিক বিরোধী দল হবে না। ন্যায়সংগত সব কাজে সহযোগিতা এবং অন্যায়-জনঅধিকার হরণকারী সব পদক্ষেপে কণ্ঠ থাকবে আপসহীন।’

শফিকুর রহমান বলেন, ‘আজকে মাননীয় সংসদ সদস্য রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানাতে গিয়ে আমাদের জেরবার করে ফেলেছেন। অসংখ্য অসত্য তথ্য এখানে এসেছে। দু-একটার প্রতিবাদ আপনি (স্পিকার) নিজেও করেছেন। আমাদের দাবি, অসত্য কোনো তথ্য যাতে সংসদে কেউ পরিবেশন না করেন।’ ‘অসত্য তথ্য’ এক্সপাঞ্জ করার দাবি জানান বিরোধীদলীয় নেতা।

পরে স্পিকার বলেন, ‘আমি বক্তব্য পরীক্ষা করে দেখব। সেখানে কোনো অসংসদীয় ও অসত্য তথ্য থাকলে এক্সপাঞ্জ করা হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী গ্রেপ্তার, নেওয়া হয়েছে ডিবি কার্যালয়ে

ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, যুদ্ধ বন্ধে ইরানের পাল্টা ১০ দফা

খাবারের জন্য রক্ত বিক্রি করা এই বিলিয়নিয়ারের জীবনের ৬ শিক্ষা

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে বিচারকেরা ঐক্যবদ্ধ: বিবৃতি

অচেতন মোজতবার চিকিৎসা চলছে ইরানেই, জড়িত নেই সিদ্ধান্ত গ্রহণে—টাইমসের প্রতিবেদন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত