‘দ্য জাপানিজ ওয়াইফ’ সিনেমাটি দেখার পর, ২০১১ বা ২০১২ সালের দিকে জাপানের প্রতি আমার আগ্রহ জাগে। চলচ্চিত্রটিতে দেখানো জাপানের মানুষ, সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রা; বিশেষ করে মিয়াগি নামের জাপানি মেয়েটির ব্যক্তিত্ব ও ঋজু আবেগ দেখে মুগ্ধ হয়েছিলাম। তখনই মনে হয়েছিল, সুযোগ পেলে একদিন দেশটি কাছ থেকে দেখব।
অবশেষে চলতি বছরের এপ্রিল ও মে মাসে সেই সুযোগ আসে। প্রায় দুই মাস জাপানে থাকার অভিজ্ঞতা ছিল স্মরণীয়। জাপানে আমার সময়গুলো কেটেছে মূলত ফুকুই প্রিফেকচারের এইহেইজি শহরের কেনজোজিমা গ্রামে। এপ্রিলের শুরুতে জাপানজুড়ে চেরি ফুলের উৎসবমুখর পরিবেশ। সাদা, গোলাপি আর হালকা বেগুনি চেরি ফুল যেন প্রকৃতির ক্যানভাসে অনন্য শিল্পকর্ম সৃষ্টি করেছে। গ্রামের কাছেই সবুজ পাহাড় আর পাহাড়ের বুক চিরে বয়ে চলা নদী কুযুরুউগাওয়া। সময় পেলে এই নদীর ধারে চলে যেতাম। পাথরের গায়ে আছড়ে পড়া শীতল জলের ধ্বনি, নির্মল বাতাস আর নীরব প্রকৃতি যেন একধরনের ধ্যানমগ্ন অনুভূতি সৃষ্টি করত।
জাপানের পরিচ্ছন্নতা আমাকে বিশেষভাবে মুগ্ধ করেছে। রাস্তাঘাট, পার্ক, স্টেশন—সবকিছুই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। বিস্মিত হয়েছি জাপানিদের নিয়মানুবর্তিতা দেখে। রাস্তায়, বাসে, ট্রেনে— সবখানেই এরা নিয়ম মেনে চলে। কেউ উচ্চ স্বরে কথা বলে না, অযথা অন্যকে বিরক্ত করে না। ব্যক্তিগত শৃঙ্খলা তাদের সামাজিক সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।
জাপানের শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কেও কিছুটা জানার সুযোগ হয়েছিল। বিশেষ করে কিন্ডারগার্টেন ও এলিমেন্টারি স্কুলের কার্যক্রম বিষয়ে। কিন্ডারগার্টেনে শিশুরা সারা দিন খেলাধুলা, গল্প, গান এবং বিভিন্ন সৃজনশীল কার্যক্রমের মাধ্যমে শেখে। তাদের ওপর কোনো অপ্রয়োজনীয় চাপ সৃষ্টি করা হয় না; বরং আনন্দের মধ্য দিয়ে শিষ্টাচার, নিয়মানুবর্তিতা, সহযোগিতা এবং আত্মনির্ভরতার শিক্ষা দেওয়া হয়। এলিমেন্টারি স্কুলেও একই ধরনের মানবিক পরিবেশ লক্ষ করেছি। শিশুরা পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা করে, গাছ লাগায়, প্রকৃতি সম্পর্কে শেখে এবং দলগত কাজে অংশ নেয়। তাদের শিক্ষা শুধু বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং বাস্তব জীবনের সঙ্গে যুক্ত। কিন্ডারগার্টেন ও এলিমেন্টারি—উভয় প্রতিষ্ঠানেই শিশুদের জন্য পুষ্টিকর ও মানসম্মত মধ্যাহ্নভোজের ব্যবস্থা রয়েছে, যা তাদের সুস্থ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
জাপানে অবস্থানকালে বিভিন্ন পার্ক, ঐতিহাসিক দুর্গ এবং বৌদ্ধমন্দির ঘুরে দেখার সুযোগ হয়েছে, বিশেষ করে প্রাচীন স্থাপত্যশৈলী, নীরব পরিবেশ এবং আধ্যাত্মিক আবহ আমাকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে।

উত্তর ভিয়েতনামের একটি পাহাড়ি শহর হলো সাপা। রাজধানী হো চি মিন সিটি থেকে সাড়ে তিন শ কিলোমিটার দূরে চীন সীমান্তের কাছে লাও চাই প্রদেশে তার অবস্থান। সন্ধ্যারাতে বাসে উঠলে সকালে পৌঁছানো যায়। সাপা শহর থেকে উত্তরে তাকালে যে পাহাড়শ্রেণি দেখা যায়, তার পরে চীন।
৩ ঘণ্টা আগে
মধ্যপ্রাচ্যে ফ্লাইট বিঘ্নিত হওয়ায় আকাশপথের ভাড়া বাড়লেও ২০২৬-এর প্রথম প্রান্তিকে আন্তর্জাতিক পর্যটকের সংখ্যা ২ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০ কোটি ৭০ লাখে। এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে প্রবৃদ্ধি সবচেয়ে বেশি, ৯ শতাংশ; যেখানে বাংলাদেশ থেকে বিদেশগামী পর্যটকের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ১৮ শতাংশ।
৫ ঘণ্টা আগে
কমলা সমুদ্র! ওলন্দাজ বলুন আর ডাচ বলুন, ফুটবল বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে যেকোনো আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে গ্যালারি থেকে পুরো শহর মুহূর্তে বদলে দেবে উত্তাল কমলা সমুদ্রে। সে জন্যই বুঝি ডাচ ফুটবল দলের ডাকনামই হয়ে গেছে অরেঞ্জ লিজিয়ন। আমরা জানি, নেদারল্যান্ডসের মানুষ ও তাদের ভাষাকে ডাচ নামে ডাকা হয়।
১৯ ঘণ্টা আগে
ববোটি দক্ষিণ আফ্রিকার একটি বিশেষ ঐতিহ্যবাহী খাবার। সাধারণত মাংসের কিমা, সুগন্ধি মসলা, আপেল, কিশমিশ ও হালকা মিষ্টি স্বাদের মিশেলে এটি তৈরি করা হয়। ববোটি মোড়ানো হয় পাতলা ও মুচমুচে করে তৈরি করা ফিলো পেস্ট্রি দিয়ে। ত্রিভুজ আকৃতির আফ্রিকান এই মিশ্র স্বাদের হালকা খাবার ঘরে বানিয়ে বিকেল বা সন্ধ্যার নাশতায়
২১ ঘণ্টা আগে