Ajker Patrika

পুরোনো পোশাকে দিন নতুন প্রাণ: অলস পোশাক থেকেই হোক ট্রেন্ডি ফ্যাশন

ফিচার ডেস্ক
পুরোনো পোশাকে দিন নতুন প্রাণ: অলস পোশাক থেকেই হোক ট্রেন্ডি ফ্যাশন
পুরোনো পোশাককে নতুন রূপ দেওয়াকে ফ্যাশন দুনিয়ায় বলা হয় ‘আপসাইক্লিং’। এটি একটি টেকসই ও সাশ্রয়ী উপায়। এটি এখন বিশ্বজুড়ে অন্যতম জনপ্রিয় ও আধুনিক ট্রেন্ড। ছবি: পেক্সেলস

বছরের অর্ধেকটা সময় দেখতে দেখতে কেটে গেল। ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টে বছরের বাকি দিনগুলোর দিকে তাকিয়ে নিজেকে নতুন করে গুছিয়ে নেওয়ার একটা তাগিদ অনুভব করা স্বাভাবিক। এই নতুন করে গোছানোর তালিকায় সবার আগে আসতে পারে আমাদের আলমারি বা ওয়ার্ডরোব। আমাদের অনেকের আলমারির একটা বড় অংশ জুড়ে এমন কিছু পোশাক থাকে, যা বছরের পর বছর এক কোনায় পড়ে থাকে। এই পোশাকগুলো পরাও হয় না, আবার ফেলে দেওয়া বা কাউকে দিয়ে দেওয়াও হয় না। এই অলস পড়ে থাকা পোশাকগুলোকে নিয়ে কখনো একটু অন্যভাবে ভেবেছেন? পুরোনো পোশাককে নতুন রূপ দেওয়াকে ফ্যাশন দুনিয়ায় বলা হয় ‘আপসাইক্লিং’। এটি একটি টেকসই ও সাশ্রয়ী উপায়। এটি এখন বিশ্বজুড়ে অন্যতম জনপ্রিয় ও আধুনিক ট্রেন্ড। বছরের শেষার্ধে এসে নিজের ফ্যাশনকে একটু নতুনত্ব আনতে এবং পুরোনো পোশাকের অকালমৃত্যু ঠেকাতে চলুন জেনে নেওয়া যাক কিছু চমৎকার আইডিয়া।

কিছু সহজ ও সৃজনশীল স্টাইলিং

কাঁচি-সুতার জাদুতে ‘ক্রপড ব্লুজ’: একটি পুরোনো পোশাককে চমৎকার কোনো ফ্যাশন এলিমেন্টে রূপ দিতে খুব বেশি কিছুর প্রয়োজন হয় না। দরকার কেবল সামান্য সৃজনশীলতা। কোনো পোশাকের আকার যদি আপনার আর পছন্দ না হয়, তবে কাঁচি আর একটু দক্ষতার ছোঁয়ায় সেটিকে অনায়াসে বানিয়ে নিতে পারেন ট্রেন্ডি ‘ক্রপড ব্লুজ’। গরমের এই সময়ে যা অত্যন্ত আরামদায়ক ও ফ্যাশনেবল। শুধু কেটে ছোট করাই নয়, চাইলে পোশাকের হাতা কিংবা কলার বাদ দিয়ে, নিচের অংশটি গিঁট বেঁধে বা ফিটিংসে পরিবর্তন এনে একদম নতুন লুক দেওয়া সম্ভব।

ড্রেস থেকে স্কার্ট ও ব্যাগ: আপনার কোনো পুরোনো গাউন বা ড্রেসকে কেটে কোমর থেকে আলাদা করে জিপার, বোতাম কিংবা ইলাস্টিক বসিয়ে চমৎকার স্কার্টে রূপ দেওয়া যায়। ট্রাউজারের নিচের হেম বা বর্ডারে ট্যাসেল, পেন্ডেন্ট কিংবা পাথরের কাজ করলে পুরো পোশাকের ভোল বদলে যায়। কাপড়ের এই রূপান্তর কেবল পোশাকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। পুরোনো বা অব্যবহৃত কাপড় দিয়ে তৈরি করে নিতে পারেন দারুণ সব টোট ব্যাগ। এটি প্রতিদিনের কেনাকাটা কিংবা ঘুরতে যাওয়ার সঙ্গী হতে পারে।

ফ্যাশনে ডেনিম ম্যাজিক: ডেনিম কখনো পুরোনো হয় না। অলস পড়ে থাকা জিনস কেটে চমৎকার স্টাইলিশ শর্টস তৈরি করা আমাদের অনেকেরই চেনা কৌশল। তবে কাটার আগে পোশাকটি গায়ে দিয়ে কাঙ্ক্ষিত ঝুলের মাপ ঠিক করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে। কিংবা লম্বা জিনসটিকে আরও আকর্ষণীয় করতে এতে যুক্ত করা যেতে পারে নানা ধরনের স্টাড, চেইন, সিকুইন স্ট্রিপ বা কাপড়ের কিছু অংশ। শুধু জিনস নয়, আলমারিতে অবহেলায় পড়ে থাকা ডেনিম জ্যাকেটটিকেও শীত আসার আগে বানাতে পারেন আপনার সৃজনশীলতার ক্যানভাস। সাধারণ একটি ডেনিম জ্যাকেটে পাথরের নকশা কিংবা কাপড়ের অ্যাপ্লিক বসিয়ে দিলে তা নিমেষে হয়ে উঠবে অন্যরকম।

