Ajker Patrika

এক গ্লাস কমলার জুসে শুরু হোক দিন: স্বাস্থ্য উপকারিতা ও সহজ রেসিপি

ফিচার ডেস্ক
এক গ্লাস কমলার জুসে শুরু হোক দিন: স্বাস্থ্য উপকারিতা ও সহজ রেসিপি
ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর কমলার জুস শুধু সর্দি-কাশি বা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়েই ক্ষান্ত হয় না, এর রয়েছে সুদূরপ্রসারী নানা স্বাস্থ্যসুবিধা। ছবি: পেক্সেলস

শীত আসতে আরও দেড়ি। কিছুটা গরম এখনো প্রকৃতিতে বিরাজমান। হেমন্তের সকালের নাস্তায় বা ব্যস্ত দিনে এক গ্লাস ঠান্ডা কমলার জুস দিনটা মুহূর্তেই দারুণ করে তুলতে পারে। এই জ্যুস কেবল মুখের স্বাদই বাড়ায় না, বরং শরীরকে চাঙ্গা রাখতেও দারুণ কার্যকরী। ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর কমলার জুস শুধু সর্দি-কাশি বা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়েই ক্ষান্ত হয় না, এর রয়েছে সুদূরপ্রসারী নানা স্বাস্থ্যসুবিধা।

জিনগত পরিবর্তন ও বিপাক ক্রিয়ার উন্নতি

যারা টানা ৬০ দিন প্রতিদিন ১৭ আউন্স বা দুই কাপ করে খাঁটি কমলার জুস পান করেছেন, তাদের শরীরের জিন কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। দুই মাস পর রক্ত পরীক্ষায় ১ হাজার ৭০৫টি জিনের কার্যকলাপে পরিবর্তন দেখা যায়। যার মধ্যে ১ হাজার ৬৭৩টি জিনের সক্রিয়তা কমেছে এবং ৩২টির বেড়েছে। বিশেষ করে, প্রদাহ বা ইনফ্লামেশন সৃষ্টিকারী জিনের কার্যকারিতা এবং উচ্চ রক্তচাপের সাথে জড়িত জিনের কার্যক্রমে ইতিবাচক পতন ঘটেছে। এছাড়া অতিরিক্ত ওজনযুক্ত ব্যক্তিদের চর্বি প্রক্রিয়াজাতকরণের ক্ষমতা উন্নত হতে দেখা গেছে।

হৃদরোগের ঝুঁকি ও কোলেস্টেরল হ্রাস

নিয়মিত কমলার জুস পান করলে খারাপ কোলেস্টেরল এবং ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কমে। যা হৃদরোগ ও টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে সরাসরি সাহায্য করে। প্রতিদিন কমলার জুস পানের ফলে রক্তনালীর ভেতরের আস্তরণের কার্যক্ষমতা বাড়ে। ফলে রক্তনালী সহজে শিথিল ও প্রসারিত হতে পারে, যা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমায়।

প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট

কমলার জুসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, ভিটামিন এ এবং পটাশিয়াম ও ফোলেটের মতো খনিজ উপাদান। এতে ক্যালোরি কম থাকে এবং এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর হওয়ায় ডায়াবেটিস, ক্যানসার ও হৃদরোগ থেকে সুরক্ষা দেয়। এছাড়া এটি কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি কমাতে এবং মস্তিষ্ক ও হৃৎপিণ্ডের কার্যকারিতা উন্নত করতে সাহায্য করে। তবে বাজারের অতিরিক্ত চিনিযুক্ত জুস বা জুস ব্লেন্ড উপকারের চেয়ে ক্ষতি করতে পারে। তাই সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে শতভাগ খাঁটি ও প্রিজারভেটিভমুক্ত জুস বেছে নেওয়া উচিত।

কমলার জুসে ক্যারোটিনয়েড থাকে। এটি ভিটামিন ‘এ’-এর কার্যকারিতায় অবদান রাখে। ছবি: পেক্সেলস
কমলার জুসে ক্যারোটিনয়েড থাকে। এটি ভিটামিন ‘এ’-এর কার্যকারিতায় অবদান রাখে। ছবি: পেক্সেলস

