
উদ্ভিদ আমাদের ঘরের অনুভূতিতে এক বিশেষ উপাদান যুক্ত করে। যাঁরা একটু শৌখিন, তাঁরা নিজেদের বাসা বিভিন্ন জিনিস দিয়ে গুছিয়ে রাখতে ভালোবাসেন। গৃহস্থালি উদ্ভিদ বা হাউস প্ল্যান্ট নিঃসন্দেহে ঘরের সৌন্দর্য ও সজীবতা বাড়িয়ে তোলে। প্রাণী ও গাছপালা ভালোবাসেন এমন অনেক মানুষ আছেন। তাঁদের জানা থাকা দরকার যে, অনেক ইনডোর প্ল্যান্ট আছে, যেগুলো আপনার আদরের পোষা প্রাণীর ক্ষতি করতে পারে।
তাই বাসায় পোষা প্রাণী থাকলে ইনডোর প্ল্যান্ট বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে।
অনেক প্রজাতির হাজার হাজার উদ্ভিদ রয়েছে; পোষা কুকুর, বিড়াল কিংবা পাখি যেগুলোর সংস্পর্শে গেলে বা কোনোভাবে ফুল অথবা ফল খেলে তাদের ক্ষতি হতে পারে। এই ক্ষতি উদ্ভিদ ও প্রাণী ভেদে হালকা, গুরুতর এবং কিছু ক্ষেত্রে প্রাণঘাতীও হতে পারে। যদি আপনার বাড়িতে পোষা প্রাণী থাকে, তবে যেকোনো গাছ দিয়ে ঘর সাজানোর আগে একজন পেশাদার পশুচিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার চেষ্টা করুন।

অত্যন্ত বিষাক্ত উদ্ভিদ
কিছু উদ্ভিদ আছে, যেগুলো পোষা প্রাণীর জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—
সেগো পাম বা সাগু সাইকাস: এই উদ্ভিদে সাইকাসিন নামের একটি বিষাক্ত পদার্থ থাকে। এটি প্রাণীর লিভারের ক্ষতি করতে পারে। এর পুরো গাছ; বিশেষ করে বীজ, অনেক ক্ষেত্রে প্রাণীর মৃত্যু ঘটাতে পারে। লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে বমি, লিভার ফেইলিওর এবং রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা। এই উদ্ভিদের পাতাগুলো অনেক ধারালো হয়।
ফ্লেম লিলি: অধিকাংশ লিলি প্রজাতির মতো ফ্লেম লিলিও আপনার পোষা প্রাণীর জন্য বিপজ্জনক; বিশেষ করে বিড়ালের জন্য এটি মারাত্মক বিপদ ডেকে আনে। এর বাংলা নাম উলট চণ্ডাল। এই লিলির পুরো অংশ পোষা প্রাণীর জন্য বিষাক্ত। এতে কলচিসিন অ্যালকালয়েড থাকে। এই গাছ খেলে আপনার পোষা প্রাণীর অতিরিক্ত লালা ঝরা, রক্ত মিশ্রিত বমি ও ডায়রিয়া হতে পারে। এটি কিডনি ফেইলিওর এবং পক্ষাঘাতের সমস্যার দিকে নিয়ে যেতে পারে। এ ছাড়া এই গাছ শক, লিভারের ক্ষতি, অস্থিমজ্জা ক্ষতি, এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে মৃত্যু ঘটাতে পারে।

ডেজার্ট রোজ: এটি অ্যাডেনিয়াম ওবেসাম বা মরুভূমির গোলাপ নামে পরিচিত। কাণ্ডসহ এই গাছের পুরো অংশ বিষাক্ত। এতে থাকা ডিগক্সিন নামক যৌগটি বমি, ডায়রিয়া ও অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন সৃষ্টি করে।
কম বিষাক্ত বা উত্তেজক উদ্ভিদ
কিছু গাছ আছে, যা পোষা প্রাণীর শরীরে জ্বালা বা সাময়িক অসুস্থতা তৈরি করতে পারে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—
অ্যালোভেরা: অ্যালোভেরার পাল্প বা রস কুকুরের জন্য বিষাক্ত। এই বিষাক্ততার লক্ষণগুলোর মধ্যে আছে কুকুরের বমি, বিষণ্নতা ও ডায়রিয়া।

ডিফেনবাকিয়া: এই গাছ বোবা বেত বা লেপার্ড লিলি নামে পরিচিত। পরিচিত এই গাছের যেকোনো অংশ বিড়াল ও কুকুরের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। এর যেকোনো অংশেই অদ্রবণীয় ক্যালসিয়াম অক্সালেটস থাকে। এর কারণে কুকুর বা বিড়ালের অতিরিক্ত লালা ঝরা, খাবার গিলতে অসুবিধা হওয়া এবং মুখ, ঠোঁট ও জিহ্বায় জ্বালা হয়।
গোল্ডেন পোথোস ও ফিলোডেনড্রন: এই গাছ দুটি মূলত মানি প্ল্যান্ট। এরা একই প্রজাতির উদ্ভিদ। এর মধ্যে ফিলোডেনড্রন সপুষ্পক। এগুলো অনেকের বাসায় থাকে। এই দুটি গাছও ক্যালসিয়াম অক্সালেটসের উপস্থিতির কারণে মুখে জ্বালা, লালা ঝরা এবং খাবার গিলতে অসুবিধার মতো হালকা উপসর্গ তৈরি করতে পারে।
পেইয়োট: ক্যাকটাস গোত্রের এই উদ্ভিদ কুকুরের জন্য বিষাক্ত। এতে থাকা মেস্কালিন বমি, ডায়রিয়া এবং পোষা প্রাণীদের মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন ঘটাতে পারে।
পোষা প্রাণীর সুরক্ষায় করণীয়
পোষা প্রাণী থাকলে ঘরে গাছ রাখার আগে সব সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন। যেকোনো গাছ এদের নাগালের বাইরে রাখুন। কোনো গাছ এদের জন্য বিষাক্ত বিবেচিত হলে বাসা থেকে সরিয়ে রাখুন। যদি কোনো পোষা প্রাণী বিষাক্ত কিছু খেয়ে ফেলে বলে সন্দেহ হয়, তবে তাৎক্ষণিকভাবে পশুচিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
সূত্র: পিপলস ডিসপেনসারি ফর সিক অ্যানিমেলস, স্টার্স ইনসাইডার

ব্রিটানিকার মতো কিছু সূত্রে জানা যায়, প্রাচীন রোমান উৎসব লুপারকালিয়াকে কিছু গবেষক ভ্যালেন্টাইনস ডের মূল বলে মনে করেন। খ্রিষ্টপূর্ব সময়ে, ফেব্রুয়ারি মাস ছিল প্রাচীন রোমে একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। ১৩ থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি সেখানকার মানুষ উদ্যাপন করত লুপারকালিয়া নামের এক উর্বরতা উৎসব। তবে এটি একই...
১১ ঘণ্টা আগে
লং ডিসটেন্স রিলেশনশিপ বা দীর্ঘ দূরত্বের প্রেমের সম্পর্ক নতুন কিছু নয়। চাকরি বা পড়াশোনাসহ বিভিন্ন কারণে মানুষ দীর্ঘ দূরত্বের প্রেমের জীবন অনিচ্ছা সত্ত্বেও কখনো কখনো বেছে নেয়। যদিও এখানে সম্পর্ক ক্রমেই সাধারণভাবে গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হচ্ছে, তবু এ ধরনের সম্পর্কে সহজে সবাই জড়াতে চায় না।
১৮ ঘণ্টা আগে
আজ ফাল্গুনের ১ তারিখ। মানে বসন্তের প্রথম দিন। এই দিন বাসন্তী রঙের পোশাক পরে তো ঘুরে বেড়াবেনই, নিশ্চয় খাবার টেবিলেও থাকবে রকমারি আয়োজন। আজকের রাতের ভোজে সাধারণ পোলাও না রেঁধে রান্না করতে পারেন বাসন্তী পোলাও। রেসিপি ও ছবি পাঠিয়েছেন রন্ধনশিল্পী আফরোজা খানম মুক্তা।
১৮ ঘণ্টা আগে
ভালোবাসার অনুভূতি সবার হৃদয়ে এক হলেও তা প্রকাশের ধরন আলাদা। কেউ হয়তো দিনভর ভালোবাসার কথা শুনতে পছন্দ করেন, আবার কেউ চান, সঙ্গী তাঁর কাজে একটু সাহায্য করুক। ঠিক এখানেই জন্ম নেয় ‘লাভ ল্যাঙ্গুয়েজ’ বা ভালোবাসার ভাষা। ১৯৯২ সালে ড. গ্যারি চ্যাপম্যান প্রথম এই ধারণা সামনে আনেন।
২০ ঘণ্টা আগে