Ajker Patrika

১৫ হাজার টাকায় ড্রাইভিং লাইসেন্স: ইকুরিয়া বিআরটিএতে দুদকের ফাঁদে ধরা আনসার সদস্য

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫: ৫৮
১৫ হাজার টাকায় ড্রাইভিং লাইসেন্স: ইকুরিয়া বিআরটিএতে দুদকের ফাঁদে ধরা আনসার সদস্য
বিআরটিএ’র ইকুরিয়া কার্যালয়ে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) অভিযান চালান দুদক কর্মকর্তারা। ছবি: সংগৃহীত

ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন, রুট পারমিট ও ফিটনেস সনদে হয়রানি ও ঘুষ দাবির অভিযোগে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কেরানীগঞ্জের ইকুরিয়া কার্যালয়ে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ছদ্মবেশে অভিযান চালিয়ে ১৫ হাজার টাকার বিনিময়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স করে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া এক আনসার সদস্যকে শনাক্ত করেন দুদক কর্মকর্তারা।

আজ মঙ্গলবার দুদকের সহকারী পরিচালক মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে এনফোর্সমেন্ট টিম ইকুরিয়া বিআরটিএ কার্যালয়ে অভিযান চালায়। এ সময় কর্মকর্তারা প্রায় এক ঘণ্টা ছদ্মবেশে কার্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। পরে সেবাপ্রার্থী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

অভিযানে অংশ নেওয়া দুদকের সহকারী পরিচালক তাপস ভট্টাচার্য বলেন, ইকুরিয়া বিআরটিএ কার্যালয়ে বিভিন্ন সেবায় দালালদের দৌরাত্ম্য এবং ঘুষের বিনিময়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিল। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে দুদকের কর্মকর্তারা ছদ্মবেশে কার্যালয়ে অবস্থান করেন।

তাপস ভট্টাচার্য বলেন, প্রায় এক ঘণ্টা ঘুরে দেখার পর একজন আনসার সদস্যকে শনাক্ত করা হয়। ওই সদস্য ১৫ হাজার টাকার বিনিময়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স করে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। এ জন্য বিকাশের মাধ্যমে লেনদেনের কথাও জানান তিনি। পরে ওই আনসার সদস্যকে বিআরটিএ’র উপপরিচালকের কার্যালয়ে নেওয়া হয়।

দুদকের এই কর্মকর্তা বলেন, সেখানে জিজ্ঞাসাবাদে ওই আনসার সদস্য অভিযোগের বিষয়ে সন্তোষজনক কোনো জবাব দিতে পারেননি। পরে তার মুঠোফোন ও বিকাশ লেনদেন যাচাই করা হয়। যাচাইয়ে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা আদায়ের চেষ্টা করা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা যায়। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

দুদক সূত্র জানায়, ইকুরিয়া কার্যালয়ে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ ড্রাইভিং লাইসেন্স-সংক্রান্ত সেবা নিয়ে। লাইসেন্সের আবেদন, কাগজপত্র যাচাই, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার বিভিন্ন ধাপে সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি করার অভিযোগ রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী যোগ্যতা পূরণ করেও অনেকে সহজে সেবা পাচ্ছেন না বলেও অভিযোগ এসেছে। এ ছাড়া পরীক্ষা গ্রহণে অনিয়ম এবং অর্থের বিনিময়ে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নিয়েও রয়েছে নানা অভিযোগ। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পর বিভিন্ন অজুহাতে কাজ বিলম্বিত করা, অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া এবং দ্রুত কাজ করে দেওয়ার বিনিময়ে অর্থ দাবি করার অভিযোগ রয়েছে। এসব কাজে বিআরটিএ কার্যালয়ের বাইরের দালালচক্রের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা-ও যাচাই করছে দুদক।

রুট পারমিট দেওয়ার ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ পেয়েছে দুদক। আবেদন করার পর নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সেবা না দিয়ে ফাইল আটকে রাখা এবং দ্রুত অনুমোদনের জন্য অতিরিক্ত অর্থ দাবি করার অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছেন কর্মকর্তারা।

অন্যদিকে যানবাহনের ফিটনেস সনদ দেওয়ার প্রক্রিয়াতেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। গাড়ির প্রকৃত অবস্থা যাচাই করে ফিটনেস সনদ দেওয়ার নিয়ম থাকলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে যথাযথ পরীক্ষা ছাড়াই সনদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ত্রুটিপূর্ণ বা ফিটনেসের উপযোগী নয়—এমন যানবাহনকে অর্থের বিনিময়ে ছাড় দেওয়া হয় কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

দুদকের কর্মকর্তারা বলছেন, বিআরটিএর বিভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে দালালদের মাধ্যমে কাজ করানোর সুযোগে সেবাপ্রার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এ ক্ষেত্রে কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কেউ জড়িত কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনা হবে।

দুদকের সহকারী পরিচালক তানজির আহমেদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন, রুট পারমিট ও ফিটনেস সনদ প্রদানে সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি ও ঘুষ দাবিসহ ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষা গ্রহণে অনিয়মের অভিযোগে অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযানে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই করে কমিশনে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।’

অভিযানকালে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও সেবা প্রদানের প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সংগৃহীত তথ্য যাচাই শেষে কমিশনে প্রতিবেদন দেওয়া হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত