দাম্পত্য সম্পর্ক

বিয়ে মানে কি কেবলই একই ছাদের নিচে থাকা, দায়িত্ব পালন ও সংসার চালানো? দীর্ঘদিন ধরে সংসার করছেন এমন দম্পতিদের মনে এ প্রশ্ন প্রায়ই উঁকি দেয়। শুরুর সেই টানটান উত্তেজনা, ফোন বাজলে বুকের ভেতর সেই প্রজাপতি ওড়ার অনুভূতি কিংবা ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলা—সবই যেন সময়ের ধুলায় ঢাকা পড়ে যায়। মনোবিজ্ঞানের ভাষায় এই অবস্থাকে বলা হয় ম্যারেজ ইনকরপোরেটেড। এই অবস্থায় স্বামী-স্ত্রী একে অপরের প্রেমিক-প্রেমিকা হয়ে ওঠার চেয়েও বেশি হয়ে ওঠেন দক্ষ বিজনেস পার্টনার। কিন্তু এই একঘেয়েমি ভেঙে কীভাবে পুরোনো সেই রোমাঞ্চ ফিরিয়ে আনা সম্ভব—এ প্রশ্নের উত্তর অনেকেই খুঁজে বেড়ান। এ থেকে মুক্তির উপায়ই বা কী?
ম্যারেজ ইনকরডোরেটেড আসলে কী
দীর্ঘদিনের সংসারজীবনে যখন দম্পতিরা ক্যারিয়ার, সন্তানের পড়াশোনা, বিভিন্ন কিস্তি আর সংসারের বাজার ও অন্যান্য কাজ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন, তখন নিজেদের অজান্তেই তাঁরা একধরনের করপোরেট প্রতিষ্ঠানের মতো চলতে শুরু করেন। একে অপরকে সময় দেওয়ার চেয়ে বরং সংসার নামক প্রতিষ্ঠানটিকে টিকিয়ে রাখাই মুখ্য বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র ৮ শতাংশ দম্পতি বিবাহের অনেক বছর পরও শুরুর সেই প্রেমে পড়ার অনুভূতি ধরে রাখতে পারেন। বাকিরা নেহাতই অভ্যাসের জালে আটকা পড়েন।
হারানো রোমাঞ্চ ফেরানোর কিছু কৌশল
আপনার বর্তমান সম্পর্ক আবার সজীব করে তুলতে কিছু পদক্ষেপ দারুণ কার্যকর হতে পারে—
সচেতনভাবে সমস্যাটিকে স্বীকার করুন
যেকোনো পরিবর্তনের প্রথম ধাপ হলো সমস্যাটি বুঝতে পারা। নিজেকেই প্রশ্ন করুন, আপনি কি কেবলই সংসারের দায়িত্ব ভাগ করে নিচ্ছেন? শেষ কবে মন খুলে আপনারা কথা বলেছেন? সম্পর্কের এই ব্যবসায়িক রূপটি বদলে ফেলার জন্য দুজনেই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন। সঙ্গীকে কেবল স্বামী বা স্ত্রী হিসেবে নয়; বরং একজন মানুষ হিসেবে গুরুত্ব দিন।
নতুনত্বের সন্ধান
শুরুতে প্রেমে পড়া সহজ ছিল। কারণ তখন সবকিছুই ছিল নতুন। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আমরা সঙ্গীকে বোরিং ভাবতে শুরু করি। কিন্তু আসলে সঙ্গী বোরিং নন; বরং আমরা তাঁকে দেখতে দেখতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। মনোবিজ্ঞান বলে, নতুনত্ব হলো সম্পর্কের সেরা টনিক। সোফায় বসে টিভি দেখা বা ফোন স্ক্রল না করে একে অপরের দিকে নতুন চোখে তাকান। তাঁর কোন গুণটি আপনাকে প্রথম আকৃষ্ট করেছিল, তা মনে করার চেষ্টা করুন।
ডেটিং ফিরিয়ে আনুন
বিবাহের অনেক বছর হয়ে গেছে বলে ডেটিং বন্ধ করে দেবেন না। নিয়মিত ডেট নাইট বা বাইরে খেতে যাওয়ার পরিকল্পনা করুন। একে অপরের কথা শোনার জন্য সময় রাখুন। গবেষণায় দেখা গেছে, যখন আমরা সঙ্গীর সঙ্গে নতুন কিছু করি, তখন তাঁকে আমাদের কাছে আরও বেশি আকর্ষণীয় মনে হয়।
