
দাম্পত্য সম্পর্কে সবকিছু জানতে চাওয়া হয় অধিকারবোধ থেকে। সম্পর্কে অধিকারবোধের জায়গাটা আসলে কোথায়? দাম্পত্য সম্পর্কের বেলায় দুজন মানুষ যখন সিদ্ধান্ত নেবেন জীবনসঙ্গী হওয়ার, তখন প্রথমে নিজেদের মধ্যে কয়েকটি বিষয় ঠিক করে নিতে হবে। যেমন সঙ্গীর কাছ থেকে কোন বিষয়গুলো জানব, জানাব এবং গুরুত্ব দেব; কতটুকু গ্রহণ করব; কোথায় এবং কেন ‘না’ বলব। কতটুকু সীমারেখা লঙ্ঘন করলে এই সম্পর্ক আর থাকবে না এবং সঙ্গীকে আমার জীবনে কতটুকু প্রবেশাধিকার দেব ও চাইব।
মনে রাখা দরকার, বিয়ে একটি দলিলবদ্ধ চুক্তি। কাগজে একটা সই দিয়ে দুটি মানুষের মনকে আটকে রাখা যায় না। আর জীবনটা রূপকথা নয় যে রাজকন্যা আর রাজপুত্রের বিয়ে হয়ে গেল। এরপর তারা আজীবন সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে লাগল। ‘সুখে-শান্তি’তে তখনই বসবাস করা যায়, যখন একজন অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল নয়, বরং সমানুভূতিশীল হয়।
কারণ, দুটো আলাদা পরিবেশে বেড়ে ওঠা মানুষ একসঙ্গে থাকা শুরু করে, যখন আবিষ্কার করে তাদের মতামতের ভিন্নতা রয়েছে, বিয়ের পর মানুষ সেখানে প্রথম ধাক্কাটা খায়। এই অবস্থায় দুজনকেই চিন্তা করতে হবে, এই মতামতের ভিন্নতা তারা শ্রদ্ধার সঙ্গে কতটুকু গ্রহণ করতে পারবে। জীবনসঙ্গী একজন অপরজনকে কোন কোন বিষয়ে জানাতে বাধ্য, তার একটা ঝকঝকে স্বচ্ছতা ও সীমারেখা প্রয়োজন। আমরা জানি, দাম্পত্যে আইনি অধিকার থাকে, ধর্মীয় কিছু অধিকার থাকে। এর বাইরে আরও বড় অধিকার থাকে দুটি মানুষের মধ্যে মানসিক আদান-প্রদানের।
কাজেই, অধিকারবোধ তখনই হবে, যখন নির্দিষ্ট সীমারেখা থাকবে; একজন অন্যজনকে সম্পর্কের পাল্লায় বসিয়ে কতটুকু দিতে এবং নিতে পারছে সেই স্বচ্ছতা থাকবে। দাম্পত্য সম্পর্কে দুটো মানুষকে সমান সমান জায়গায় দাঁড়িয়ে কথা বলতে হবে। বৃহত্তর পরিবার বা এক্সটেন্ডেড ফ্যামিলিকে কোন বিষয়ে কতটুকু বলব, সে বিষয়ে একটা বাউন্ডারি বা সীমারেখা থাকতে হবে। যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে দুজনের সমান অংশীদারত্ব থাকতে হবে। সিদ্ধান্ত জোর করে অন্যের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। একে অন্যকে টেকেন ফর গ্র্যান্টেড হিসেবে নেওয়া যাবে না। কারণ, পারস্পরিক সম্পর্কে অতিরিক্ত অধিকারবোধ একজনের ওপর অন্যজনকে কর্তৃত্ববাদী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে।
জটিলতা তখনই আসে, যখন অধিকারকে গুরুত্ব না দিয়ে আমরা একজন অন্যজনের ওপর প্রভুত্ব করতে শুরু করি। জীবনসঙ্গী কখন, কোথায় যাচ্ছেন, কার সঙ্গে কথা বলছেন, তার প্রতিটি জিনিস নখদর্পণে থাকা প্রয়োজন মনে করলে চাপ বাড়বে বৈকি! এখন এই ভার্চুয়াল পৃথিবীতে সম্পর্কগুলো অনেকটাই ভঙ্গুর। আমরা সম্পর্কগুলোতে কি স্বচ্ছ? সঙ্গীকে বিশ্বাস না করার ব্যাপারটা যেমন রয়েছে, তেমনি জীবনসঙ্গীকে বিশ্বাস করার মতো যথেষ্ট স্বচ্ছতাও রয়েছে কি না, সেটাও দেখার বিষয়। আমাকে সবকিছু জানাতে হবে, এ বিশ্বাসে যদি আমি অটল থাকি, তাহলে আমার জীবনসঙ্গীর প্রাইভেসিটা কোথায়? মনে রাখার মতো বিষয় হলো, সম্পর্কের দুটি জিনিস খুব জরুরি, একটি স্বচ্ছতা এবং অন্যটি ব্যক্তিগত প্রাইভেসির জায়গাকে সম্মান করা।
কোনো সম্পর্কের দাবিতে কারও প্রতি অধিকারবোধ উপলব্ধি করে কর্তৃত্ব আরোপ করলে সম্পর্কের সৌন্দর্য নষ্ট হয়। এতে অপর মানুষটির মধ্যে হতাশা তৈরি হয়।
জীবনসঙ্গী কি আপনার প্রতি অতিরিক্ত অধিকারবোধে ভুগছেন, নাকি আপনি জীবনসঙ্গীর প্রতি অতিরিক্ত অধিকারবোধ অনুভব করছেন—এই প্রশ্ন নিজেকে করা প্রয়োজন। সে ক্ষেত্রে নিজে ভাবতে শুরু করুন। নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর নিজে দিন।
১. আমার এই অতিরিক্ত অধিকারবোধ তাকে কেমন অনুভব করায়?
২. তার কি দমবন্ধ বোধ হচ্ছে?
৩. আমার সম্পর্কে তার ধারণা কী?
৪. আমার এই অতিরিক্ত অধিকারের প্রবণতা কীভাবে তাকে কষ্ট দিচ্ছে?
৫. আমি কি জীবনসঙ্গীকে কথাগুলো স্পষ্ট করে বলার সুযোগ দিচ্ছি, নাকি তার আগেই রেগে উঠছি?
মুদ্রার অপর পিঠে জীবনসঙ্গী যদি আপনার ওপর অধিকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে, তবে নিচের তথ্যগুলো খেয়াল করতে হবে—
১. জীবনসঙ্গীর কোন কোন আচরণে আপনি দমবন্ধ অনুভব করছেন, কেন করছেন, কত দিন থেকে করছেন? এই উত্তরগুলো রাগের মাথায় নয়, বরং সম্পর্কের সুসময়গুলোতে খোলামেলা আলোচনা করতে হবে।
২. প্রয়োজনে পেশাগত কাউন্সেলিং নিতে হবে।
জেনে রাখা ভালো, সম্পর্কে অতিরিক্ত অধিকারবোধ জীবনের গতি ধীর করে দেয়। এতে জীবনের আনন্দ উবে যায়। মাঝখান থেকে জীবনের অনেকগুলো সময় হারিয়ে যায়। তাই প্রয়োজনে কাউন্সেলিং করান এবং সম্পর্কে সুসময় বয়ে আনুন।
লেখক: চিকিৎসক, কাউন্সেলর ও সাইকোথেরাপি প্র্যাকটিশনার, ফিনিক্স ওয়েলনেস সেন্টার বিডি

টাকি মাছ যাঁদের প্রিয় তাঁরা প্রায়ই তো ভর্তা তৈরি করেন। এবার তৈরি করতে পারেন টাকি মাছের পুরি। আপনাদের জন্য রেসিপি ও ছবি পাঠিয়েছেন আলিফ’স ডেলিকেট ডিশেজের শেফ আলিফ রিফাত। উপকরণ: কাঁটা ছাড়ানো ভাজা টাকি মাছ ১ কাপ, পেঁয়াজকুচি ১ কাপের ৩ ভাগের ১ ভাগ, ৩ থেকে ৪টি কাঁচা মরিচকুচি, ধনেপাতাকুচি ১ মুঠো, আদা...
৩ ঘণ্টা আগে
আজ আপনার শরীরের অবস্থা অনেকটা সেই পুরোনো উইন্ডোজ এক্সপি ল্যাপটপের মতো—কখন নীল স্ক্রিন দেখিয়ে ঝুলে পড়বে কেউ জানে না। বাইরে বিরিয়ানি বা রাস্তার ধারের চপ-পেঁয়াজি খাওয়ার আগে অন্তত দশবার ভাবুন; কারণ আপনার লিভার আজ কোনো বিদেশি পর্যটকের মতো ‘অচেনা খাবার’ নিতে অস্বীকার করতে পারে।
৪ ঘণ্টা আগে
হুমায়ূন আহমেদের লেখা একটি জনপ্রিয় গান, ‘যদি মন কাঁদে তুমি চলে এসো, চলে এসো এক বরষায়...’। বর্ষাকাল না হলেও চলছে বৃষ্টি। এসব মেঘলা দিনে মানুষের মন অকারণেই খারাপ হয়ে থাকে। আবার কেউ কেউ রোমান্টিকতাও অনুভব করেন। এই তো গেল ঋতুভিত্তিক মন খারাপের গল্প। তবে, মন যখন কাঁদে, শরীর তখন কেমন থাকে— ভেবে দেখেছেন...
৫ ঘণ্টা আগে
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভেসে বেড়াচ্ছে বৃষ্টিতে ভেজার ছোট ছোট ভিডিও। সেসব ভিডিওতে জুড়ে দেওয়া হচ্ছে রোমান্টিক গান কিংবা কবিতা। এই রোমান্টিক ভাবটা যে শুধু সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, এমন নয়। ব্যক্তিমনে এর বিস্তার অনেক বেশি। ভেবেছেন কি, বৃষ্টি কেন মনে রোমান্টিক অনুভূতি তৈরি করে...
২১ ঘণ্টা আগে