Ajker Patrika

দুদকের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে সংস্থার সাবেক কমিশনার জহুরুল

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬: ৪১
দুদকের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে সংস্থার সাবেক কমিশনার জহুরুল

ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক কর্মস্থলেরই জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক কমিশনার (তদন্ত) জহুরুল হক। আজ বুধবার সকাল থেকে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে দুদকের পরিচালক এস এম এম আখতার হামিদ ভূঞার নেতৃত্বে একটি দল তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে।সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত প্রায় তিন ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়

এদিন স্ত্রী মাছুদা বেগমসহ কমিশনের তলবে হাজির হন এই কর্মকর্তা। দুদকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টি আজকের পত্রিকাকে নিশ্চিত করেছেন।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, জিজ্ঞাসাবাদ শেষে দুপুর ১টা ৪০ মিনিটের দিকে স্ত্রী মাছুদা বেগমসহ কমিশন ত্যাগ করেন জহুরুল হক। তবে এ সময় গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি তিনি।

দুদক সূত্র জানায়, জহুরুল হকের বিরুদ্ধে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্লট বরাদ্দে অনিয়ম, বিদেশে অর্থ পাচারের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাঁর বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, জহুরুল হক ও তাঁর স্ত্রী মাছুদা বেগম সরকারি বিধি ভেঙে দু’টি প্লট বরাদ্দ নেন। পরবর্তীতে ওই দু’টি প্লট ফেরত দিয়ে নিজেদের ভূমিহীন দেখিয়ে ১০ কাঠার একটি প্লট বরাদ্দ নেন তাঁরা।

এর আগে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে সরকারি চাকরিজীবী ক্যাটাগরিতে পাঁচ কাঠার দুটি প্লট বরাদ্দ পায় জহুরুল হক দম্পতি। পরে সেগুলো ফেরত দেওয়ার পর একই প্রকল্পের ২৫ নম্বর সেক্টরের ২০৬ নম্বর রোডের ৪৭ নম্বর প্লটটি তাঁদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

এদিকে গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর জহুরুল হকের পাসপোর্ট বাতিল ও তাঁর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব কামরুজ্জামানের সই করা এক চিঠির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়।

সম্প্রতি দুদকের সদ্য সাবেক এই কমিশনারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে দেশের প্রথম সারির একাধিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এসব সংবাদের প্রেক্ষিতেই দুদকসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা অনুসন্ধান শুরু করে।

এর আগে গত ২৯ অক্টোবর ‘ব্যক্তিগত কারণ’ দেখিয়ে দুদক কমিশনার পদ থেকে পদত্যাগ করেন জহুরুল হক। একই সময়ে পদত্যাগ করেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান মুহাম্মদ মইনউদ্দীন আব্দুল্লাহ এবং অপর কমিশনার আছিয়া খাতুন।

অবসরপ্রাপ্ত বিচারক জহুরুল হক সর্বশেষ দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত