জানালার ফাঁক দিয়ে সূর্য্যি মামার মিষ্টি ছোঁয়ায় আমার ঘুম ভাঙল। আমরা এখন আছি মেঘালয় রাজ্যে। মেঘালয় হচ্ছে মেঘেদের বাড়ি। কবিদের অনুপ্রেরণার আর চিত্রকরদের ক্যানভাস। ঘুরে ঘুরে বেড়ানোর জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয় এক জায়গা। মেঘালয় ২১ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে রাজ্য হিসাবে ঘোষণা করা হয়।
সকাল সাতটায় ঘুম থেকে উঠতে মোটেই ইচ্ছা করছিল না। হালকা ঠান্ডা তার মাঝে কম্বল গায়ে দিয়ে শোয়ার মজাই আলাদা। তবে শেষ পর্যন্ত উঠে নাশতা শেষে বেড়িয়ে পড়লাম মেঘালয়ের আঁকাবাঁকা পথ ধরে নতুন গন্তব্যে। দেখতে দেখতে আমরা চলে এলাম এশিয়ার সর্ববৃহৎ চার্চ ক্যাথলিক ক্যাথেড্রাল। দূর থেকে স্নিগ্ধ নীলের শোভা আপনার মনকে করে দেবে বিমোহিত। প্রবেশদ্বারে বিশাল ফটক; সেটি পার হয়ে আমরা ভেতরে প্রবেশ করলাম।
দুই ধারে শতাধিক সিঁড়ি চোখে পড়ল। আমরা গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে চললাম। চার্চের আকৃতি ও রং—দুটোই মুগ্ধ করার মতো। সিঁড়ি বেঁয়ে আমরা চার্চের অঙ্গনে প্রবেশ করলাম। চোখে পড়ল তরুণ-তরুণীরা সিঁড়িতে বসে গল্প করছেন। কেউবা ব্যাগ খুলে বইখাতা বের করে পড়াশোনা করছেন, আবার অনেকে রেলিংয়ে হেলান দিয়ে কাটাচ্ছেন অবসর সময়। আমি আবার নিজের ক্যামেরা নিয়ে একের পর এক ছবি তুলতে লাগলাম। তবে চার্চের ভেতরে ছবি তোলা যাবে না।
আমরা খালি পায়ে চার্চের ভেতরে প্রবেশ করলাম। পিনপতন নীরবতা চার্চের ভেতর কেউ বসে প্রার্থনা করছে; আবার কেউবা বসে প্রভু যিশুর দিকে তাকিয়ে আছেন। এখানে বসে একসঙ্গে কয়েক হাজার মানুষের প্রার্থনা করার সুযোগ রয়েছে। চার্চের ভেতরটায় ভাবগম্ভীর পরিবেশ, প্রার্থনা চলছিল। আমরা দরজার কাছে ঢুকে ভেতরের দেয়ালের চিত্রকর্মগুলো দেখছিলাম। কিছু ছবি দূর থেকে মনে হলো তেলরঙের কাজ, কিছু চিত্রকর্মের ফটোগ্রাফও আছে। যিশুর জীবনকাহিনি, বিচার সভা, তাঁর মৃত্যুদণ্ডের ছবিই মনে হলো। ছবিগুলো পিতলের ফ্রেমে বন্দী।
এ এক অন্য রকম অনুভূতি। ধূপকাঠির সুবাস প্রাঙ্গণজুড়ে এক অন্য রকম পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। শিলংয়ের অধিকাংশ মানুষ খ্রিষ্টধর্মাবলম্বী, ধর্মপ্রাণও বটে। চার্চে গিয়ে বসলাম আমরা, ফাদারের কণ্ঠে বাইবেল শুনে মনটা কেমন যেন সজীব ও পবিত্র হয়ে গেল। আমরা বেশ কিছু সময় বসে প্রার্থনা করে বেড়িয়ে পড়লাম। চার্চের প্রায় শেষ মাথায় গিয়ে চোখে পড়ল, মা মেরির সুন্দর ভাস্কর্য সেখানে খোদাই করা আছে। সেখানে আমি আর মা বেশ কয়েকটি ছবি তুললাম। এরপর আমরা দেখতে গেলাম সঙ্গের মিশনারি স্কুল। এই স্কুল দেখার পর রওনা দিলাম আমাদের পরবর্তী গন্তব্যের উদ্দেশে।
যানবাহন খরচ
শিলং যাওয়ার জন্য মেঘালয়ের ডাউকি বর্ডার সহজ মাধ্যম। সিলেটের তামাবিল বর্ডার পার হলেই ডাউকি বর্ডার। ডাউকি থেকে ট্যাক্সি পাওয়া যায় শিলংয়ের ভাড়া পড়বে ৩০০ রুপি করে আর রিজার্ভ নিলে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ রুপি। ট্যাক্সি করে শিলং কিংবা আশপাশে যেতে পারবেন। ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ রুপিতে ট্যাক্সি পাবেন সারা দিনের জন্য। এক ট্যাক্সিতে ৪ জন ঘুরতে পারবেন। অথবা মেঘালয় ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন লিমিটেডের বাসেও ঘুরতে পারবেন মেঘালয়ের দর্শনীয় স্থান। শিলংয়ের একমাত্র বাহন ট্যাক্সি। তাই কাছাকাছি কোথাও গেলেও ট্যাক্সিতে যেতে হবে। চারজন মিলে কাছাকাছি ভাড়া ৫০ থেকে ১০০ রুপি।
থাকার জায়গা
থাকার জন্য শিলং পুলিশ বাজার অনেক হোটেল রয়েছে। এ জন্য পাসপোর্টের ফটোকপি ও ছবির প্রয়োজন হবে। ডলার ভাঙানোর জন্য পুলিশ বাজারে বেশ কয়েকটি মানি এক্সচেঞ্জ আছে। ভাড়া ডবল রুম ১ হাজার থেকে ৫ হাজার রুপি পর্যন্ত।
এ ছাড়া কমবেশি মানের হোটেল আছে। সিঙ্গেল কিংবা ডবল রুমে চাইলে আলাদা ম্যাট নিয়ে বাড়তি লোকও থাকতে পারবেন। তবে ম্যাটের জন্য আলাদা কিছু রুপি দিতে হবে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহর থেকে প্রায় ৩৭ কিলোমিটার দূরে রাঙামাটিয়া গ্রাম। এখানে ঢুকতেই চোখে পড়ে মাটির ঘরের সারি। তবে এসব ঘর আর দশটি গ্রামের মতো সাদামাটা নয়। কোনো দেয়ালে শিকারি জীবনের দৃশ্য, কোথাও সাঁওতাল তরুণ-তরুণীর নাচ-গান...
৮ ঘণ্টা আগে
ঘুম পৃথিবীর সব মানুষের জীবনের অপরিহার্য অংশ। কিন্তু ঘুমানোর ধরন সব দেশে, সব সংস্কৃতিতে এক নয়। কোনো দেশে শিশুকে শীতের মধ্যেও বাইরে ঘুম পাড়ানো হয়, আবার কোথাও স্বামী-স্ত্রী একই বিছানায় ঘুমালেও ব্যবহার করেন আলাদা কম্বল। দেশ, আবহাওয়া, সংস্কৃতি ও জীবনযাপনের সঙ্গে বদলে যায় ঘুমের অভ্যাসও।...
৮ ঘণ্টা আগে
সিলেট ভ্রমণের আনন্দ শুরু হয় ট্রেন বা বাসে ওঠার পর থেকে। গন্তব্যে পৌঁছানোর আগে বাস বা ট্রেনের জানালা দিয়ে দেখা দুই পাশের সবুজ চা-বাগান, সারি সারি গাছ, নদী-খাল আর দিগন্তজোড়া সবুজের সমারোহ—সব মিলিয়ে এই যাত্রা হতে পারে স্মরণীয়।
৯ ঘণ্টা আগে
সবুজ পাহাড়ের বুক চিরে শত ফুট উঁচু থেকে আছড়ে পড়ছে জলরাশি। পাহাড়ের ঢাল বেয়ে গড়িয়ে নিচে নেমে যাচ্ছে স্বচ্ছ পানির প্রবাহ। চারদিকে উঁচু-নিচু সবুজ পাহাড়, বুনো ঝোপ, নামহীন রঙিন বুনো ফুলের নয়নাভিরাম সৌন্দর্য মুহূর্তে নিয়ে যাবে কল্পনার রাজ্যে। বলছি খাগড়াছড়ির কথা।
১০ ঘণ্টা আগে