
বাংলার ঐতিহ্যের সঙ্গে মিশে রয়েছে টেরাকোটা বা পোড়ামাটির গল্প। বহু আগে থেকে বাংলার মাটিতে মসজিদ, মন্দির ও গৃহসজ্জায় দেখা যায় টেরাকোটার ব্যবহার। প্রাচীনকালের সেই মসজিদ ও মন্দির থেকে উঠে আসা টেরাকোটা জায়গা করে নেয় ফ্যাশন দুনিয়ায়। খুব অল্প সময়ে নতুন প্রজন্মের কাছে এর নকশা বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রাচীন কিছু স্থাপনায় টেরাকোটার ব্যবহার দেখা যায়। সেগুলোর মধ্যে রাজশাহীর পুঠিয়া রাজবাড়ী ও বাঘা মসজিদ, দিনাজপুরের কান্তজিউ মন্দির ও নয়াবাদ মসজিদ, যশোরের চাঁচড়া শিবমন্দির, কুমিল্লার শালবন বিহার ও জগন্নাথ মন্দির এবং নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার পাহাড়পুরের প্রাচীন স্থাপনায় টেরাকোটার নিদর্শন পাওয়া যায়। এগুলো মূলত এই অঞ্চলে টেরাকোটা শিল্পের প্রাচীনতম নিদর্শন। মাটি ও আগুনের সহায়তায় সৃজনশীল মানুষ আজ থেকে কয়েক শ বছর আগে এসব শিল্পের চর্চা করত।
ফ্যাশনে এই টেরাকোটা এখন অনন্য ট্রেন্ড। তরুণেরা বিভিন্ন প্রেক্ষাপট থেকে এটি নিয়ে কাজ করছেন। দীর্ঘদিন রোদে পুড়ে এবং বৃষ্টিতে ভিজে টেরাকোটাসমৃদ্ধ স্থাপনাগুলো যে রং ধারণ করেছে, বর্তমান সময়ের ডিজাইনাররা পোশাকের রঙের ক্ষেত্রে তাকে বেছে নিচ্ছেন। শুধু তা-ই নয়, নকশাকারেরা টেরাকোটায় ব্যবহার হওয়া বিভিন্ন জ্যামিতিক প্যাটার্ন ও মোটিফ ব্যবহার করছেন পোশাকের নকশা করার কাজে। কখনো সেগুলোর সঙ্গে মিশিয়ে দিচ্ছেন নিজের চিন্তাভাবনা।
বাংলার ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পের বিভিন্ন মোটিফ নানাভাবে পোশাকে তুলে ধরার চেষ্টা করে চলেছেন বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন ডিজাইন অ্যান্ড টেকনোলজির স্নাতকোত্তর পর্বের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ ভূঁইয়া। তিনি এর আগে ক্লাবহাউস নামের একটি ফ্যাশন হাউসের ডিজাইনার ছিলেন। আব্দুল্লাহ জানান, তাঁর নিরীক্ষামূলক পোশাকের ডিজাইনের অনুপ্রেরণা হিসেবে ছিল রাজশাহীর বাঘা মসজিদ ও দিনাজপুরের কান্তজিউ মন্দির।
ধর্মীয় এই স্থাপনাগুলো ইতিহাস, সংস্কৃতি ও নান্দনিকতার বড় উদাহরণ। বাঘা মসজিদের দেয়াল ও দরজায় পোড়ামাটির ফুল, লতাপাতা, আরবি ক্যালিগ্রাফি ও জ্যামিতিক নকশার নিখুঁত কারুকাজ দেখা যায়। আবার কান্তজিউ মন্দিরে রয়েছে রামায়ণ, মহাভারত, কৃষ্ণলীলা, বিভিন্ন পুরাণ কাহিনিসহ ফুল ও লতাপাতার নকশা।
এই দুইয়ের মিশ্রণে আব্দুল্লাহ তৈরি করেছেন টেরাকোটাকেন্দ্রিক নকশা ও রঙের পোশাক। টেরাকোটার রঙের সঙ্গে পোশাক আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে তিনি ব্যবহার করেছেন হাতে আঁকা মাটির মোটিফ, ব্লক প্রিন্ট, টেরাকোটা টেক্সচার এমব্রয়ডারি, জামদানির নকশা ইত্যাদি। এ ছাড়া পোশাকে অ্যাকসেসরিজ হিসেবে যোগ করা হয়েছে নানান লেইস, কোকোনাট বাটন, টারসেল ইত্যাদি।

আব্দুল্লাহ জানিয়েছেন, নতুন প্রজন্মের কথা বিবেচনায় রেখে মূলত তিনি এসব পোশাকের নকশা করেছেন, যাতে আধুনিকতার পাশাপাশি এই প্রজন্মের তরুণেরা নিজেদের ঐতিহ্যকেও ভালো করে চিনতে এবং জানতে পারেন।
তরুণ প্রজন্মের কাছে আরও গ্রহণযোগ্য করে তুলতে পোড়ামাটির উষ্ণ বাদামি-কমলা রঙের টোন এখন জিনস, জ্যাকেট, স্কার্ট কিংবা গাউনে জুড়ে দেওয়া হয়েছে। শাড়ি, কুর্তি, সালোয়ার কামিজে যেমন টেরাকোটার বিভিন্ন অনুষঙ্গের ছোঁয়া আছে, তেমনি আছে ওয়েস্টার্ন পোশাকে। আব্দুল্লাহর আশা, শাড়ি কিংবা সালোয়ার-কামিজের মতো দেশীয় পোশাকে টেরাকোটার নকশা ও অন্যান্য বিষয় যেমন সবাই গ্রহণ করে নিয়েছিল, ওয়েস্টার্ন পোশাকে এর উপস্থিতিকেও মানুষ তেমন আপন করে নেবে। ফরমাল কিংবা ক্যাজুয়াল—সব ধরনের লুকের সঙ্গে এ ধরনের নকশা মানিয়ে যায়। তা ছাড়া গায়ের
রং যেমনই হোক না কেন, টেরাকোটার রং প্রায় সব ধরনের ত্বকের সঙ্গে মানিয়ে যায় বলে স্বচ্ছন্দে এবং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে যে কেউ চাইলে এ ধরনের নকশার পোশাক ব্যবহার করতে পারে।
টেরাকোটার এই বিশেষ কালেকশনের নাম দেওয়া হয়েছে ক্লে স্টোন। আগামী প্রজন্ম যাতে আধুনিকতার পাশাপাশি নিজের শিকড়কে ভুলে না যায়, তাই এ ধরনের পোশাক তৈরিতে আগ্রহ আব্দুল্লাহ ভুঁইয়ার।
হারিয়ে যাওয়া মসজিদ কিংবা মন্দির থেকে টেরাকোটা যখন উঠে আসে আধুনিক ফ্যাশনে, তখন নতুন করে পুরোনো গল্প প্রাণ পায়। আব্দুল্লাহ ভুঁইয়া পোশাকে সে গল্পই শোনাতে চান এই প্রজন্মের মানুষদের।

যে অঙ্ককে এড়িয়ে চলতে আমরা এত কসরত করি, সেই অঙ্কের শক্তির ওপর নির্ভর করেই কিন্তু গড়ে উঠেছে আধুনিক সভ্যতার প্রযুক্তিগত রাজত্ব। কেউ গণিতকে বলে বিমূর্ত বা জটিল হিসাবের বিজ্ঞান, আবার কারও কাছে এটি স্রেফ সংখ্যা আর সূত্রের গোলকধাঁধা। তবে এই গোলকধাঁধাকে জয় করা শীর্ষ বিজ্ঞানী ও তরুণ শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক...
২ ঘণ্টা আগে
অক্টোবর মাসকে বিশ্বব্যাপী স্তন ক্যানসার সচেতনতা মাস হিসেবে পালন করা হয়। এই মাসজুড়ে স্তন ক্যানসারের লক্ষণ, প্রতিরোধ, প্রাথমিক অবস্থায় রোগনির্ণয় এবং চিকিৎসার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে বিশ্বজুড়ে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ বছর বিশ্ব স্তন ক্যানসার সচেতনতা মাসের মূল প্রতিপাদ্য, ‘প্রতিটি গল্পই অনন্য,
৬ ঘণ্টা আগে
দিনের ক্লান্তি ভুলে পরম শান্তিতে ঘুমানোর জায়গা হলো শোয়ার ঘর। শুধু আরামদায়ক বিছানা থাকলেই যে সব সময় গভীর ঘুম হবে, এমনটি নয়। ঘরের সাজসজ্জা, আলো, বাতাস ও ছোটখাটো অনেক উপাদান ঘুমে গভীর প্রভাব ফেলে।
৭ ঘণ্টা আগে
পূজার দিন গোনা শুরু হয়ে গেছে। ঢাকের শব্দ, মণ্ডপে আলোকসজ্জা আর নতুন পোশাকের আনন্দের পাশাপাশি পূজার সাজে পূর্ণতা দিতে গয়নার বিকল্প নেই। এবার ষষ্ঠী থেকে দশমী—প্রতিদিনের সাজে ভিন্নতা আনতে এবং আভিজাত্য ফুটিয়ে তুলতে গয়নার নির্বাচনে ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধন ঘটাতে পারেন।
৮ ঘণ্টা আগে