Ajker Patrika

যুক্তরাজ্যের স্বায়ত্তশাসিত ‘আইল অব ম্যানে’ নাসা গ্রুপের নজরুলের সম্পদ জব্দ

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
যুক্তরাজ্যের স্বায়ত্তশাসিত ‘আইল অব ম্যানে’ নাসা গ্রুপের নজরুলের সম্পদ জব্দ
নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার। ফাইল ছবি

এবার দেশের বাইরে যুক্তরাজ্যের স্বায়ত্তশাসিত আইল অব ম্যানে নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার, তাঁর স্ত্রী নাসরিন ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে পাঠানো পারস্পরিক আইনগত সহায়তা অনুরোধের (এমএলএআর) পর অভিযোগসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পত্তি জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইল অব ম্যান কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে বাংলাদেশের পাঠানো অনুরোধে চাওয়া সব কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে তারা।

বিষয়টি দুদকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আজকের পত্রিকাকে নিশ্চিত করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম বলেন, ‘নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার, নাসরিন ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং ওয়ান প্রোপার্টি লিমিটেডের বিষয়ে আইল অব ম্যানের কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে সেখানকার কর্তৃপক্ষ অভিযোগসংশ্লিষ্ট সম্পত্তি জব্দ করেছে।’ পাশাপাশি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পাঠানো অনুরোধের সব কার্যক্রমও সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান তিনি।

তদন্তসংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, নজরুল ইসলাম মজুমদার ও নাসরিন ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পাশাপাশি ওয়ান প্রোপার্টি লিমিটেডের বিষয়েও আইল অব ম্যানের কাছে তথ্য চাওয়া হয়েছিল।

যুক্তরাজ্যের কোম্পানি নিবন্ধন দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ওয়ান প্রোপার্টি লিমিটেডের নিয়ন্ত্রণকারী ব্যক্তি হিসেবে নজরুল ইসলাম মজুমদার ও নাসরিন ইসলামের নাম রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ২৫ শতাংশের বেশি শেয়ার ও ভোটাধিকার দুজনেরই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে।

এতে করে বিদেশে নিবন্ধিত একটি সম্পত্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নাসা গ্রুপের শীর্ষ ব্যক্তিদের সরাসরি যোগসূত্রের তথ্য সামনে এসেছে। এখন প্রশ্ন উঠেছে–ওয়ান প্রোপার্টি লিমিটেডের নামে কী ধরনের সম্পদ রয়েছে, সেগুলো কীভাবে কেনা হয়েছে এবং এসব সম্পদ কেনার অর্থের উৎস কী।

নজরুল ইসলাম মজুমদারের বিদেশি সম্পদ নিয়ে এর আগেও বিভিন্ন অনুসন্ধানে তথ্য এসেছে। বাংলাদেশ আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিটের তথ্যের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাঁর লন্ডনের পাঁচটি সম্পত্তির মূল্য প্রায় ৩ কোটি ৭৯ লাখ পাউন্ড এবং আইল অব ম্যানের দুটি সম্পত্তির মূল্য প্রায় ৫২ লাখ ৮০ হাজার পাউন্ড বলে উল্লেখ করা হয়েছিল।

দুদক সূত্র বলছে, আইল অব ম্যান থেকে পাওয়া তথ্য এখন চলমান অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সেখানে কোম্পানির মালিকানা, সম্পত্তির দলিল, ব্যাংক হিসাব ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেলে বিদেশে নাসা গ্রুপের সম্পদের প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হতে পারে।

অনুসন্ধানে এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে, ওয়ান প্রোপার্টি লিমিটেডের মাধ্যমে কোনো অর্থ বাংলাদেশ থেকে বিদেশে নেওয়া হয়েছিল কি না, সম্পত্তি কেনার অর্থের উৎস কী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আর্থিক লেনদেনের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত