Ajker Patrika

ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদে চাকরি, ত্রিমুখী তদন্তের মুখে বেবিচকের প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম

বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা
আপডেট : ০৫ জুন ২০২৬, ১৮: ১২
ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদে চাকরি, ত্রিমুখী তদন্তের মুখে বেবিচকের প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম
বেবিচকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সিভিল) মো. শরিফুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহার করে চাকরি ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে পদোন্নতির অভিযোগে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সিভিল) মো. শরিফুল ইসলাম এখন ত্রিমুখী তদন্তের মুখে পড়েছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে বেবিচক, গোয়েন্দা সংস্থা ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পৃথকভাবে তদন্ত শুরু করেছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শরিফুল ইসলামের চাকরির সময় জমা দেওয়া তাঁর বাবা মো. মোশাররফ হোসেনের মুক্তিযোদ্ধা সনদের সত্যতা যাচাই প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানেই একাধিক অসংগতি পাওয়া গেছে। গোপালগঞ্জ জেলার গেজেটভুক্ত ৬৪০ জন মুক্তিযোদ্ধার তালিকায়ও তাঁর বাবার নাম পাওয়া যায়নি বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

বেবিচকের সদস্য (প্রশাসন) অতিরিক্ত সচিব এস এম লাবলুর রহমান বলেন, ‘অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুতর। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মো. শরিফুল ইসলাম ২০০১ সালের ২৪ জানুয়ারি বেবিচকে যোগদান করেন। বর্তমানে তিনি সদর দপ্তরে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সিভিল) হিসেবে কর্মরত। অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁর বাবা মো. মোশাররফ হোসেনের মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহার করে তিনি মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি নেন। তবে সংশ্লিষ্ট সনদের বৈধতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, শরিফুল ইসলামের জমা দেওয়া ১৯৯৯ সালের ২৬ অক্টোবর ইস্যু করা একটি মুক্তিযোদ্ধা সনদে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের চেয়ারম্যান আহাদ চৌধুরীর স্বাক্ষর রয়েছে। কিন্তু এ ধরনের সনদে প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষর থাকার বিষয়টি অস্বাভাবিক বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। ফলে সনদের সত্যতা নিয়ে সন্দেহ আরও জোরালো হয়েছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমরা নথিপত্র যাচাই-বাছাই করছি। বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে তদন্ত এগোচ্ছে। শিগগির প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।’

শুধু চাকরি নয়, পদোন্নতি নিয়েও শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে রয়েছে নানা অভিযোগ। কক্সবাজার বিমানবন্দরের উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে করা মামলারও আসামি তিনি। অভিযোগ রয়েছে, গোয়েন্দা সংস্থার আপত্তি থাকা সত্ত্বেও ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে তিনি পদোন্নতি পান। নির্বাহী প্রকৌশলী থেকে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে উন্নীত হওয়ার ক্ষেত্রেও আর্থিক লেনদেন ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বেবিচকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের প্রত্যাহারের দাবিতে যে আন্দোলন হয়েছিল, সেখানে শরিফুল ইসলামের নামও উঠে আসে। পরে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে তাঁকে আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা হিসেবে চিহ্নিত করা হয় বলেও জানা গেছে।

এদিকে সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার সময় বিমানবন্দর থেকে তাঁকে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলেও একাধিক সূত্র জানিয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন ঠিকাদারের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়া ও ফাইল আটকে রাখার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ঠিকাদার অভিযোগ করেন, তাঁর সঙ্গে কাজ করতে গেলে ফাইল এগোতে টাকা লাগে। টাকা না দিলে ফাইল আটকে রাখা হয়। ঠিকাদারদের কাছে তিনি আতঙ্কের নাম।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত