
ট্রেন্ডে থাকা অলংকারে ঈদের দিন না সাজলেই নয়! এবার ঈদে এক বিশেষ ধরনের অলংকার আছে ট্রেন্ডে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুরেফিরে সেই অলংকারের ছবিই ভেসে আসছে বারবার। আপনি ঠিকই ধরেছেন, ট্রেন্ডে এখন কাশ্মীরি চুড়ি আর কানের দুল। শপিং মল থেকে শুরু করে গাউছিয়ার পাইকারি বাজার সরব হয়ে উঠেছে এসব দুল আর চুড়ির ঝুনঝুন শব্দে। বাজার ছাড়িয়ে সেই শব্দ এখন অনলাইন পেজগুলোকে সরব করে তুলেছে।
■ যে দুলের সঙ্গে মিশে আছে ঐতিহ্য
এই গয়নাগুলো কাশ্মীরের ঐতিহ্যের কথা বলে। কাশ্মীরি কবিদের কবিতায় অলংকার, বিশেষ করে কানের দুল বা ঝুমকার বর্ণনা প্রায়ই উপমা হিসেবে আসে। কবিতার পঙ্ক্তিতে কাশ্মীরের স্বর্ণকারদের নিপুণ কাজ এবং সেই অলংকারের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা বিরহ ও ভালোবাসার কথা প্রায়ই ফুটে ওঠে। বেশির ভাগ দুলেই আছে জাফরান ফুল বা টিউলিপের নকশা।
এ ছাড়া অর্ধচাঁদ, তারা, পাঁচ পাপড়ির ফুল ও পাখি কিংবা ময়ূর দেখা যায়। দুলগুলোয় ঝুলে থাকা ঘুঙুর শব্দ কাশ্মীরের ঝরনা আর নদীর প্রবাহের কথা মনে করিয়ে দেয়। যে দুলগুলোর কথা বলা হচ্ছে, কাশ্মীরি ভাষায় সেগুলোকে বলে দেহুর। এর অর্থ ঝুমকা। কাশ্মীরের নারী, সংস্কৃতি ও ভালোবাসার প্রতীক এগুলো। কাশ্মীরি ঐতিহ্য অনুযায়ী দেহুর তৈরি হয় সোনা দিয়ে। এগুলো কানের লতির সঙ্গে একটি সুতা বা সোনার চেইন দিয়ে বাঁধা থাকে। এটি বিবাহিত নারীদের পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে বর্তমানে বাজারে বিক্রি হচ্ছে পিতলের ঘুঙুর দুল।
■ কাশ্মীরি দুলে সাজবেন যেভাবে
কাশ্মীরি এই দুলগুলো দীর্ঘ চেইন ডিজাইনের জন্য পরিচিত। এর এই লম্বা চেইন যেকোনো ঐতিহ্যবাহী পোশাকে রাজকীয় ভাব নিয়ে আসে। এগুলো মূলত সিল্কের শাড়ি, আনারকলি সালোয়ার-কামিজ বা লেহেঙ্গার সঙ্গে ভালো মানায়। কানে চেইনের ডিজাইনটি সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলতে চুল টেনে পেছনে খোঁপা বা উঁচু পনিটেইল করে পরতে পারেন।
যদি শাড়ির সঙ্গে এগুলো পরেন, তাহলে সঙ্গে গলায় হালকা গয়না পরা যেতে পারে। ভারী ঝুমকা পরলে গলায় কোনো গয়না না পরা বা খুব সাধারণ চেইন পরা ভালো, যাতে কানের দুলগুলো প্রধান আকর্ষণ হয়ে থাকবে। ইন্দো-ওয়েস্টার্ন ড্রেস বা কুর্তার সঙ্গে ছোট বা অক্সিডাইজড মেটালের কাশ্মীরি ঝুমকা পরে ক্যাজুয়াল কিন্তু স্টাইলিশ লুক তৈরি করতে পারেন।
■ যেখানে পাবেন ও দামদর
ঢাকার বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্সের মতো বড় মার্কেট থেকে শুরু করে গাউছিয়ার অলংকারের দোকানে এগুলো পেয়ে যাবেন। অক্সিডাইজের গয়না ছাপিয়ে বাজার দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এই দুল। বাজারে এগুলোর দাম শুরু হয়েছে ৭০০ টাকা থেকে। এর ভারিক্কি আর লেয়ারের ওপরে ভিত্তি করে দাম পড়বে ১ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত। অনলাইনের বিভিন্ন পেজেও একই রকম দাম। তবে দেখে নেওয়ার সুযোগ থাকলে কোয়ালিটি বুঝে নেওয়া ভালো।
■ যত্নআত্তি
দোকানিদের দাবি, এই দুলগুলোর রং উঠবে না। তবে রাখতে হবে খুব সাবধানে তুলা কিংবা টিস্যু দিয়ে পেঁচিয়ে বায়ুরোধী বাক্সে রাখলে এরা ভালো থাকবে। এই দুলগুলোর ওপরে সুগন্ধি স্প্রে করবেন না। আর অবশ্যই পানি থেকে দূরে রাখবেন।
■ কাশ্মীরি ঘুঙুর চুড়ি
এবারের ঈদে কাচের চুড়ি ভিন্ন রূপে ফিরে এসেছে। সেখানে ফুটে উঠেছে বিভিন্ন নকশা। সোনালি রঙের গ্লিটার দিয়ে নকশা করা চুড়ির নাম চুমকি। আবার ছোট ছোট চাঁদ আর পাতা দিয়ে নকশা করা হয়েছে খাঁজকাটা কাচের চুড়ির ওপর—এর নাম চান চুড়ি। ট্রেন্ড হলো এই চুড়িগুলো পরতে হবে কাশ্মীরি ঘুঙুর চুড়ির সঙ্গে। সোনালি ও রুপালি রঙের এই ধাতব চুড়িগুলোয় নির্দিষ্ট প্যাটার্নে বসানো আছে ঝুনঝুনি। ঘুঙুর বা ঝুনঝুনির শব্দ ভালো না লাগলে সেগুলো ছাড়াও চুড়ি পাওয়া যাবে।
■ দামদর
বাজারে এখন দুই ধরনের ঘুঙুর চুড়ি পাওয়া যাচ্ছে। এর একটি রুপালি রঙের ধাতব কাশ্মীরি চুড়ি। এগুলো বিক্রি হচ্ছে ৪০০-৭৫০ টাকার মধ্যে। কাশ্মীরি ঘুঙুর চুড়ি থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে বানানো চুড়িও আছে, সেগুলোর দাম কম। ঢাকার গাউছিয়ার মতো বাজারে সেগুলো পাওয়া যাবে ২০০ টাকার মধ্যে। নকশা করা কাচের চুড়িগুলো নকশাভেদে ২০০-৫০০ টাকা ডজন হিসেবে বিক্রি হচ্ছে অনলাইন ও বাজার—দুই জায়গাতেই।

প্রযুক্তির ছোঁয়ায় আমাদের দৈনন্দিন জীবন এখন অনেকটাই স্ক্রিননির্ভর। বাজার করার তালিকা বানানো থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ নোট—সবকিছুতেই আমাদের আঙুল চলে কি-বোর্ডের ওপর। তবে সম্প্রতি মনস্তত্ত্ব ও নিউরোসায়েন্সের গবেষণায় দেখা গেছে, কম্পিউটারে টাইপ করার চেয়ে হাত দিয়ে লেখার মধ্যে মস্তিষ্কের এক দারুণ ক্ষমতা
১ ঘণ্টা আগে
আবহাওয়ার বদল কিংবা দিন শেষে ক্লান্ত মন নিয়ে একটি ভিন্ন স্বাদের কিছু খেতে ইচ্ছা করে অনেকের। সব সময় একই নুডলস না খেয়ে একটু ভিন্ন কিছুর স্বাদ তো নেওয়াই যায়। সেখানে যদি আদা-রসুনের সুবাস এবং হালকা ঝালের এক অপূর্ব মিশ্রণ ঘটে, তবে তো কথায় নেই।
৩ ঘণ্টা আগে
প্রেমের সম্পর্কে আসা মানেই যেন সম্পর্কের রং চেনার এক নিরন্তর খেলা। সম্পর্কের নীল আকাশে যেমন কখনো কখনো লাল সতর্কবার্তা থমকে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দেয়, তেমনি কিছু ক্ষেত্রে ভেসে ওঠে হলুদ সংকেত বা ‘ইয়েলো ফ্ল্যাগ’। ট্রাফিক লাইটের হলুদ আলো মানেই গাড়ি থামিয়ে একটু থামা, দেখা এবং ভাবা। সম্পর্কের ক্ষেত্রেও ইয়েলো
১৫ ঘণ্টা আগে
মানুষের জীবনের পথে হাঁটা সব সময় একরকম হয় না। আলো আর ছায়ার মতো সুখ আর দুঃখ, সংশয় আর আত্মবিশ্বাস হাত ধরাধরি করে চলে। কখনো কোনো এক হঠাৎ আড্ডায়, বাসে কিংবা অপরিচিত মানুষের মাঝে দাঁড়িয়ে বুকের ভেতরটা অজানা ভয়ে কেঁপে ওঠে। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের কোনো একটি খামতি দেখে কিংবা অতীতের কারও বিষাক্ত মন্তব্যের
১৭ ঘণ্টা আগে