পারফিউম দিবস

আজ বিশ্ব পারফিউম দিবস। সুগন্ধি কেবল আমাদের চারপাশের পরিবেশকে সুবাসিত করে না, এটি আমাদের ব্যক্তিত্ব ও রুচির এক শক্তিশালী বহিঃপ্রকাশও বটে। মানুষের রুচির ভিন্নতায় পারফিউমের বাজারে যেমন বৈচিত্র্য রয়েছে, তেমনি এর দামেও রয়েছে আকাশ-পাতাল পার্থক্য।
কিছু সুগন্ধি অনন্য ঘ্রাণের জন্য নয়, বরং তৈরিতে ব্যবহৃত অত্যন্ত দুর্লভ প্রাকৃতিক উপাদান এবং হীরাখচিত বোতলের শৈল্পিক কারুকার্যের কারণে বিশ্বজুড়ে কিংবদন্তি হয়ে আছে। একটি পারফিউমের আকাশচুম্বী মূল্য সাধারণত নির্ভর করে এর তেলের ঘনত্বের স্থায়িত্ব, কাঁচামালের দুষ্প্রাপ্যতা এবং যে বোতলে এটি সংরক্ষিত থাকে, তার নান্দনিক নকশার ওপর। কোনোটি তৈরি হয়েছে হাজার বছরের পুরনো রাজকীয় ফর্মুলায়, আবার কোনোটির বোতলে বসানো হয়েছে হাজার হাজার হীরা।
বিশ্ব পারফিউম দিবসের এই বিশেষ দিনে খ্যাতির চরম শিখরে থাকা বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ও দামি কিছু সুগন্ধি নিয়ে আজকের এই আয়োজন–

শুমুখ
বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দামি পারফিউম হিসেবে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লিখিয়েছে দুবাইয়ের ‘শুমুখ’। আরবি ভাষায় এর অর্থ হলো ‘সর্বোচ্চ সম্মান’। এই সুগন্ধি তৈরি করতে সময় লেগেছে প্রায় ৩ বছর এবং ৫০০ বার পরীক্ষা করা হয়েছে। এর বোতলটি প্রায় ১.৯৭ মিটার লম্বা। এতে বসানো হয়েছে ৩ হাজার ৫৭১টি হীরা, নীলকান্তমণি এবং প্রায় ২ কেজি সোনা ও ৫ কেজি খাঁটি রুপা। তুর্কি গোলাপ, চন্দন, কস্তুরি এবং আগরকাঠের এক অনন্য মিশ্রণ রয়েছে এতে। এর মূল্য প্রায় ১.২৯ মিলিয়ন ডলার।

ডিকেএনওয়াই গোল্ডেন ডেলিসিয়াস
তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা এই পারফিউম মূলত একটি দাতব্য উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছিল। আপেল আকৃতির বোতলটি তৈরি করতে ১ হাজার ৫০০ ঘণ্টার বেশি সময় নিয়েছিলেন বিখ্যাত জুয়েলারি ডিজাইনার মার্টিন কাটজ। এতে ২ হাজার ৯০৯টি বহুমূল্য পাথর ব্যবহার করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে সাদা হীরা, হলুদ নীলকান্তমণি এবং গোলাপি হীরা। এর সুবাসে রয়েছে কমলালেবুর ফুল, আপেল ও চন্দনের এক চমৎকার মিশেল। এর মূল্য প্রায় ১ মিলিয়ন ডলার।

ক্লাইভ ক্রিস্টিয়ান নং ১ ইম্পেরিয়াল ম্যাজেস্টি
বিশ্বখ্যাত সুগন্ধি বিশেষজ্ঞ রোজা ডাভ এটি তৈরি করেছেন। এই পারফিউমের আভিজাত্য ফুটে ওঠে এর স্ফটিক বা ক্রিস্টাল বোতলের মুখে বসানো ৫ ক্যারেটের সাদা হীরা এবং ১৮ ক্যারেট সোনার আবরণে। তাহিতিয়ান ভ্যানিলা, ভারতের মহীশূরের চন্দন এবং এলাচের এক অদ্ভুত সংমিশ্রণ এর ঘ্রাণকে করেছে অতুলনীয়। এই পারফিউমের খুবই সীমিত সংখ্যক বোতল প্রতিবছর তৈরি করা হয়। এর প্রতি আউন্সের মূল্য প্রায় ১২ হাজার ৭২১ ডলার।

বাকারা লে লার্ম স্যাক্রে দ্য থিবস
ফরাসি ক্রিস্টাল প্রস্তুতকারক কোম্পানি ‘বাকারা’ নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে এই সুগন্ধি বাজারে আনে। পিরামিড আকৃতির বোতলটি সম্পূর্ণ হাতে তৈরি ক্রিস্টাল দিয়ে গড়া। এর বিশেষ উপাদান হলো প্রাচীন মিসরের রাজকীয় ঘ্রাণের উৎস ‘ধূপ’ এবং সুগন্ধি আঠা। যাঁরা রাজকীয় সুবাস পছন্দ করেন, তাঁদের কাছে এটি অমূল্য এক সংগ্রহ। এর প্রতি আউন্সের মূল্য প্রায় ৬ হাজার ৮০০ ডলার।
শ্যানেল নং ৫ গ্র্যান্ড এক্সট্রেইট
ফ্যাশন ও সুগন্ধির ইতিহাসে ‘শ্যানেল’ কেবল একটি ব্র্যান্ড নয়, বরং একটি চিরন্তন আভিজাত্যের নাম। ১৯২১ সালে কোকো শ্যানেল যখন প্রথম ‘শ্যানেল নং ৫’ বাজারে আনেন, তখন থেকেই এটি নারীত্বের প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে এর ‘গ্র্যান্ড এক্সট্রেইট’ সংস্করণটি সুগন্ধিপ্রেমীদের কাছে পরম কাঙ্ক্ষিত ও বিরল প্রাপ্তি। এর প্রতিটি বোতলে ব্যবহার করা হয়েছে ফ্রান্সের গ্রাস অঞ্চল থেকে সংগৃহীত জুঁই বা জেসমিন এবং মে-রোজের শুদ্ধতম নির্যাস, যা এর ঘ্রাণকে করেছে অতুলনীয় ও দীর্ঘস্থায়ী। এর বোতলটি অত্যন্ত সাধারণ ডিজাইনের হলেও এর সূক্ষ্ম ফিনিশিং এবং ঘ্রাণের স্থায়িত্ব একে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় ও দামি পারফিউমের তালিকায় নিয়ে এসেছে। এর প্রতি আউন্সের মূল্য প্রায় ৪ হাজার ২০০ ডলার।
সূত্র: গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস, লাইফস্টাইল এশিয়া, ফ্রেগ্রেন্টিকা

প্রতিবছরই বিউটি ট্রেন্ডে যোগ হয় নতুন কিছু। নতুন পণ্য বা নতুন কোনো ট্রিকস। কিন্তু চলতি বছরে পুরোনো রূপ রুটিনই যেন তরুণদের কাছে জনপ্রিয় হতে শুরু করছে আবার। না, শুধু হারবাল পণ্যই নয়, তরুণদের রূপচর্চায় জায়গা করে নিচ্ছে ফিটকিরির মতো উপকরণও।
৩ ঘণ্টা আগে
প্যাডেল ঘুরছে, তার সঙ্গে সঙ্গে ঘুরে যাচ্ছে ইতিহাসের চাকা। কখনো তা ভাঙছে সমাজের তৈরি লোহার শিকল, কখনো আবার বদলে দিচ্ছে বিশ্ব ফ্যাশনের খতিয়ান। আজ ‘বিশ্ব সাইকেল দিবস’। এই বিশেষ দিনে সাইকেল বিষয়টিকে কেবল দুটি চাকা আর একটি ফ্রেমের বাহন হিসেবে দেখলে ভুল হবে। সাইকেল আসলে এক ‘মুক্তির যন্ত্র’।
৫ ঘণ্টা আগে
কোরবানির পর মাংস দিয়ে নানা ধরনের বিকেলের নাশতা তৈরি হয়। একদিন তৈরি করতে পারেন বিফ পাস্তা। রেসিপি ও ছবি পাঠিয়েছেন রন্ধনশিল্পী আফরোজা খানম মুক্তা।
৬ ঘণ্টা আগে
২০১২ সালে টিন্ডার নামের ‘ডেটিং’ অ্যাপটি আসার পরও মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়েছিল তার ওপর ‘মনের মতো মানুষ’ খুঁজে পাওয়ার জন্য। কিন্তু অবাস্তব সেই দুনিয়ায় মানুষকে পণ্যের মতো ব্যবহার, অবিশ্বাস, হতাশা, ডেটিং বার্ন আউট ইত্যাদি কারণে দেড় দশক না যেতেই এখন তাতে মানুষ ক্লান্ত। তারপরেও ডেটিং অ্যাপের ক্লান্তির চক্রে...
১ দিন আগে