ওজন কমাতে

ওজন কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকে এমন ডায়েটের শেষ নেই। তবে সত্যি বলতে, প্রতিদিনের ক্যালোরি গ্রহণের পরিমাণ কড়া নজরদারিতে না রাখলে আপনি যে ক্যালোরি খাচ্ছেন এবং যা পোড়াতেন, তার হিসাব গুলিয়ে ফেলতে পারেন। কমলার জুসে ক্যালোরি কম থাকে এবং এটি যে স্থূলতা বাড়ায় না—তা প্রমাণিত। তাই ওজন কমানোর ডায়েটে এটি অন্তর্ভুক্ত করা দারুণ ব্যাপার। কম ক্যালোরিযুক্ত ডায়েটের পাশাপাশি এই জুস পান করলে ওজন হ্রাসে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। তাই ডায়েটে এটি রাখার পাশাপাশি আপনি কী খাচ্ছেন সেদিকেও নজর রাখুন।

ত্বকের যত্নে

কমলার জুসে ক্যারোটিনয়েড থাকে। এটি ভিটামিন ‘এ’-এর কার্যকারিতায় অবদান রাখে। তাই এটি পান করলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ঠিক রাখতে এবং চোখের কোষগুলোকে সুরক্ষা দিতে সাহায্য করে। ত্বকে থাকা ক্যারোটিনয়েড নির্দেশ করে যে শরীরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলো ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। আর নিয়মিত তাজা জুস পান করলে এই ক্যারোটিনয়েডের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। এগুলো আপনার ত্বককে সূর্যের ক্ষতি এবং পরিবেশগত নানা ঝুঁকি থেকে রক্ষা করে। তবে এর মানে এই নয় যে কমলার জুস আপনার সানস্ক্রিনের বিকল্প হতে পারে! এই দুটির যেকোনো একটির বদলে উভয়টি একসঙ্গে ব্যবহার করলে সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যাবে।

সহজ রেসিপি

কমলার সঙ্গে আনারস

কমলা ও আনারসের এই মিশ্র জুস রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি হজমশক্তি উন্নত করতে দারুণ কার্যকরী। আনারসে থাকা ব্রোমেলেইন এনজাইম হজমে সাহায্য করে এবং কমলা রক্তের ইউরিক এসিডের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। এই জ্যুস তৈরির জন্য প্রথমে তাজা কমলা ও পাইনএপেল ধুয়ে টুকরো করে নিন। পাইনএপেল জুসারে দিয়ে রস বের করুন। এবার কমলা চিপে বা ব্লেন্ড করে রস আলাদা করে নিন। একটি বড় জারে দুটি জুস একসঙ্গে মিশিয়ে সামান্য চিনি বা স্বাদমতো মিষ্টি দিন। ভালোভাবে নেড়ে বরফ কুচি ও পুদিনা পাতা দিয়ে ঠান্ডা ঠান্ডা পরিবেশন করুন।

গাজর-কমলার জুস

গাজর ও কমলার এই মিশ্র জুস ভিটামিন 'সি' এবং বিটা-ক্যারোটিনে ভরপুর। বিটা-ক্যারোটিন শরীরে ভিটামিন 'এ'-তে রূপান্তরিত হয়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং চোখের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। এছাড়া এটি কম ক্যালোরিযুক্ত (প্রতি সার্ভিংয়ে মাত্র ৯৩ ক্যালোরি) হওয়ায় ওজন নিয়ন্ত্রণেও দারুণ কার্যকরী। এই জ্যুস তৈরির জন্য প্রথমে গাজর ও কমলা ধুয়ে টুকরো করে জুসারে বা ব্লেন্ডারে রস বের করে নিন। মিষ্টি বাড়াতে চাইলে সামান্য মধু (ঐচ্ছিক) মিশিয়ে নিতে পারেন। বরফ কুচি দিয়ে ঠান্ডা ঠান্ডা পরিবেশন করুন। অতিরিক্ত জুস আইস ট্রেতে জমিয়ে এক মাস পর্যন্ত সংরক্ষণও করা যায়।

সূত্র: হেলথ লাইন, ডেইলি মেইল

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত