
ঘর হলো আমাদের শান্তির আশ্রয়। যেখানে সব ক্লান্তি ভুলে স্বস্তি খুঁজি। তবে লালন করা কিছু ভুল সজ্জার কারণে অনেক সময় সেই শান্তির জায়গা অশান্ত বা বিষাদময় হয়ে উঠতে পারে। আবহাওয়ার পরিবর্তন বা ঋতুবদলের এই সময়ে তাই বেডরুমের চেনা রূপ বদলে ফেলার উপযুক্ত সুযোগ। শরতের শুরুতে তাই নতুন করে সাজিয়ে তুলুন অন্দরমহল। কিন্তু তার আগে ঘরটিকে আরও বেশি সুসংহত, আরামদায়ক ও চোখজুড়ানো করে তুলতে ঠিক কোন ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন এবং কী পরিবর্তন আনবেন, তা জেনে নিন।
ঘরের মানসিক আবহ অনেকটাই নির্ভর করে আলোর ব্যবহার ও দেয়ালের সাজের ওপর। মনে রাখবেন, ঘরের অন্যান্য জায়গায় উজ্জ্বল বা গাঢ় রঙের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চললেও শোয়ার ঘরে স্নিগ্ধ, নিরপেক্ষ শেড বেছে নেওয়াই নিরাপদ।
আয়নার জায়গা নির্বাচন
ফেং শুইয়ের মতে, ঘুমানোর সময় সরাসরি নিজের প্রতিফলন দেখা নেতিবাচক। এই তত্ত্ব হলো একটি প্রাচীন চীনা বাস্তুবিদ্যা বা পরিবেশ বিন্যাস প্রথা। এর মূল লক্ষ্য হলো ঘরের ভেতর ইতিবাচক শক্তি বা ‘চি’-এর সঠিক প্রবাহ নিশ্চিত করা এবং প্রকৃতির পাঁচ শক্তি অর্থাৎ আকাশ, মাটি, আগুন, ধাতু ও পানির ভারসাম্য বজায় রেখে জীবনে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি আনা। কিন্তু এই তত্ত্ব বাদ দিলেও নান্দনিকভাবে এটি ঘরের সৌন্দর্য নষ্ট করে। তাই আয়না বেড সাইড বা পাশের দেয়ালে ঝোলানোই ভালো।

ছবি ঝোলানোর নিয়ম
বিছানার ওপর ছবি টাঙালে তা অতিরিক্ত উঁচুতে না ঝুলিয়ে বিছানার কাছাকাছি দূরত্বে রাখুন, যাতে অনুপাত ঠিক থাকে।
আলোকসজ্জার কৌশল
ঘরের মাঝখানের সিলিং ফ্যানে লাইট লাগানো বা চোখধাঁধানো স্পটলাইটে পড়ার অভ্যাস বদলে ফেলুন। এর বদলে মানানসই উচ্চতার সুন্দর ডিজাইনের টেবিল ল্যাম্প ব্যবহার করুন। খেয়াল রাখুন বাল্ব যেন সরাসরি বাইরে বেরিয়ে না থাকে এবং আলোর তাপমাত্রা যেন আরামদায়ক হয়।
আসবাবের ভুল পরিমাপ বা অতিরিক্ত জিনিস ঘরের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করতে পারে। তাই বেডরুমের আকারের সঙ্গে আসবাবের পরিমাপ মেলা অত্যন্ত জরুরি। অতিরিক্ত বড় বা ছোট আসবাব ঘরে বেখাপ্পা দেখায়। ঘরে অতিরিক্ত আসবাব ও অগোছালো জিনিস থাকলে প্রশান্তি বিনষ্ট হয়। আবার একেবারে ফাঁকা রাখলে ঘরটিকে বরফের মতো ঠান্ডা ও শীতল মনে হতে পারে। হুবহু একই রং ও ডিজাইনের আসবাবের সেট এখন পুরোনো ফ্যাশন। বরং রঙের প্যালেট ঠিক রেখে বিভিন্ন ইউনিক আসবাবের সংমিশ্রণ ঘটালে ঘরটি আধুনিক দেখায়।
বিছানাই যেহেতু বেডরুমের মূল কেন্দ্রবিন্দু, তাই এটি গুছিয়ে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফেং শুই তত্ত্ব অনুযায়ী, বিছানাকে ঘরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বা প্রধান অবস্থানে রাখতে হবে। এটি দরজার মুখোমুখি না রেখে দরজার তির্যক বা ডায়াগনাল অবস্থানে রাখা উচিত। পাশাপাশি বিছানার মাথার অংশটি যেন ভোরের উদীয়মান সূর্যের দিকে বা পূর্ব দিকে থাকে। ফ্রেমের মাপ না দেখে বড় ম্যাট্রেস কেনা মস্ত ভুল। বড় ম্যাট্রেস চাইলে ফ্রেমও বদলে নিন। পাশাপাশি বালিশ রাখার পর হেডবোর্ড যদি ঢেকে যায়, তবে বুঝতে হবে তা ছোট। একটি দৃষ্টিনন্দন বড় হেডবোর্ড ঘরের পুরো রূপ বদলে দিতে পারে। বিছানায় ছোট বালিশ শিশুদের ঘরের জন্য ঠিক হলেও বড়দের জন্য দুটি বড় মাপের বালিশ থাকা নান্দনিক ও আরামদায়ক। তবে অলংকৃত বা ডেকোরেটিভ বালিশে তিন স্তরের বেশি ঢাকবেন না। খুব বেশি হলে বিছানা গোছানো ঝামেলার হয়ে ওঠে। পুরোনো, ক্ষয়ে যাওয়া চাদর ঘর প্রাণহীন করে তোলে। তাই এই ঋতুতে নতুন, পরিষ্কার ও সতেজ বেডিং ব্যবহার করে ঘরে আনুন ফ্রেশ অনুভূতি।
ফেং শুই শাস্ত্র অনুযায়ী, বেডরুমের দেয়াল বা ডেকোরেশনে নির্দিষ্ট কিছু রঙের ব্যবহার বিশেষ শক্তির প্রতীক হিসেবে কাজ করে।
সবুজ: গাছপালা ও প্রকৃতির প্রতীক। এটি জীবনে বিকাশ, বৃদ্ধি ও নতুন প্রাণশক্তির সূচনা নির্দেশ করে।
সাদা: শুভকামনা, ভাগ্য ও সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।
হলুদ: মন আনন্দিত ও উৎফুল্ল করে তোলে। পাশাপাশি এটি দীর্ঘায়ুর প্রতীক।
কালো: বিশ্রাম, মন শান্ত করা এবং চিন্তাভাবনার পূর্ণতা বা স্ফটিকীকরণের প্রতীক।
ঋতুবদলের এই সময়ে সামান্য কিছু ভুল শুধরে নিলেই আপনার বেডরুম ফিরে পাবে নতুন জীবন, হয়ে উঠবে প্রশান্তির আসল ঠিকানা।
সূত্র: হাউস বিউটিফুল ও অন্যান্য

সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম টিকটকে ইদানীং একটি ট্রেন্ড বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। একে বলা হচ্ছে ওর্থ দ্য মানি ট্রেন্ড। এতে ক্রিয়েটররা নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে এমন ৫টি জিনিস বা সেবার তালিকা শেয়ার করছেন, যা তাঁদের মতে ‘পয়সা উশুল’ বা ওর্থ দ্য মানি। বিলাসবহুল স্কিন কেয়ার, ডিজাইনার হ্যান্ডব্যাগ থেকে...
৩ ঘণ্টা আগে
বারবিকিউ মানেই আমাদের কাছে তা হতে হবে মুরগি কিংবা গরুর মাংস। তবে চাইলে বাড়িতে সবজি দিয়েও বারবিকিউর স্বাদে খাবার বানিয়ে খেতে পারেন। সবজিপ্রেমীদের জন্য বিবিকিউর স্মোকি, মিষ্টি ও ঝাল স্বাদের স্মোকি বিবি ক্যু সুইট পটেটো অ্যান্ড চিকপি ট্যাকো হতে পারে দারুণ একটি খাবার।
৬ ঘণ্টা আগে
ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘষাঘষি করে বাথরুম পরিষ্কার করলেন। এরপর যখন টাইলসগুলো চকচক করে উঠল, মনে হতেই পারে ঘরটি এখন একদম জীবাণুমুক্ত। কিন্তু সত্যি বলতে, দৃশ্যমান এই পরিচ্ছন্নতার পেছনেও লুকিয়ে থাকতে পারে অদৃশ্য এক অণুজীবের জগৎ। নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টারের অণুজীববিজ্ঞানী ফিলিপ তিরনোর...
৮ ঘণ্টা আগে
স্পেনের ঐতিহ্যবাহী খাবারগুলোর মধ্যে পায়েলা অন্যতম। চাল, মাংস ও সবজি দিয়ে তৈরি এই এক পাত্রের খাবারটি দেখতে কিছুটা আমাদের পোলাওয়ের মতো হলেও রান্নার ধরন ও স্বাদে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। মূলত চিকেন পায়েলা ঝামেলাবিহীন খাবার। এর একই প্যানে থাকে ভাত, সবজি ও প্রোটিনের সংমিশ্রণ। বাসমতী চাল ২ কাপ, চিকেন ৩০০...
১ দিন আগে