লম্বা জিনসটিকে আরও আকর্ষণীয় করতে এতে যুক্ত করা যেতে পারে নানা ধরনের স্টাড, চেইন, সিকুইন স্ট্রিপ বা কাপড়ের কিছু অংশ। ছবি: সংগৃহীত
লম্বা জিনসটিকে আরও আকর্ষণীয় করতে এতে যুক্ত করা যেতে পারে নানা ধরনের স্টাড, চেইন, সিকুইন স্ট্রিপ বা কাপড়ের কিছু অংশ। ছবি: সংগৃহীত

পোশাকের ভিন্নধর্মী ব্যবহার এবং নিরীক্ষা

কাটাকুটি ছাড়াও পোশাকের ব্যবহারে ভিন্নতা এনেও চমক তৈরি করা সম্ভব; যেমন আলমারিতে পড়ে থাকা পুরুষদের ঢিলেঢালা ফরমাল শার্টের ওপর একটি সুন্দর বেল্ট বেঁধে নিলেই তা হয়ে যেতে পারে চমৎকার একটি ‘শেমাইজ ড্রেস’। কাপড়ের ধরন যদি হালকা আর রং কিছুটা হালকা হয়, তবে সেটিকে সমুদ্রসৈকতে বা ঘুরতে যাওয়ার জন্য ‘বিচ ওভার-কোট’ বা কভার-আপ হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এই শার্টগুলোর লুক পুরোপুরি বদলে দিতে আরও একটি সহজ উপায় হলো, এর বোতামগুলো পরিবর্তন করা। সাধারণ প্লাস্টিকের বোতামের বদলে কাঠ, মেটাল বা রঙিন বাহারি বোতাম ব্যবহার করলে পোশাকে একধরনের আভিজাত্য চলে আসে। এ ছাড়া পোশাকে যদি একটু রোমান্টিক বা ক্ল্যাসিক ছোঁয়া পেতে চান, তবে চিরসবুজ ক্রোশে বা কুশিকাটার অ্যাপ্লিক ব্যবহার করতে পারেন শার্ট বা গলার নকশায়।

আমরা যখন পুরোনো কাপড়কেই নতুন রূপ দিয়ে ব্যবহার করি, তখন পোশাকশিল্পের জন্য নতুন কাঁচামাল ও সম্পদের চাহিদাও উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসে। ছবি: পেক্সেলস
আমরা যখন পুরোনো কাপড়কেই নতুন রূপ দিয়ে ব্যবহার করি, তখন পোশাকশিল্পের জন্য নতুন কাঁচামাল ও সম্পদের চাহিদাও উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসে। ছবি: পেক্সেলস

ফ্যাশনে আপসাইক্লিং কেন করবেন

পকেটের সাশ্রয় ও মিতব্যয়িতা: নতুন পোশাক কেনার চেয়ে নিজের আলমারিতে থাকা পুরোনো পোশাক কিংবা খুব কম দামে কেনা সেকেন্ড হ্যান্ড পোশাককে আপসাইকেল করা অনেক বেশি সাশ্রয়ী। এটি কোনো অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই ফ্যাশনে নতুনত্ব আনার সবচেয়ে সহজ উপায়।

পরিবেশের সুরক্ষা ও বর্জ্য হ্রাস: আমাদের ফেলে দেওয়া অসংখ্য পুরোনো পোশাক শেষ পর্যন্ত ল্যান্ডফিল বা আবর্জনার স্তূপে জমা হয়। যেহেতু বর্তমানের বেশির ভাগ পোশাকই প্লাস্টিক বা কৃত্রিম তন্তু দিয়ে তৈরি, তাই এগুলো সহজে মাটিতে মিশে যায় না। আপসাইক্লিংয়ের মাধ্যমে আমরা এই দূষণ অনেকাংশে কমিয়ে আনতে পারি।

কাঁচামালের অপচয় রোধ: ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন পোশাক তৈরির জন্য বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক ও রাসায়নিক কাঁচামালের প্রয়োজন হয়। আমরা যখন পুরোনো কাপড়কেই নতুন রূপ দিয়ে ব্যবহার করি, তখন পোশাকশিল্পের জন্য নতুন কাঁচামাল ও সম্পদের চাহিদাও উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসে।

সূত্র: শোবিজ ডেইলি, ফ্যাশন জার্নাল

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত