Ajker Patrika

মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থা ও মমতার বক্তব্য নিয়ে সংসদে আলোচনা

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ২৩ জুন ২০২৬, ১৭: ৫১
মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থা ও মমতার বক্তব্য নিয়ে সংসদে আলোচনা
ফাইল ছবি

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থার সর্বশেষ তথ্য এবং ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির হত্যা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে জাতীয় সংসদে আলোচনা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার পয়েন্ট অব অর্ডারে পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ এসব বিষয় উত্থাপন করেন। এ সময় তিনি ঋণখেলাপি মামলায় জড়িত দুই সরকারদলীয় সংসদ সদস্যের অবস্থান এবং সাম্প্রতিক বিভিন্ন গুজব নিয়েও বক্তব্য দেন।

শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, আগের দিন সরকারদলীয় চিফ হুইপ বাজেট অধিবেশনকে প্রাণবন্ত করতে সদস্যদের নিয়মিত উপস্থিতি ও মনোযোগী অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছিলেন। সেই প্রেক্ষাপটে তিনি কয়েকটি বিষয় সংসদের নজরে আনতে চান। তিনি বলেন, ‘আমরা শুরু থেকেই তার জন্য প্রাণ খুলে দোয়া করি। আমাদের বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ এবং এই সংসদের একজন বিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ান মির্জা আব্বাসের শারীরিক সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে এই পার্লামেন্ট এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানতে পেরেছে বলে আমার মনে পড়ে না।’

মির্জা আব্বাসের শপথ গ্রহণ এবং সংসদে যোগদানের সম্ভাবনা নিয়েও জানতে চান তিনি। একই সঙ্গে ঋণখেলাপি সংক্রান্ত মামলায় জড়িত দুই সরকারদলীয় সংসদ সদস্যের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কেও প্রশ্ন তোলেন শফিকুল ইসলাম মাসুদ। তিনি বলেন, মামলাগুলো চলমান থাকলেও তাঁরা সংসদীয় কার্যক্রমে অংশ নিতে পারছেন কি না, সে বিষয়ে সংসদ সদস্যদের অবহিত করা প্রয়োজন।

বক্তব্যে ইনকিলাব মঞ্চে আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যার প্রসঙ্গও তোলেন তিনি। এ ঘটনাকে ঘিরে বিভিন্ন গুজব ছড়ানোর কথা উল্লেখ করে বলেন, এসব বিষয়ে বিভ্রান্তি দূর করতে সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা আসা দরকার।

শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, ওসমান হাদিকে ঘিরে যে গুজবের ডালপালা ছড়িয়েছে, তাতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তিনি বলেন, সেই গুজবে আগুনে ঘি ঢেলেছে সর্বশেষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যে বক্তব্য ছিল, ‘‘আমি যদি নাম বলে দিই তাহলে বাংলাদেশে এটা নিয়ে উতাল-পাতাল হবে।’’ মাসুদ বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষ থেকেও সংসদকে ব্রিফ করা প্রয়োজন।

এ সময় সরকারদলীয় চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম দাঁড়িয়ে বলেন, মির্জা আব্বাসের বিষয়ে স্পিকার তথ্য দিতে পারেন। তবে ঋণখেলাপি দুই সংসদ সদস্যের বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। তিনি বলেন, ‘এটা সাবজুডিস ম্যাটার। কোর্ট সিদ্ধান্ত দিলেই কেবল সিদ্ধান্ত হবে। এর আগে এ বিষয়ে কিছু বলার সুযোগ নেই।’ পয়েন্ট অব অর্ডারের নামে অপ্রাসঙ্গিক বিষয় তুলে সংসদের সময় নষ্ট না করারও আহ্বান জানান চিফ হুইপ।

এরপর স্পিকার বলেন, ‘আমি বলতে যাওয়ার আগেই আপনি বলে ফেলেছেন।’ মির্জা আব্বাসের বিষয়ে তিনি জানান, ‘মির্জা আব্বাস আমাদের চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন, তাঁর অবস্থা ক্রমাগত ভালো হচ্ছে। যথাসময়ে সুস্থ হলে তিনি এখানে আসবেন।’

ঋণখেলাপি দুই সংসদ সদস্যের বিষয়ে স্পিকার বলেন, বিষয়গুলো আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার পর সংসদকে তা জানানো হবে। তিনি বলেন, ‘কোনো সংসদ সদস্য যদি সদস্যপদ চলে যায়, যথাসময়ে সংসদ থেকে সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হবে।

স্পিকার বলেন, ‘গুজব কে কী বলেছে, কার সম্পর্কে কী গুজব, এগুলো নিয়ে জাতীয় সংসদ সময় নষ্ট করতে পারে না।’

পয়েন্ট অব অর্ডারে চলমান ও প্রাসঙ্গিক বিষয় উত্থাপনের আহ্বান জানিয়ে স্পিকার বলেন, ‘পয়েন্ট অব অর্ডার বলার সময় আপনারা চলমান বিষয়ের ওপরে কিছু বলবেন। অযথা সংসদের সময় নষ্ট হয় এমন কিছু উত্থাপন তুলবেন না।’ তিনি বলেন, ‘গুজব কখনো জাতীয় সংসদের বিবেচ্য বিষয় নয়।’ আদালতে বিচারাধীন বিষয়গুলোর ক্ষেত্রেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার আহ্বান জানান স্পিকার।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত