Ajker Patrika

ভ্রমণপ্রেমী সাত বন্ধুর সংগঠন বেটুস

ইমরান ইমন
ভ্রমণপ্রেমী সাত বন্ধুর সংগঠন বেটুস
ছবি: সংগৃহীত

অফিস থেকে বাসা আর বাসা থেকে অফিস—এমন চক্রে ঘুরতে ঘুরতে একসময় মানুষ ক্লান্ত হয়ে পড়ে। ছুটির দিন এলেই ঘুম। একটু দেরিতে উঠে চা পান করেন। তারপর অলস দুপুর গড়িয়ে সেই আগের জীবন—অফিস আর বাসা, মোবাইল ফোন আর ইন্টারনেট ব্রাউজিং। এমনই একঘেয়েমি থেকে মুক্তি পেতে সাত বন্ধু মিলে গড়ে তুলেছেন বেতালা ট্যুরিস্ট সংঘ বা বেটুস। এই বন্ধুরা হলেন আজিজুর রহিম খান মিজান, সানু উদ্দিন রুবেল, সাঈদ খান, ইমরান ইমন, শাহ আলম রাফি, ইমরুল কায়েস ও পারভেজ মোশাররফ।

শুরুটা হয়েছিল কাছাকাছি ভ্রমণ দিয়ে

বেটুসের শুরুটা হয়েছিল আশপাশের মানুষ, মাটির গন্ধ আর গ্রামীণ জীবনে ঘুরতে ঘুরতে নিজেদের নতুন করে খুঁজে পাওয়ার ভেতর দিয়ে। অফিস শেষ করে বাসায় ফিরে আর ঘুম না দিয়ে সংগঠনটির সদস্যরা শুরু করেন প্রকৃতি দেখা। এর পর থেকে ধীরে ধীরে ইতিহাস, ঐতিহ্য আর বাংলাদেশের অপার সৌন্দর্যের গল্পে ভরে উঠতে থাকে বেটুসের মুহূর্তগুলো।

জানার চেষ্টায় ভ্রমণ

এরই মধ্যে সিলেট এবং সুনামগঞ্জ অঞ্চলের প্রকৃতি আর ঐতিহাসিক জায়গাগুলো দেখা শেষ হয়েছে বেটুসের। কোম্পানীগঞ্জের উৎমাছড়ার শীতল জলধারা, লালাখালের স্বচ্ছ নীল জলরাশি, ভোলাগঞ্জের সাদা পাথর, খাদিমনগর জাতীয় উদ্যান আর বিস্তীর্ণ হাকালুকি হাওর—সবই দেখা শেষ হয়েছে। আরও দেখা হয়েছে ভোরের আলোয় জৈন্তাপুরের ডিবির হাওর কিংবা শাপলা বিলের শীতল নীরবতা। এ ছাড়া দেখা হয়েছে সাইট্রাস গবেষণা কেন্দ্র।

ইতিহাস খুঁজতে বেটুস গিয়েছিল সিলেটের জৈন্তা রানির ইট, কংক্রিট আর শেওলায় জড়িয়ে থাকা জরাজীর্ণ বাড়িতে। গিয়েছিল পথের মধ্যে এখনো দাঁড়িয়ে থাকা বিশ্রামাগারে আবার ফেঞ্চুগঞ্জের কামাখ্যা বাবু কিংবা বাবুর বাড়ির শতবর্ষী কাঠের দোতলা বাড়ি, পুকুরঘাট আর পুরোনো মন্দির দেখতে। আবার ইতিহাসের পাতা উল্টিয়ে কখনো দাঁড়িয়েছে সুনামগঞ্জের প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো গৌরাঙ্গ জমিদারবাড়িতে; যেখানে দেয়ালের চিত্র, পুকুরঘাট, জলবারান্দা—সবই একেকটা সময়ের কথা বলে। তিন গম্বুজ ও ছয় মিনারের জন্য বিখ্যাত সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাগলা জামে মসজিদ। প্রায় শতবর্ষী দেয়ালের নান্দনিক কারুকার্য দেখতেও ছুটে গেছে বেটুস। মৌলভীবাজার জেলার শমশেরনগরে ডানকান ব্রাদার্স (বাংলাদেশ) লিমিটেডের চা-বাগান আর তার পাশের বিশাল ক্যামেলিয়া লেক মন্ত্রমুগ্ধ করে রেখেছিল বেটুসের সদস্যদের।

বেটুসের প্রধান আজিজুর রহিম খান মিজান বলেন, ‘ছুটির দিনে প্রকৃতির কোলে সময় কাটানোতেই পাওয়া যায় অপার আনন্দ। গ্রামীণ মানুষ, ইতিহাস আর সংস্কৃতি জানতেই আমাদের এই পথচলা। এটি মন উৎফুল্ল করার পাশাপাশি জ্ঞানভান্ডার সমৃদ্ধ করে। প্রকৃতিকন্যা সিলেট এবং আমাদের এই অনিন্দ্য সুন্দর মাতৃভূমিকে ভালোবাসার পাশাপাশি এর সৌন্দর্য বিশ্বব্যাপী তুলে ধরা সবার দায়িত্ব। সবাই আশাবাদী, বেটুসের মাধ্যমে এই দায়িত্ব চালিয়ে যেতে পারব।’

বেটুসের পথচলা নিছক ভ্রমণ নয়। এটি প্রকৃতি, ইতিহাস ও মানুষের জীবনের সঙ্গে আত্মিক সংযোগের প্রয়াস। শিকড়ের সন্ধানে ঘুরতে ঘুরতে এর সদস্যরা খুঁজে পান নিজেদের।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত