
ফুটবলের বেলায় আর্জেন্টিনার ডাই-হার্ড ভক্ত আপনি? দারুণ! নীল-সাদা পতাকার এই দেশে ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন কি? প্রাণবন্ত সংস্কৃতি, মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক দৃশ্য এবং অবশ্যই স্টাইলিশ মানুষে ভরা এই দেশে ভ্রমণের ইচ্ছা থাকলে নিজেরও কিছুটা প্রস্তুতি থাকা চাই। কোথাও ভ্রমণে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে আমরা সবার আগে ভাবি, সেখানে গিয়ে কোন ধরনের পোশাক পরব। আর্জেন্টিনায় কীভাবে কোন পোশাক পরলে আপনি সবার সঙ্গে মিশে যেতে পারবেন এবং আত্মবিশ্বাসী বোধ করবেন, সে কথা বলার জন্যই এই লেখা। বুয়েনস এইরেসে ঘুরে বেড়ানো হোক, আন্দিজ পর্বতমালা অন্বেষণ করা হোক কিংবা ট্যাঙ্গোর তালে সারা রাত নাচাই হোক, সবখানে প্রয়োজন জুতসই পোশাক।
আর্জেন্টাইনরা, বিশেষ করে বুয়েনস এইরেসের মতো বড় শহরগুলোতে, তাদের স্টাইলের জন্য পরিচিত। জাঁকজমকপূর্ণ না হয়েও পরিপাটি দেখানোর একটা সহজাত ক্ষমতা তাদের রয়েছে। একে ইউরোপীয় আভিজাত্যের সঙ্গে লাতিন আমেরিকান শৈলীর এক মিশ্রণ হিসেবে ভাবা যেতে পারে। তারা উন্নত মানের কাপড়, নিখুঁতভাবে তৈরি পোশাক এবং পরিশীলিত রুচির কদর করে থাকে। এখানে জাঁকজমকপূর্ণ হওয়াটা মুখ্য নয়; বরং পরিপাটি এবং আত্মবিশ্বাসী দেখানোটাই বড় বিষয়। আর্জেন্টিনায় গিয়ে পরার পোশাক পরিকল্পনা করার সময় আপনাকে বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে। ফ্যাশন আর্জেন্টিনার সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং ভালোভাবে পোশাক পরাটা সম্মানের বিষয় এবং ব্যক্তিগত শৈলীর প্রকাশ।

আর্জেন্টিনার অধিবাসীরা পোশাকের গুণমান এবং খুঁটিনাটি বিষয়ের কদর করে। তার মানে এই নয় যে আপনাকে দামি ডিজাইনার ব্র্যান্ড কিনতে হবে। বরং এর মানে হলো, ভালো উপকরণ দিয়ে তৈরি সুন্দর জিনিস বেছে নেওয়া। সুতি, লিনেন ও সিল্কের মতো কাপড় সে দেশে চমৎকার পছন্দ গরমের মাসগুলোতে। পোশাকের মাপের দিকে মনোযোগ দিতে ভুলবেন না। দাম যা-ই হোক, সঠিক মাপের পোশাক সব সময় দেখতে ভালো লাগে। নিশ্চিত করুন আপনার পোশাক যেন খুব বেশি আঁটসাঁট বা খুব বেশি ঢিলা না হয় এবং তা যেন আপনার শারীরিক গড়নের সঙ্গে মানানসই হয়। আর্জেন্টিনার পোশাক বেছে নেওয়ার সময় মনে রাখবেন, এটি স্থানীয় সংস্কৃতির প্রতি আপনার শ্রদ্ধাকে প্রতিফলিত করে।
আপনি কোন ঋতুতে আর্জেন্টিনার কোন অঞ্চলে ঘুরতে যাবেন, তা আগে ঠিক করুন। কারণ, আর্জেন্টিনার জলবায়ুতে বৈচিত্র্য অনেক। যেমন বুয়েনস এইরেসে চারটি স্বতন্ত্র ঋতু রয়েছে। সালতার মতো উত্তরের অঞ্চলগুলো সাধারণত সারা বছর উষ্ণ থাকে, অন্যদিকে দক্ষিণের পাতাগোনিয়া গ্রীষ্মকালেও বেশ ঠান্ডা। ঋতু যা-ই হোক না কেন, স্তরে স্তরে পোশাক পরার কথাটা সব সময় মনে রাখা চাই। এটি আপনাকে সারা দিন ধরে পরিবর্তিত তাপমাত্রার সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাহায্য করবে। টি-শার্ট, লম্বা হাতার শার্ট, সোয়েটার, জ্যাকেট ও স্কার্ফ—এগুলো সঙ্গে নিন। এমন কিছু বিকল্প থাকা অত্যন্ত জরুরি, যা সহজে যোগ করা বা সরানো যায় এবং যা আপনাকে যেকোনো পরিস্থিতিতে স্বচ্ছন্দবোধ করতে সাহায্য করবে।

বসন্ত ও গ্রীষ্মের মতো গরম সময়ের জন্য, হালকা ও সহজে বাতাস চলাচল করে এমন কাপড়ের দিকে মনোযোগ দিন। সুতির টি-শার্ট, লিনেনের প্যান্ট বা স্কার্ট এবং ঢিলেঢালা পোশাক সঙ্গে নিন। আপনি যদি সমুদ্রসৈকতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন, তাহলে সাঁতারের পোশাক নিতে ভুলবেন না। আর্জেন্টিনার তীব্র রোদ থেকে নিজেকে রক্ষা করার জন্য সানগ্লাস, টুপি এবং সানস্ক্রিনও অপরিহার্য।
শরৎ ও শীতকালে আপনার গরম জামাকাপড়ের কয়েকটি স্তর প্রয়োজন হবে। সোয়েটার, একটি গরম কোট, একটি স্কার্ফ, একটি টুপি এবং দস্তানা সঙ্গে নিন। রেইনকোট জাতীয় পোশাক সঙ্গে রাখা ভালো। কারণ, অনেক অঞ্চলে বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে। আপনি যদি বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখার পরিকল্পনা করেন, তবে বুট বা মজবুত জুতা সঙ্গে রাখুন।
ঘুরে বেড়ানো এবং সাধারণ দিনের জন্য
এমন ক্ল্যাসিক ও বহুমুখী পোশাকের কথা ভাবুন, যা একটির সঙ্গে অন্যটি মিলিয়ে পরা যায়। একটি স্টাইলিশ টি-শার্ট বা ব্লাউজের সঙ্গে গাঢ় রঙের জিনস বা চিনোসের সমন্বয় দারুণ হতে পারে। এর সঙ্গে এক জোড়া আরামদায়ক জুতা সঙ্গে নিন। আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে, অতিরিক্ত আবরণের জন্য একটি হালকা জ্যাকেট বা ব্লেজার পরা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে অ্যাকসেসরিজ হলো আপনার গোপন অস্ত্র। একটি স্কার্ফ, একটি সাধারণ নেকলেস বা একটি স্টাইলিশ ব্যাগ মুহূর্তেই আপনার সাজকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে। ঘুরে বেড়ানোর সময় সারা দিন হাঁটার জন্য আরামদায়ক পোশাক পরা উচিত।
ডিনার এবং নাইট লাইফ
ডিনারের জন্য স্মার্ট ক্যাজুয়াল পোশাক বেছে নিন। একটি সুন্দর পোশাক, ব্লাউজের সঙ্গে স্কার্ট অথবা স্টাইলিশ টপের সঙ্গে মানানসই প্যান্ট—এগুলো সবই চমৎকার বিকল্প। ছেলেরা বোতাম-দেওয়া শার্ট বা পোলো শার্টের সঙ্গে ড্রেস প্যান্ট বা গাঢ় রঙের জিনস পরতে পারেন। আরও আনুষ্ঠানিক চেহারার জন্য একটি ব্লেজার যোগ করা যেতে পারে। রাতে বাইরে যাওয়ার সময়, আপনি আপনার পোশাকের ক্ষেত্রে কিছুটা সাহসী হতে পারেন। তবে মনে রাখবেন, আর্জেন্টাইনরা সাজগোজ করতে পছন্দ করে, তাই কম পোশাক পরার চেয়ে কিছুটা বেশি পোশাক পরা ভালো। হিল, ড্রেস শু বা স্টাইলিশ বুট আপনার সাজে ভিন্নমাত্রা যোগ করতে পারে। সাজটি সম্পূর্ণ করতে গয়না, একটি আকর্ষণীয় ব্যাগ এবং হালকা মেকআপ ব্যবহার করুন।
আরামদায়ক পোশাক পরা ভালো হলেও খেলাধুলার পোশাকের মতো অতিরিক্ত ক্যাজুয়াল বা অতিরিক্ত খোলামেলা পোশাক পরা এড়িয়ে চলুন। ধর্মীয় স্থান বা আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময় এটি বিশেষভাবে প্রযোজ্য।
ফ্যাশনেবল হওয়ার জন্য অতিরিক্ত চেষ্টা করার চেয়ে সাদামাটা এবং মার্জিত পোশাক পরা ভালো। খুব বেশি জমকালো বা দৃষ্টি আকর্ষণকারী কিছু পরা এড়িয়ে চলুন। কারণ, এটিকে আড়ম্বরপূর্ণ মনে করা হতে পারে। ভালো মানের পোশাক বেছে নিয়ে এবং খুঁটিনাটি বিষয়ের প্রতি মনোযোগ দিয়ে একটি পরিপাটি ও গোছানো লুক তৈরির দিকে মনোনিবেশ করুন।
আপনার পোশাক বেছে নেওয়ার আগে সব সময় উপলক্ষটির সম্পর্কে চিন্তা করুন। যেমন সাধারণ দিনে দর্শনীয় জায়গায় ঘুরে দেখার জন্য যা উপযুক্ত, তা হয়তো রাতের খাবার বা কোনো আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের জন্য উপযুক্ত না-ও হতে পারে। এটি নিশ্চিত করবে যে আপনি ভুল কারণে অন্যদের থেকে আলাদা হয়ে যাচ্ছেন না। ভালোভাবে পোশাক পরা মানে হলো পারিপার্শ্বিকতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং সামাজিক রীতিনীতি সম্পর্কে সচেতনতা দেখানো।
সূত্র: এলইউএমএসএক্স সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি
ছবি: পেক্সেলস

বাংলাদেশে বসে ছাগল নিয়ে আমরা যতই হাসাহাসি করি না কেন, কেপ ভার্দের বেলায় হিসাবটা একেবারে ঠিক। সেই দ্বীপদেশটিতে আছে প্রতি দুজনের জন্য একটি ছাগল! আটলান্টিক মহাসাগরের বুকে জেগে থাকা এক টুকরো বিস্ময় রিপাবলিক অব কেপ ভার্দে। অবশ্য দেশটি বিশ্বজুড়ে সংক্ষেপে কেপ ভার্দে নামে পরিচিত। বিশ্ব ফুটবলে দেশটি এখন...
১৬ ঘণ্টা আগে
খিচুড়ি তো অনেক খাওয়া হলো, এই বৃষ্টির দিনে জিবে একটু ভিন্ন স্বাদ আনতে আপনি অনায়াসে তৈরি করে নিতে পারেন মিসরের অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি খাবার। আরবিতে একে বলা হয় ‘শাওরবাত আদস’। যার বাংলা অর্থ ডালের স্যুপ। এটি যেমন পুষ্টিকর, তেমনই তৈরি করাও সহজ। বৃষ্টির অলস সময়ে শরীর ও মন চাঙা করতে এই স্যুপের জুড়ি মেলা...
২০ ঘণ্টা আগে
মানুষের শিকারের পেছনে ছোটার যে কালপর্ব, নৃবিজ্ঞানীরা মনে করেন, সে সময় পরিষ্কার নীল আকাশ ভালো আবহাওয়া আর খাবারের নিশ্চয়তা নির্দেশ করত। তাই বলা হয়, জীবনধারণের সেই সহজাত প্রবৃত্তি হাজার হাজার বছর পেরিয়ে আজও মানুষের মনে নীল রঙের প্রতি ভালোবাসা ধরে রেখেছে।
১ দিন আগে
আমরা সবাই সাবান ব্যবহার করি। বেশির ভাগ সাবানে থাকে বিভিন্ন পশুর চর্বি। প্রসাধনী তৈরিতেও প্রচুর চর্বি প্রয়োজন। ফলে বিভিন্ন প্রাণীর চর্বি সংগ্রহ করা হয়। এসব প্রাণীর কোনো কোনোটির চর্বিতে যে কৃমি থাকে, তা বহু বছর জীবিত থাকতে পারে। এই চর্বি গরম করা হলেও কিছু কৃমি সক্রিয় থাকে।
১ দিন আগে