
সারা দিনের ক্লান্তি শেষে আমরা একটু শান্তির খোঁজে শোয়ার ঘরে যাই। কিন্তু সেই ঘর যদি সারাক্ষণ অগোছালো আর এলোমেলো থাকে, তাহলে শান্তিতে বিশ্রাম নেওয়া বা ঘুমানোও কঠিন হয়ে পড়ে। প্রতিদিন একটুখানি সচেতনতা আর সঠিক কিছু অভ্যাস আপনার শোয়ার ঘর রাখতে পারে একদম পরিপাটি। জেনে নিন সহজ টোটকাগুলো—
অনেকে সকালের তাড়াহুড়োয় বিছানা না গুছিয়ে বেরিয়ে পড়েন। ফলে দিন শেষে যখন বাড়ি ফেরেন, তখন অগোছালো বিছানা দেখলে ক্লান্তি আরও বেশি ভর করে শরীরে। দিনের শুরুতে মাত্র দুই মিনিট সময় নিয়ে বিছানাটি গুছিয়ে ফেলুন। চাদর টেনে সোজা করা, কাঁথাগুলো ভাঁজ করা আর বালিশগুলো জায়গায় রাখা—এই সামান্য কাজটুকুই আপনার পুরো ঘরের চেহারা মুহূর্তে বদলে দেবে। মাত্র এক সপ্তাহ এটি মেনে চলুন। তাতে আপনি অনেকটাই মানসিক চাপ মুক্ত থাকতে পারছেন। ঘরও পরিচ্ছন্ন দেখাবে।
প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে মাত্র ৫ মিনিট সময় দিন শোয়ার ঘরকে। চটজলদি টেবিলের ওপরের বাড়তি জিনিস, কাপ বা বইগুলো নির্দিষ্ট জায়গায় তুলে রাখুন। প্রতিদিন এই সামান্য অভ্যাসের কারণে সপ্তাহে এক দিন বড় ঝামেলার মুখোমুখি হতে হবে না। এককথায় প্রতিদিনই অগোছালো ঘর গুছিয়ে তোলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

বাইরে থেকে ফিরে কাপড় শোয়ার ঘরের বিছানায়, চেয়ার বা সোফার ওপর ছুড়ে ফেলার অভ্যাস অনেকের আছে। ময়লা কাপড় সরাসরি লন্ড্রি ঝুড়িতে রাখুন, আর পরিষ্কার কাপড় সঙ্গে সঙ্গে আলমারিতে ঝুলিয়ে দিন। চেয়ার বা বিছানার কোণে কাপড়ের পাহাড় জমতে না দিলে ঘর অনেকটাই ফাঁকা লাগবে।
ঘরে এলোমেলো ভাব বাড়ার মূল কারণ অতিরিক্ত জিনিসপত্র। যে কাপড় বা জিনিস গত এক বছরে একবারও ব্যবহার করেননি, সেগুলো দান করে দিন বা ফেলে দিন। ঘরে যত কম জিনিস থাকবে, ঘর গোছানো তত সহজ হবে।
ছোটখাটো জিনিস; যেমন রিমোট, চার্জার, কসমেটিকস বা চিরুনি টেবিলের ওপর ছড়িয়ে না রেখে সুন্দর কিছু ঝুড়ি বা স্টোরেজ বক্সে গুছিয়ে রাখুন। এতে ঘর দেখতে যেমন আধুনিক লাগে, তেমনি প্রয়োজনের সময় জিনিসগুলো সহজে খুঁজেও পাওয়া যায়।
মেঝেতে যত কম জিনিস রাখা যায়, ঘর তত বড় ও পরিচ্ছন্ন দেখায়। জুতা, ব্যাগ বা অতিরিক্ত কার্টন ঘরের মেঝেতে জমিয়ে রাখবেন না। এগুলোকে খাটের নিচে বা ওয়ার্ডরোবের ভেতর আড়াল করে রাখুন।
যাঁদের হাতে একেবারেই সময় নেই, তাঁরা চেষ্টা করুন মিনিমাল জিনিসপত্র শোয়ার ঘরে রাখতে। এতে গোছানো ও পরিচ্ছন্নতার কাজগুলো সহজ হবে। ঘরও হালকা দেখাবে। চেষ্টা করুন কম নকশার হালকা রঙের পর্দা ও বিছানার চাদর ব্যবহার করতে। এতে ঘর ছিমছাম ও বড় দেখাবে।
সপ্তাহে এক দিন শোয়ার ঘর গভীর পরিচ্ছন্ন ও গোছানোর জন্য সময় বের করুন। বিছানার চাদর বদলানো, ঝুল ও ধুলোবালি পরিষ্কার করা, আলমারি গোছানো এবং মেঝে মোছা—এই ৪টি মূল ধাপে কাজ করতে হবে। প্রতিদিনের হালকা গোছানোর বাইরে সপ্তাহের এই বিশেষ দিনে একটু বেশি সময় দিয়ে ঘর একদম ঝকঝকে করে তোলা যায়। ১০ মিনিট হাতে নিয়ে বিছানার চাদর, বালিশের কভার খুলে ফেলুন।
চাদর সরানোর পর ম্যাট্রেস বা তোশকটি একটু ঝেড়ে নিন। সম্ভব হলে ভ্যাকুয়াম ক্লিনার দিয়ে ধুলো টেনে নিন। এরপর একটি লম্বা ঝাড়ু বা সুতি কাপড় দিয়ে সিলিং ফ্যান, এসি এবং টিউবলাইটের ওপর জমে থাকা ঝুল ও ধুলো পরিষ্কার করুন। খাট, ড্রেসিং টেবিল, ওয়ার্ডরোব এবং জানালার গ্রিল একটি ভেজা কাপড় দিয়ে ভালো করে মুছে নিন। সারা সপ্তাহে তাড়াহুড়ো করে রাখা কাপড়গুলো ভাঁজ করে সঠিক জায়গায় রাখুন। ময়লা কাপড়গুলো লন্ড্রির ঝুড়িতে রেখে দিন। এরপর খাটের নিচে, আলমারির কোনায় এবং দরজার পেছনে জমে থাকা ধুলোবালি ভালো করে ঝাড়ু দিয়ে বের করুন।
পানিতে সামান্য ফ্লোর ক্লিনার বা লিকুইড অ্যান্টিসেপটিক মিশিয়ে পুরো ঘর ভালো করে মুছে নিন। এতে ঘর জীবাণুমুক্ত হবে এবং সুগন্ধ ছড়াবে। ঘর শুকিয়ে গেলে একটি পরিষ্কার ও ইস্তিরি করা সুন্দর বিছানার চাদর বিছিয়ে দিন। ঘরের পর্দাগুলো টেনে দিয়ে সামান্য রুম ফ্রেশনার স্প্রে করুন অথবা একটি সুগন্ধি মোমবাতি জ্বালিয়ে দিন।
সূত্র: অ্যাপার্টমেন্ট থেরাপি, হোম অ্যান্ড গার্ডেন ও অন্যান্য
ছবি: পেক্সেলস

ঘুমানোর আগে মোবাইল ফোনে একটু চোখ বুলিয়ে নেওয়া এখন আমাদের প্রতিদিনের অভ্যাস। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটু স্ক্রল করা, মেসেজের উত্তর দেওয়া কিংবা পরদিনের অ্যালার্ম সেট করে ফোনসেট বালিশের পাশে রেখে ঘুমিয়ে পড়ি অনেকে। কিন্তু ঘুমের সময় ফোনটি শরীরের এতটা কাছে রাখা কতটা নিরাপদ?
১ ঘণ্টা আগে
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কমতে থাকে আমাদের ত্বকের টানটান ভাব। মুখের চামড়া কুঁচকে যাওয়া ও ভাঁজ পড়া, চোখের নিচে ভাঁজ পড়া, ত্বক নির্জীব হয়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয় এ সময়। এসব সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে আজকাল অনেকে নানা ধরনের সেরাম ব্যবহার করেন।
৩ ঘণ্টা আগে
দাওয়াতে বা বিশেষ অনুষ্ঠানে যাওয়ার আগে হালকা হলেও মেকআপ তো করাই হয়। তবে মূল উদ্দেশ্য থাকে উজ্জ্বল দেখানো। তাই বিশেষ দিনগুলোয় মেকআপের আগে ত্বকে বিভিন্ন ধরনের ফেসপ্যাক ব্যবহার করেন নারীরা। এতে ত্বকে জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার হয়, সেই সঙ্গে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ে এবং ত্বক হয় মসৃণ।
৫ ঘণ্টা আগে
ব্যস্ত এবং সফল ক্যারিয়ারের মাঝেও নিজের সৌন্দর্য ও ত্বকযত্নে মারগট রবির পছন্দ বেশ সহজ-সরল স্কিন কেয়ার। সংবেদনশীল ত্বকের জন্য খুব বেশি প্রসাধনী নয়, বরং সহজ কয়েকটি অভ্যাস মেনে চলেন তিনি। নিয়মিত ক্লিনজিং, ময়শ্চারাইজিং, সানস্ক্রিন, পর্যাপ্ত ঘুম এবং ত্বকের প্রয়োজন বুঝে বাড়তি যত্ন—এই কয়েকটি অভ্যাসই তাঁর...
৭ ঘণ্টা আগে