অ্যাডভেঞ্চার এবং রোমাঞ্চের পরিকল্পনা
একঘেয়েমি কাটাতে মাঝেমধ্যে ছোটখাটো ভ্রমণে চলে যান। সেটি হতে পারে শহর থেকে দূরে কোনো নিরিবিলি রিসোর্ট বা কোনো পাহাড়ের চূড়ায়। নতুন পরিবেশে মানুষের মন সতেজ থাকে এবং সঙ্গীর প্রতি আকর্ষণ বাড়ে। একসঙ্গে হাইকিং বা নৌকা চালানোর মতো রোমাঞ্চকর কিছু করা সম্পর্কের মধ্যকার জড়তা কাটিয়ে দেয় এবং একে অপরের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ায়।
পাওয়ার চেয়ে দেওয়াতেই বেশি মনোযোগ দিন
আমরা প্রায়ই ভাবি, ‘ও তো আমার জন্য এটা করল না।’ এ চিন্তা বদলে ভাবুন, আপনি কীভাবে তাঁকে সুখী করতে পারেন। তাঁকে সারপ্রাইজ দিন, ছোট কোনো উপহার বা হাতে লেখা চিরকুট তাঁর টেবিলে রেখে দিন। মনে রাখবেন, আকর্ষণ বা প্যাশন নিজে নিজে তৈরি হয় না; একে সচেতনভাবে চর্চা করতে হয়।
বিবাহ মানেই রোমাঞ্চের সমাপ্তি নয়। আপনার সঙ্গীকে প্রতিদিন একটু একটু করে নতুন করে আবিষ্কার করুন। মনে রাখবেন, আপনি যাঁর সঙ্গে আজীবন থাকার অঙ্গীকার করেছেন, তিনি এখনো সেই একই আকর্ষণীয় মানুষ। প্রয়োজন শুধু তাঁকে দেখার সেই পুরোনো দৃষ্টিটি ফিরিয়ে আনা।
সূত্র: গটম্যান ও অন্যান্য

ঘরের কাজ করতে জানা শিশুদের জীবনে সফল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। শৈশব মানে শুধু খেলাধুলা বা পড়াশোনা নয়; বরং এটি ভবিষ্যৎ জীবনের ভিত্তি গড়ার উপযুক্ত সময়। সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণা, বিশেষ করে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘ ৭৫ বছরের একটি গবেষণা থেকে পাওয়া গেছে একটি ভিন্ন সম্ভাবনার কথা। গবেষণার ফলাফলে দাবি...
৮ ঘণ্টা আগে
মনোযোগ বা অ্যাটেনশন হলো একটি মানসিক প্রক্রিয়া। মনোযোগের অভাব মানেই আপনি ব্যর্থ নন। এর অভাব একটি সংকেত। এই সংকেত দেখা দিলেই বুঝতে হবে, আপনার শরীর ও মন কিছুটা বিশ্রাম বা বাড়তি যত্নের কথা বলছে। ছোট ছোট অভ্যাস পরিবর্তন করে এবং প্রয়োজনে পেশাদার মনোবিদের সাহায্য নিয়ে পুনরায় মনোযোগ ফিরে পাওয়া যেতে পারে...
১০ ঘণ্টা আগে
আজ আপনার তেজ দেখে মনে হতে পারে আপনিই দুনিয়ার একমাত্র ‘অ্যাকশন হিরো’। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের পেশি দেখে আপনি মুগ্ধ হতে পারেন, কিন্তু সাবধান! আপনার এই বেপরোয়া আচরণের চোটে কোনো নিরীহ বন্ধু বা ছোট ভাই বিপদে পড়তে পারে।
১১ ঘণ্টা আগে
সবার জীবনের গতিপথ ভিন্ন। কারও জন্য যা বড় অর্জন, অন্যের জন্য তা মনে হতে পারে নিছকই বিলাসিতা। জীবনে ৩০ বা ৩৫ বছর বয়সকে আমরা একটা মাইলফলক হিসেবে ধরে থাকি। এই সময়ের মধ্যে নিজের এবং নিজের মনের খোরাক মেটাতে আসলে কী কী করতে পারি? সাম্প্রতিক সময়ে এটি বেশ জনপ্রিয় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। জীবন আপনার...
১২ ঘণ্টা আগে