Ajker Patrika

শহীদ মিনারে ফুলেল শ্রদ্ধা, নতুন প্রজন্ম শুনছে ভাষার ইতিহাস

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২: ১২
শহীদ মিনারে ফুলেল শ্রদ্ধা, নতুন প্রজন্ম শুনছে ভাষার ইতিহাস
বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি ও বেসরকারি দপ্তর, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানিয়েছে। ছবি: আজকের পত্রিকা

আজ অমর একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। একুশের প্রথম প্রহর থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন সর্বস্তরের মানুষ। ভাষার জন্য যাঁরা প্রাণ দিয়েছেন, তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পরিবার-পরিজন নিয়ে কিংবা কর্মক্ষেত্র বা সংগঠনের হয়ে এসেছেন হাজারো মানুষ। পরনে সাদা-কালো শোকের রং এবং হাতে রঙিন ফুল। ফুলেল শ্রদ্ধায় ছেয়ে গেছে শহীদ মিনারের বেদি।

একুশের প্রথম প্রহরে রাত ১২টা ১ মিনিটে শ্রদ্ধা নিবেদন শুরু হয়। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রথমে ফুল দিয়ে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এরপর শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শ্রদ্ধা নিবেদনের পর ভাষাশহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় মোনাজাতে শরিক হন প্রধানমন্ত্রীসহ শহীদ মিনারে জড়ো হওয়া হাজারো মানুষ।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রথমে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ছবি: আজকের পত্রিকা
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রথমে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ছবি: আজকের পত্রিকা

মোনাজাত শেষে মন্ত্রিসভার সদস্য ও নিজের উপদেষ্টাদের সঙ্গে নিয়ে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী। এরপর শ্রদ্ধা জানান বিএনপির নেতারা। পরিবারের সদস্যদের নিয়েও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তারেক রহমান।

এরপর মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে বেদিতে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টামণ্ডলী।

১২টা ৬ মিনিটে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: আজকের পত্রিকা
১২টা ৬ মিনিটে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: আজকের পত্রিকা

এরপর শ্রদ্ধা জানান সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনীর প্রধান মোহাম্মদ নাজমুল হাসান ও বিমানবাহিনীর প্রধান হাসান মাহমুদ খাঁন।

তিন বাহিনীর প্রধানের পর শ্রদ্ধা জানান সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা জামায়াত ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইফ নাহিদ ইসলামসহ জামায়াত জোট থেকে বিজয়ী সংসদ সদস্যরা।

এরপর শ্রদ্ধা জানান বাংলাদেশে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকেরা। তাঁদের পরে বেদিতে ওঠেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনসহ অন্যান্য কমিশনার।

ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা জামায়াত ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তার সঙ্গে ছিলেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইফ নাহিদ ইসলামসহ জামায়াত জোট থেকে বিজয়ী সংসদ সদস্যরা।
ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা জামায়াত ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তার সঙ্গে ছিলেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইফ নাহিদ ইসলামসহ জামায়াত জোট থেকে বিজয়ী সংসদ সদস্যরা।

সেহরির আগপর্যন্ত চলে সেই কর্মসূচি। এরপর সেহরি শেষে আজ শনিবার আলো ফুটতেই প্রভাতফেরিতে অংশ নিয়ে আবারও শ্রদ্ধা জানান বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

প্রভাতফেরিতে অংশ নেয় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি ও বেসরকারি দপ্তর, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন। শ্রদ্ধা নিবেদনকারী প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের মধ্যে রয়েছে—বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, জাতীয়তাবাদী তাঁতীদল কেন্দ্রীয় কমিটি, বিএনপি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হল, জগন্নাথ হল, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদল, জাসাস, বাসদ (মার্ক্সবাদী), বুরো বাংলাদেশ, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, সড়ক ও জনপথ প্রকৌশলী সমিতিসহ বিভিন্ন সংগঠন।

প্রভাতফেরিতে অংশ নেয় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি ও বেসরকারি দপ্তর, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন। ছবি: আজকের পত্রিকা
প্রভাতফেরিতে অংশ নেয় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি ও বেসরকারি দপ্তর, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন। ছবি: আজকের পত্রিকা

পরিবার-পরিজনসহ অনেকেই এসেছেন শহীদদের প্রতি সম্মান জানাতে। স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে আগারগাঁও থেকে এসেছেন ইমতিয়াজ আহমেদ। তিনি বলেন, ’আমরা প্রাণখুলে মাতৃভাষায় কথা বলতে পারছি, এই ভাষাকে লেখাপড়া, কর্মক্ষেত্রে ব্যবহার করতে পারছি। পৃথিবীর বহু ভাষাভাষী মানুষ এটা পারে না। বায়ান্নর একুশে ফেব্রুয়ারি না এলে হয়তো আমাদের আজ মাতৃভাষা বাদ দিয়ে অন্য ভাষায় কথা বলতে হতো। রফিক, শফিক, বরকত, জব্বার প্রাণ দিয়ে আমাদের মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকার এনে দিয়েছেন। আমাদের সন্তানেরা যেন এটা অনুধাবন করতে পারে, তাই ওদের নিয়ে এসেছি।’

শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে আসা অনেকেই বাংলা ভাষার ইতিহাস এবং ভাষাশহীদদের আত্মদানের কথা নতুন প্রজন্মের কাছে সঠিকভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন।

এলিফ্যান্ট রোড থেকে আসা অপর্ণা চৌধুরী বলেন, ‘বাঙালি জাতি হিসেবে আমাদের অন্যতম গৌরবের একটি বিষয় হচ্ছে আমাদের ভাষা। আমাদের এই ভাষার ইতিহাস নতুন প্রজন্মকে জানাতে হবে ৷ ভাষার জন্য যাঁরা জীবন দিলেন, তাঁদের কথা আমাদের সন্তানদের জানাতে হবে।’

ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত