Ajker Patrika

মাথার ত্বকের চুলকানির ঘরোয়া সমাধান

ফিচার ডেস্ক
মাথার ত্বকের চুলকানির ঘরোয়া সমাধান
ছবি: পেক্সেলস

মাথার ত্বকে চুলকানি বা ‘ইচি স্ক্যাল্প’ খুবই সাধারণ, কিন্তু বিরক্তিকর একটি সমস্যা। খুশকি, উকুন, অতিরিক্ত শুষ্কতা কিংবা ঘাম থেকে হওয়া ছত্রাক সংক্রমণের কারণে এই সমস্যা হয়ে থাকে। অনেক সময় চুলকানি এতটাই বেড়ে যায় যে, স্বাভাবিক জীবনধারা ব্যাহত হয়। তবে বাজারের দামি রাসায়নিক পণ্যের ওপর নির্ভর না করে আপনার হাতের কাছে থাকা পরিচিত কিছু প্রাকৃতিক উপাদান দিয়েই এই সমস্যার সমাধান সম্ভব।

আপেল সিডার ভিনেগার

অনেক আগে থেকেই বিভিন্ন সংক্রমণের চিকিৎসায় আপেল সিডার ভিনেগার ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল এজেন্ট মাথার ত্বকের পিএইচ ভারসাম্য বজায় রাখে। ১: ১ অনুপাতে পানি ও অর্গানিক আপেল সিডার ভিনেগার মিশিয়ে সপ্তাহে কয়েকবার মাথায় লাগালে চুলকানি দ্রুত কমে। তবে ব্যবহারের কয়েক মিনিট পর অবশ্যই খুব ভালো করে পানি দিয়ে মাথা ধুয়ে ফেলবেন।

নারকেল তেল

বিশুদ্ধ নারকেল তেলে থাকা ল্যারিক অ্যাসিড ত্বকের গভীরে গিয়ে আর্দ্রতা জোগায়। এর অ্যান্টি-ফাঙ্গাল ও অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল গুণাগুণ মাথার ত্বকের প্রদাহ কমায়। নারকেল তেল উকুনের সমস্যা ও চুলকানি সমাধানে প্রচলিত ওষুধের চেয়েও দ্রুত কাজ করে। এটি স্ক্যাল্পকে ঠান্ডা রাখে ও চুলকে করে উজ্জ্বল।

পিপারমিন্ট বা পুদিনার তেল

মাথার ত্বকের চুলকানি কমাতে পিপারমিন্ট খুবই কার্যকর। অলিভ অয়েলের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা পিপারমিন্ট অয়েল মিশিয়ে ম্যাসাজ করে কিছুক্ষণ পর শ্যাম্পু করে ফেলুন। নিয়মিত দুই সপ্তাহ এই তেল ব্যবহারে চুলকানির সমস্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এটি মাথার ত্বকে একটি শীতল অনুভূতি দেয়, যা তাৎক্ষণিক আরাম দেয়।

টি ট্রি অয়েল

এটি একটি শক্তিশালী প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে কাজ করে। এটি সরাসরি ব্যবহার না করে আপনার নিয়মিত শ্যাম্পুর সঙ্গে ১০-২০ ফোঁটা মিশিয়ে ব্যবহার করুন। এটি মাথার ত্বকের ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে গোঁড়া থেকে চুলকানি নির্মূল করে।

ছবি: পেক্সেলস
ছবি: পেক্সেলস

মেডিকেটেড শ্যাম্পু ও স্যালিসাইলিক অ্যাসিড

তীব্র চুলকানি ও সোরিয়াসিসের ক্ষেত্রে স্যালিসাইলিক অ্যাসিডযুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি মাথার ত্বকের মৃতকোষ সরিয়ে ফেলে ত্বককে সতেজ রাখে।

সেলেনিয়াম সালফাইড

যাঁদের মাথার ত্বকে সেবোরিক ডার্মাটাইটিস আছে, তাঁদের জন্য সেলেনিয়াম সালফাইডযুক্ত শ্যাম্পু জাদুর মতো কাজ করে। তবে এটি ব্যবহারের সঠিক নিয়ম জানতে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

মেডিটেশন

অতিরিক্ত মানসিক চাপ মাথার ত্বকের সংবেদনশীলতা বাড়িয়ে দেয়। নিয়মিত ধ্যান বা মেডিটেশন সোরিয়াসিসের মতো চর্মরোগের লক্ষণগুলো কমিয়ে আনতে সাহায্য করে। মন শান্ত থাকলে শরীরের প্রদাহ কমে, যা পরোক্ষভাবে ত্বকের দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা সমাধানে কাজ করে।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন

ঘরোয়া পদ্ধতি সব সময় কার্যকর নাও হতে পারে। নিচের পরিস্থিতিগুলো দেখা দিলে দ্রুত চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে:

দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা: যদি ঘরোয়া প্রতিকারের পরেও চুলকানি এক সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয়।

সংক্রমণ: মাথার ত্বকে অস্বাভাবিক লালচে ভাব, পুঁজযুক্ত ক্ষত, ফুসকুড়ি কিংবা চামড়া উঠে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিলে এটি ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশনের সংকেত হতে পারে।

অনিদ্রা: চুলকানির তীব্রতা যদি এতটাই বেশি হয় যে, আপনার দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হয় কিংবা রাতে স্বাভাবিক ঘুমে বাধা দেয়।

ব্যথা ও ফোলা ভাব: মাথার ত্বকের কোনো নির্দিষ্ট অংশ ফুলে গেলে, স্পর্শ করলে ব্যথা লাগলে কিংবা ঘাড়ের পেছনের গ্রন্থি ফুলে উঠলে দ্রুত ব্যবস্থা নিন।

চুল পড়া: চুলকানির সঙ্গে যদি অস্বাভাবিক হারে চুল ঝরতে শুরু করে।

মনে রাখবেন, ভুল চিকিৎসায় সমস্যা আরও জটিল হতে পারে। তাই সঠিক সময়ে সঠিক রোগ নির্ণয়ই পারে আপনার মাথার ত্বক ও চুলের দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি রোধ করতে।

সূত্র: হেলথলাইন ও অন্যান্য

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

যশোরে খোদ বিচারকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা, বাদী গ্রেপ্তার

সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী গ্রেপ্তার, নেওয়া হয়েছে ডিবি কার্যালয়ে

ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, যুদ্ধ বন্ধে ইরানের পাল্টা ১০ দফা

সরকারের প্রথম একনেক সভায় ৪৮৩.৪৩ কোটি টাকার পাঁচ প্রকল্প অনুমোদন

খাবারের জন্য রক্ত বিক্রি করা এই বিলিয়নিয়ারের জীবনের ৬ শিক্ষা

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত