Ajker Patrika

সামাজিক মাধ্যমে ঝড় তোলা লুটিয়াল আগলিজ আসলে কী, কখন হয়

ফিচার ডেস্ক, ঢাকা 
সামাজিক মাধ্যমে ঝড় তোলা লুটিয়াল আগলিজ আসলে কী, কখন হয়
পিরিয়ড বা মাসিক শুরু হওয়ার ঠিক আগের দিনগুলোতে নিজেদের চেহারা, মানসিক স্বাস্থ্য এবং আত্মবিশ্বাসের যে পরিবর্তন ঘটে, তাকেই ইন্টারনেটের দুনিয়ায় নাম দেওয়া হয়েছে লুটিয়াল আগলিজ। প্রতীকী ছবি: পেক্সেলস

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইদানীং ‘লুটিয়াল আগলিজ’ নামে একটি ব্যাপার চর্চায় রয়েছে। পিরিয়ড বা মাসিক শুরু হওয়ার ঠিক আগের দিনগুলোতে নিজেদের চেহারা, মানসিক স্বাস্থ্য এবং আত্মবিশ্বাসের যে পরিবর্তন ঘটে, তাকেই ইন্টারনেটের দুনিয়ায় নাম দেওয়া হয়েছে লুটিয়াল আগলিজ।

লুটিয়াল ফেজ সম্পর্কে জানুন

চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, নারীদের মাসিক চক্রের কয়েকটি ধাপ থাকে। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো লুটিয়াল ফেজ। ডিম্ব স্ফোটন বা ওভুলেশন শেষ হওয়ার পর থেকে পরবর্তী পিরিয়ড শুরু হওয়ার আগপর্যন্ত ১২ থেকে ১৪ দিনের সময়টিকে লুটিয়াল ফেজ বলা হয়। এই লুটিয়াল ফেজের শেষের দিকে নারীর শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা হঠাৎ করে অনেক নিচে নেমে যায় এবং প্রোজেস্টেরন হরমোনের আধিক্য ঘটে। হরমোনের এই তীব্র ওঠানামার কারণেই মূলত শরীর ও মনে এক অদ্ভুত পরিবর্তন আসে। এ সময় নারীরা ক্লান্তি অনুভব করেন এবং তাঁদের সৌন্দর্য খানিক ম্লান মনে হয়।

যে কারণে নিজেদের অসুন্দর মনে করেন নারীরা

হরমোনের পরিবর্তনের কারণে ত্বক নিস্তেজ বা কালচে দেখায়। প্রোজেস্টেরনের প্রভাবে ত্বকে তেলের উৎপাদন বাড়ে। এর ফলে চিবুক বা চোয়ালের চারপাশে ব্রণ ও ফুসকুড়ি দেখা দেয়। এই সময়ে শরীরে পানি জমে থাকার প্রবণতা বাড়ে। ফলে মুখমণ্ডল কিছুটা ফোলা দেখায়, স্তন ভারী ও বেদনাদায়ক হয় এবং পেট ফেঁপে থাকে। কারও কারও হঠাৎ করেই তীব্র ক্লান্তি জেঁকে বসে। অনেকে মনোযোগ হারিয়ে ফেলেন, সাধারণ শব্দ মনে করতে পারেন না এবং নিজেকে অলস বা অযোগ্য মনে করা শুরু করেন। শরীরে সেরোটোনিন বা ফিলগুড হরমোনের ঘাটতির কারণে মন বিষণ্ন থাকে এ সময়। অতীতে ঘটে যাওয়া কোনো বিব্রতকর ঘটনা বারবার মনে পড়ে এবং নিজের চেহারার ছোটখাটো খুঁতগুলো এই সময়ে বড় আকার ধারণ করে।

এটি মানসিক রোগ নয়

বিশেষজ্ঞদের মতে, লুটিয়াল আগলিজ কোনো রোগ নয়। তবে ধারণা করা হয়, এটি প্রি-মেনস্ট্রুয়াল সিনড্রোমের একটি অংশ। এটি হরমোনের উত্থান-পতনের একটি পর্যায়, যা নতুন চক্র শুরু হতেই আবার কেটে যায়।

লুটিয়াল আগলিজ হলে যা করতে পারেন

প্রতি মাসের এই কঠিন সময়কে সহজ করতে একটি পিরিয়ড ট্র্যাকিং অ্যাপ বা ডায়েরির মাধ্যমে নিজের লুটিয়াল ফেজটি চিহ্নিত করুন। এতে এ সময়ের নেতিবাচক অনুভূতিগুলো আসলে হরমোনের কারণে হচ্ছে, বাস্তবতার সঙ্গে এর সম্পর্ক নেই—এই ধারণা বিষয়ে আগে থেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকা যায়। এই সময়ে ত্বকে কড়া কোনো কেমিক্যাল কিংবা নতুন কোনো এক্সফোলিয়েটর ব্যবহার না করে সাধারণ এবং মৃদু ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করুন। চেষ্টা করুন পর্যাপ্ত পানি পান করতে। শরীর হাইড্রেটেড রাখলে ফোলা ভাব বা ব্লটিং কমে। পাশাপাশি ভালো ঘুম ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে। বড় কথা, এই দিনগুলোতে সামাজিক যোগাযোগের চাপ বা বড় কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে বিরত থাকুন। নিজেকে একটু বাড়তি সময় দিন এবং মনে রাখুন, এই মলিনতা সাময়িক এবং দ্রুতই আপনার চিরচেনা উজ্জ্বলতা আবার ফিরে আসবে।

সূত্র: বিবিসি ও অন্যান্য

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত