
আষাঢ় মাস। বৃষ্টি হচ্ছে ঠিক। আছে মেঘ। কিন্তু যখন রোদ উঠছে, সেটা সহ্য করা বেশ কঠিন হয়ে পড়ছে। এমন রোদ-বৃষ্টির লুকোচুরির দিনে বেচারা ত্বক পড়ে কঠিন অবস্থায়। একে তো প্রচুর ঘাম হচ্ছে, তার ওপর ত্বকের উপরিভাগ রোদে পুড়ে কালো ছোপ পড়ে যাচ্ছে। যাকে আমরা সানট্যান বলে থাকি। বিশেষ করে যাঁরা বাইক বা স্কুটি ব্যবহার করেন, তাঁদের ত্বকের অবস্থা খারাপ হয় বেশি।
বাইরে বের হলে মুখ, ঘাড় ও হাত-পায়ে সূর্যরশ্মি বেশি পড়ে বলে হয়তো সানস্ক্রিন মাখছেন। কিন্তু শুধু সানস্ক্রিনই কি রোদে পোড়া দাগ থেকে বাঁচাতে যথেষ্ট? সানট্যান মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণগুলো কিন্তু রয়েছে আপনার রান্নাঘরেই! নিত্যপ্রয়োজনীয় উপকরণ দিয়ে তৈরি করে ফেলতে পারেন রোদে পোড়া দাগ দূর করার কার্যকরী ফেসপ্যাক ও বডি মাস্ক।
বেসন, হলুদ ও টক দইয়ে বাজিমাত

ত্বকের ময়লা ও রোদে পোড়া ছোপ ছোপ দাগ তুলতে বেসন ভালো সমাধান। এটি ত্বক পরিষ্কারক হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে টক দইয়ে রয়েছে প্রদাহনাশক উপাদান, যা ত্বকের লালচে ভাব কমাতে সাহায্য করে। কাঁচা হলুদের গুণ সম্পর্কে আলাদা করে বলার প্রয়োজন নেই। ত্বকের রং উজ্জ্বল করতে ও ত্বক গভীর থেকে পরিষ্কার করতে হলুদ ভীষণ কার্যকরী। ত্বকের রোদে পোড়া দাগ দূর করতে ২ টেবিল চামচ টক দইয়ের সঙ্গে ১ টেবিল চামচ হলুদ ও বেসনের গুঁড়া মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করুন। এই প্যাক ত্বকে লাগিয়ে রাখুন ২০ মিনিটের মতো। শুকিয়ে এলে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এরপর ত্বকের উপযোগী ময়শ্চারাইজার লাগিয়ে নিন।
জলদি সানট্যান দূর করবে টমেটোর রস
ফ্রিজে সব সময় কি টমেটো রাখেন? তাহলে এই টিপস আপনার জন্য। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন সি সমৃদ্ধ টমেটো রোদে পোড়া দাগ দূর করে ত্বক মসৃণ করে তোলে। রস তৈরির জন্য একটি পাকা টমেটো ভালো করে ব্লেন্ড করে নিন। ছেঁকে নেওয়ার পর যে রসটুকু পাওয়া যাবে, তা রোদে পোড়া ত্বকে লাগিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। সপ্তাহে দুই দিন ব্যবহার করলে দেখবেন, ত্বক থেকে রোদে পোড়া দাগ খুব সহজে বিদায় নিচ্ছে। টমেটোর রস নিয়মিত ব্যবহার করলে ত্বকে বয়সের ছাপ পড়ে না।

দাগ ও প্রদাহ কমায় চন্দনের ফেসপ্যাক
চন্দন ত্বক ঠান্ডা রাখে। ফলে র্যাশ বা ব্রণ হয় না। পাশাপাশি এটি ত্বক থেকে রোদে পোড়া দাগ ও অন্যান্য কালো দাগ দূর করতেও খুব ভালো কাজ করে। রোদ থেকে ফিরে চন্দনের ফেসপ্যাক ব্যবহারে আরাম পাওয়া যায়। এ ফেসপ্যাক বানানোও সহজ। গোলাপজলের সঙ্গে চন্দনগুঁড়া মিশিয়ে ত্বকে ব্যবহার করতে পারেন। এ ছাড়া আমন্ড বাদাম বাটার সঙ্গে চন্দনগুঁড়া ও দুধ মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করে রোদে পোড়া ত্বকে ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যাবে। সে ক্ষেত্রে এই প্যাক ২০ মিনিট ত্বকে রেখে কুসুম গরম পানি ও নরম তোয়ালে দিয়ে রগড়ে ত্বক ধুয়ে নিতে হবে।
সান ট্যান ও মরা কোষ দূর করে চিনি ও লেবুর রসের ফেসপ্যাক
প্রায় সবার হেঁশেলে এই দুটো উপাদান পাওয়া যায়। লেবুতে রয়েছে ভিটামিন সি ও সাইট্রিক অ্যাসিড। এগুলো ত্বকের রোদে পোড়া দাগ ও অন্যান্য কালো দাগ দূর করতে খুব ভালো কাজ করে। অন্যদিকে চিনি হচ্ছে প্রাকৃতিক এক্সফোলিয়েটর, যা রোদে পোড়া দাগ দূর করে ত্বক নরম ও উজ্জ্বল করে তোলে।

মুলতানি মাটির ফেসপ্যাকে উজ্জ্বল ত্বক
মিসরের রানি ক্লিওপেট্রা থেকে শুরু করে প্রাচীন ভারতের রাজ-রাজড়াদের রূপচর্চায় মুলতানি মাটি ছিল অন্যতম উপকরণ। রোদে পোড়া দাগ থেকে মুক্তি পেতে ও ত্বক ভেতর থেকে পরিষ্কার করতে এর জুড়ি নেই। মুলতানি মাটির সঙ্গে টক দই, গোলাপজল ও মধু মিশিয়ে রোদে পোড়া অংশে ব্যবহার করুন। তারপর আধঘণ্টা রেখে ধুয়ে ফেলুন।
রোদ-বৃষ্টির এই লুকোচুরির সময়ে যত্ন নিলে ত্বকের রোদে পোড়া দাগ থেকে মুক্তি মিলবে। বাড়তি সুরক্ষার জন্য সানস্ক্রিন লোশন বা পাউডার, ছাতা ও সানগ্লাস তো রয়েছেই!
সূত্র: হেলথ লাইন, স্টাইলক্রেজ ও অন্যান্য

চলছে তরমুজের মৌসুম। সবুজ আবরণের এই ফল না হলে গ্রীষ্ম ঠিক জমে না। অবশ্য তরমুজ এখন শুধু গ্রীষ্মকালেই মেলে না; প্রায় পুরো বছর বিভিন্ন আকার ও প্রজাতির দেখা যায় বাজারে। কিন্তু মনে রাখতে হবে, এটি আসলে গরমের দিনের খাবার।
২৭ মিনিট আগে
বসন্ত বিদায় নেওয়ার পথে। বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী চৈত্র মাস মানেই ঋতু পরিবর্তনের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ। এ সময় একদিকে প্রকৃতিতে ধুলাবালুর প্রকোপ অনেক বেড়ে যায়, অন্যদিকে গুমোট গরমে খুব দ্রুত জীবাণুর বিস্তার ঘটে। তাই ঘরবাড়ি শুধু ওপর থেকে পরিষ্কার করলে চলে না, দরকার হয় ডিপ ক্লিনিংয়ের। আজকের...
১৩ ঘণ্টা আগে
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক তীব্র ভাইরাসজনিত রোগ, যা প্রধানত শিশুদের আক্রান্ত করে। তবে এটি যেকোনো বয়সেই হতে পারে। বর্তমানে হামে শিশুমৃত্যুর হার আশঙ্কাজনক। হামের ভাইরাস শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে ছড়ায় এবং এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়া। সাধারণত সংক্রমণের প্রায় ১৪ দিন পর উপসর্গগুলো...
২০ ঘণ্টা আগে
ব্যস্ত নাগরিক জীবনে আমাদের ঘরদোর প্রায়ই অগোছালো হয়ে পড়ে। কাজের চাপ, ভ্রমণ এবং বিভিন্ন ব্যস্ততার মধ্যে ঘরের যত্ন নেওয়া অনেক সময়ই অসম্ভব হয়ে পড়ে। ড্রয়িংরুমে জমে থাকা পার্সেলের স্তূপ, ড্রেসিং টেবিলে এলোমেলো প্রসাধনী কিংবা ঘরের বিভিন্ন চেয়ারে জমানো লন্ড্রির কাপড়—সব মিলিয়ে এক বিশৃঙ্খল অবস্থা সৃষ্টি...
১ দিন আগে