Ajker Patrika

অব্যবহৃত জলাশয়ে মাছ চাষে তরুণদের সহায়তা দেবে সরকার

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১৬: ৫২
অব্যবহৃত জলাশয়ে মাছ চাষে তরুণদের সহায়তা দেবে সরকার
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের জর্জ ইনস্টিটিউট মিনি স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: পিএমও

মৎস্য খাতকে আরও সমৃদ্ধ ও কর্মসংস্থানমুখী করতে দেশের অব্যবহৃত পুকুর, হাওর-বাঁওড় ও অন্যান্য জলাশয় সংস্কার করে তরুণদের মধ্যে বণ্টনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসব জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্ত করে স্থানীয় তরুণদের মাধ্যমে মাছ চাষের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

আজ রোববার দুপুরে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের জর্জ ইনস্টিটিউট মিনি স্টেডিয়ামে জাতীয় মৎস্য পক্ষের কেন্দ্রীয় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, নদীমাতৃক বাংলাদেশে পুকুর, হাওর-বাঁওড় ও অন্যান্য জলাশয় কাজে লাগিয়ে কিংবা অল্প জমিতে মাছ চাষের মাধ্যমে মানুষের স্বাবলম্বী হওয়ার বড় সুযোগ রয়েছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় অনেক জলাশয় পড়ে আছে। সরকার এসব জলাশয় সংস্কার করে সেখানে মাছের পোনা ছাড়ার উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘যে পুকুরগুলো, যে হাওর-বিলগুলো, জলাশয়গুলো যে এলাকায় হবে, সেই এলাকার তরুণ যাঁরা আছেন, তাঁদের মধ্যে সুন্দরভাবে আমরা এটা বণ্টন করতে চাই, যাতে করে তাঁদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়।’ এ বিষয়ে মৎস্য মন্ত্রণালয়ে এরই মধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মৎস্য খাত দেশের মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে। মাছ চাষ, আহরণ, পরিবহন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিক্রির সঙ্গে বহু মানুষ যুক্ত। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আয় বাড়াতেও এ খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানির প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিশ্বের ৫২টি দেশে মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ ছয় হাজার কোটি টাকার বেশি সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করেছে। এই অর্জনের কৃতিত্ব মৎস্য উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী ও চাষিদের।

তারেক রহমান বলেন, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার গত জুনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে মৎস্য ও জলজ প্রাণী উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বের পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে। আর অভ্যন্তরীণ জলাশয় থেকে মাছ আহরণে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে পারলে এ খাত থেকে আরও কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব।

প্রধানমন্ত্রী জানান, খুলনা অঞ্চলে ৩০০টি ক্লাস্টার গঠন করে ক্লাস্টারভিত্তিক চিংড়ি চাষ উন্নয়নের ফলে ৭ হাজার ৫০০ ঘেরে উৎপাদন গড়ে দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। পাশাপাশি কক্সবাজারের চকরিয়ায় সাত হাজার একর জমিতে চিংড়ি চাষ উন্নয়নে অবকাঠামো উন্নয়নসহ ‘শ্রিম সিটি মাস্টারপ্ল্যান’ প্রণয়ন করা হয়েছে।

ইলিশ উৎপাদন ও সংরক্ষণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইলিশ শুধু জাতীয় মাছ ও অর্থনৈতিক সম্পদ নয়, এটি বাংলাদেশের জিআই পণ্য হিসেবেও বিশ্বে স্বীকৃত। দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনে ইলিশের অবদান ১০ শতাংশ এবং জিডিপিতে এর অবদান ১ শতাংশের বেশি। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দেশের প্রায় দুই কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মৎস্য খাতের ওপর নির্ভরশীল। তাই এ খাতকে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন রাখতে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রথমবারের মতো সুন্দরবন ও হাওর অঞ্চলে মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধকালীন জেলেদের ভিজিএফের আওতায় আনা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি এবং বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এবং কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন বক্তব্য দেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত