Ajker Patrika

মন ভালো রাখার সহজ উপায়

ফিচার ডেস্ক, ঢাকা 
আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০২৬, ১১: ৫২
মন ভালো রাখার সহজ উপায়
নিজের যত্ন নিলে একদিকে যেমন মানসিক প্রশান্তি বাড়ে, তেমনি শারীরিক শক্তিও বৃদ্ধি পায়। ছবি: পেক্সেলস

ব্যস্ত জীবন আর নানা দায়িত্বের মধ্যে আমরা প্রায়ই নিজেদের কথা ভুলে যাই। কিন্তু শরীরের মতো মনের যত্ন নেওয়াও সমান জরুরি। নিজের যত্ন নিলে একদিকে যেমন মানসিক প্রশান্তি বাড়ে, তেমনি শারীরিক শক্তিও বৃদ্ধি পায়। খাদ্য-পথ্য ও আকুপ্রেশার বিশেষজ্ঞ আলমগীর আলম বলেন, ‘মানসিক রোগকে শারীরিক রোগের মতোই গুরুত্ব দেওয়া উচিত। এটি দুর্বলতা নয়। প্রত্যেকের সমস্যা ও সমাধান ভিন্ন। তাই চিকিৎসা ব্যক্তিগতভাবে নির্ধারিত হওয়া উচিত।’

জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন

জীবনের অন্য কাজগুলোর সঙ্গে নিয়মিত ব্যায়াম যোগ করুন। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটার অভ্যাস করুন। এটি আপনার মেজাজ উন্নত করতে জাদুকরী ভূমিকা রাখবে। আর অবশ্যই সুষম খাবার ও সঠিক পরিমাণ মেনে পানি পান করতে হবে। ভালো থাকতে চাইলে নিয়ম করে পুষ্টিকর খাবার খান। অতিরিক্ত ক্যাফেইন বা কফি এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন। কারণ এটি অনেকের উদ্বেগের কারণ হতে পারে। অনেকে কাজের মধ্যে কফি খেয়ে ক্লান্তি বা ঘুম ঘুম ভাব কাটাতে চান। তবে পরিমাণের বেশি কফি পান করলে তা শরীরের ক্ষতি করতে পারে। সবকিছুর মধ্যে ঘুমকে গুরুত্ব দিন। প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর চেষ্টা করুন। ঘুমানোর আগে ফোন বা ল্যাপটপের ‘ব্লু লাইট’ এড়িয়ে চলুন। এতে দ্রুত গভীর ঘুম আসবে।

মনের প্রশান্তির জন্য যা করতে পারেন

  • মেডিটেশন, শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যায়াম বা পছন্দের কোনো গান শোনা এবং বই পড়ার জন্য সময় বের করুন।
  • সারা দিনে ভালো কী কী হয়েছে, তার একটি তালিকা করে ডায়েরিতে লিখে রাখুন। এটি জীবনের ইতিবাচক দিকগুলো দেখতে সাহায্য করবে।
  • নিজের মনের নেতিবাচক চিন্তাগুলো চিহ্নিত করুন এবং সেগুলোকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ইতিবাচক চিন্তায় রূপান্তর করুন।
  • ডায়েরি লেখার অভ্যাস করুন। নিজের অনুভূতিগুলো লিখে রাখলে মনের ভার কমে এবং দৃষ্টিভঙ্গি পরিষ্কার হয়।
  • রাতে ঘুমানোর আগে আরাম করে গোসল করলে শরীর শিথিল হয় এবং গভীর ঘুমের জন্য মন প্রস্তুত হয়।

সামাজিক ও ব্যক্তিগত ভারসাম্য

লক্ষ্য নির্ধারণ করুন। কারণ লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছাড়া জীবনের কোনো মানে নেই। লক্ষ্য নির্ধারিত থাকলে পথচলা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়। কাজের সময় প্রয়োজনে ‘না’ বলতে শিখতে হবে। সব কাজ একসঙ্গে করার চেষ্টা করবেন না। কোনটি আগে করা জরুরি, তা ঠিক করুন। অতিরিক্ত চাপের কাজে বিনয়ের সঙ্গে ‘না’ বলতে শিখুন। বর্তমান সময়ে আমরা নিজেদের পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাই কম। একাকী না থেকে বন্ধু বা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটান। মনের কথা শেয়ার করলে মানসিক বোঝা হালকা হয়।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন

খাদ্য-পথ্য ও আকুপ্রেশার বিশেষজ্ঞ আলমগীর আলম বলেন, ‘মানসিক রোগের ধরন অনেক এবং প্রতিটির চিকিৎসা ও প্রতিরক্ষার পদ্ধতি ভিন্ন। সঠিক সময়ে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ, সুস্থ জীবনযাপন এবং সামাজিক সহায়তার মাধ্যমে মানসিক সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।’ কিছু লক্ষণ টানা দুই সপ্তাহ বা তার বেশি স্থায়ী হলে একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

  • ঘুমের প্রচণ্ড সমস্যা বা সব সময় ক্লান্তি অনুভব করা।
  • খাবার রুচিতে বড় ধরনের পরিবর্তন।
  • পছন্দের কাজগুলোর প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলা।
  • মনোযোগ দিতে সমস্যা হওয়া বা খিটখিটে মেজাজ।
  • দৈনন্দিন সাধারণ কাজগুলো করতেও অক্ষমতা বোধ করা।

মনে রাখবেন, নিজের যত্ন নেওয়া কোনো বিলাসিতা নয়, বরং সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য এটি একটি প্রয়োজনীয়তা। ছোট ছোট এ পদক্ষেপ আপনার জীবনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

সূত্র: বিবিসি, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথ

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত