
বার্গার, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই কিংবা চিকেন ফ্রাই—এসব খাবারের সঙ্গে কেচাপের পরিচিতি বিশ্বজুড়ে। লাল রঙের ঘন এই সসের কথা মনে এলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে টমেটোর ছবি। কিন্তু পৃথিবীর একটি দেশে কেচাপ তৈরির প্রধান উপকরণ টমেটো নয়, কলা! ফিলিপাইনের জনপ্রিয় এই সসের নাম বানানা কেচাপ। মিষ্টি, টক ও মসলার স্বাদের মিশেলে তৈরি সসটি দেশটির খাবারের সংস্কৃতিতে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে।
বানানা কেচাপের গল্প শুধু নতুন ধরনের খাবার তৈরির গল্প নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে সংকটের সময়ে স্থানীয় উপকরণ কাজে লাগানোর ইতিহাস। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ফিলিপাইনে টমেটোর সরবরাহ কমে যায়। অন্যদিকে দেশটিতে কলার প্রাচুর্য ছিল। এই পরিস্থিতিতে খাদ্যপ্রযুক্তিবিদ মারিয়া ইয়ালাগান ওরোসা কলাকে কাজে লাগিয়ে টমেটোর বিকল্প হিসেবে কেচাপ তৈরির ধারণা জনপ্রিয় করেন। কলার সঙ্গে ভিনেগার, চিনি, রসুন, পেঁয়াজ এবং বিভিন্ন মসলা মিশিয়ে তৈরি করা হয় এই সস। পরে এটি বোতলজাত কেচাপ হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি পায়। ১৯৪০-এর দশকে বানানা কেচাপের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হলে ধীরে ধীরে এটি ফিলিপাইনের ঘরে ঘরে জায়গা করে নেয়।
বানানা কেচাপের মজার দিক হলো এর রং। কলা দিয়ে তৈরি হলেও বাজারে প্রচলিত অনেক বানানা কেচাপ দেখতে টমেটো কেচাপের মতোই উজ্জ্বল লাল। এর কারণ, বাণিজ্যিকভাবে তৈরি কিছু সসে লাল খাদ্য রং ব্যবহার করা হয়। তবে সব বানানা কেচাপের রং এক নয়; উপকরণ ও প্রস্তুত প্রণালির ওপর নির্ভর করে রং বদলাতে পারে। স্বাদের দিক থেকেও রয়েছে পার্থক্য। টমেটো কেচাপের তুলনায় বানানা কেচাপ সাধারণত মিষ্টি এবং ফলের স্বাদযুক্ত। ভিনেগারের টক ভাব ও মসলার ঝাঁজ সেই মিষ্টি স্বাদে ভারসাম্য আনে। তাই এটি শুধু কলার মিষ্টি সস নয়; বরং মিষ্টি, টক ও ঝাল স্বাদের একটি মিশ্রণ।

বানানা কেচাপের মূল উপকরণ কলা, ভিনেগার, চিনি, রসুন, পেঁয়াজ ও মসলা। পাকা কলা চটকে বা ব্লেন্ড করে অন্য উপকরণের সঙ্গে রান্না করলে সসের মতো ঘন মিশ্রণ তৈরি হয়। স্বাদ অনুযায়ী মরিচের গুঁড়া বা অন্যান্য মসলা যোগ করা যায়। তবে উপকরণের অনুপাত ও রান্নার সময়ের ওপর নির্ভর করে সসের স্বাদ, রং ও ঘনত্ব বদলে যাবে। সংরক্ষণের ক্ষেত্রে পরিষ্কার পাত্র এবং নিরাপদ খাদ্য সংরক্ষণ পদ্ধতি অনুসরণ করা জরুরি। বাংলাদেশেও কলা সহজলভ্য হওয়ায় ঘরোয়া রান্নায় এমন সস নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা সম্ভব। তবে এটি প্রচলিত টমেটো কেচাপের হুবহু বিকল্প হবে না—স্বাদে থাকবে ফলের মিষ্টি ভাব ও মসলার আলাদা স্বাদ।
ফিলিপাইনে বানানা কেচাপ নানা ধরনের খাবারের সঙ্গে পরিবেশন করা হয়। বার্গার, হট ডগ, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, ভাজা মুরগি বা মাছের সঙ্গে এটি খাওয়া যায়। দেশটির জনপ্রিয় মিষ্টি-ঝাল স্বাদের স্প্যাগেটি তৈরিতে বানানা কেচাপ ব্যবহার করা হয়। অনেক সময় মাংস মেরিনেট করা কিংবা রান্নার সসে স্বাদ বাড়াতেও এটি কাজে লাগে। ফিলিপাইনের ঐতিহ্যবাহী খাবার লুম্পিয়ার সঙ্গেও এই সস ব্যবহার করা হয়। লুম্পিয়া হলো পুর দিয়ে তৈরি একধরনের রোল, যা সাধারণত ভেজে পরিবেশন করা হয়। এর সঙ্গে বানানা কেচাপের মিষ্টি-টক স্বাদ ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।
ঘরেই ফিলিপাইন স্টাইল বানানা কেচাপ তৈরি করতে চান? দেখে নিন রেসিপি।
চটকে নেওয়া পাকা কলা ২ কাপ, মাঝারি আকারের ১টি পেঁয়াজকুচি, রসুনকুচি ৪ কোয়া, সামান্য আদাকুচি, আপেল সিডার ভিনেগার বা সাদা ভিনেগার ২০০ মিলিলিটার, চিনি বা ব্রাউন সুগার সামান্য, রং ও স্বাদের জন্য টমেটো পেস্ট দেড় টেবিল চামচ, মরিচ বা গোলমরিচ স্বাদমতো, দারুচিনি ও হলুদগুঁড়া আধা চা-চামচ করে, তেল, লবণ ও সামান্য পানি।
কড়াইতে সামান্য তেল গরম করে পেঁয়াজ, রসুন, আদা ও মরিচ হালকা ভেজে নরম করে নিন। এবার তাতে চটকে নেওয়া কলা, চিনি, ভিনেগার, টমেটো পেস্ট এবং সব মসলা দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন। মাঝারি আঁচে মিশ্রণটি ঘন হয়ে আসা পর্যন্ত রান্না করুন। তারপর চুলা থেকে নামিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করে একদম মসৃণ সস তৈরি করুন। ঠান্ডা করে কাচের বয়ামে ভরে ফ্রিজে সংরক্ষণ করা যায়। উল্লেখ্য, রং ও স্বাদের জন্য টমেটো পেস্ট না দিলেও সমস্যা নেই।
সূত্র: ‘ফিলিপাইনের খাবার: কলার কেচাপ’, ডেভিড ওয়েজ, দি লঙ্গেস্ট ওয়ে হোম, মে ১৬, ২০১২

কফি ঘুমের সমস্যা তৈরি করে, এই তথ্য সবাই জানে। কিন্তু কোন সময় কফি পানে ঘুমের সমস্যা দেখা দিতে পারে? কফির মূল উপাদান ক্যাফেইন। এই ক্যাফেইন কীভাবে আমাদের ঘুম কেড়ে নেয়, এ নিয়ে হয়েছে বিস্তর গবেষণা। স্লিপ ফাউন্ডেশন প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার মানুষের ওপর সমীক্ষা চালিয়ে দেখেছে, বিকেলে নিয়মিত ক্যাফেইন গ্রহণ...
৪০ মিনিট আগে
আজ মেষ রাশির মানুষদের গ্রহরাজ মঙ্গলের সরাসরি তাপে মাথা গরম থাকার শতভাগ সম্ভাবনা। সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠেই মনে হতে পারে আপনিই পৃথিবীর শেষ যোদ্ধা, আর বাকি সবাই আপনার শত্রু। অফিসে বসের সামনাসামনি হলে হঠাৎ কোনো মহৎ বিপ্লব ঘটানোর চেষ্টা করবেন না...
২ ঘণ্টা আগেবাড়ির যে মেয়েটি এখন সবচেয়ে আনন্দে রয়েছেন, তাঁর বয়স আঠারো, না কুড়ি? তাহলে এই গল্পটা তাঁর সঙ্গেই জমবে বেশ। পূজার কোন দিন কী পরবে, কেমন সাজবে আর হেয়ারস্টাইল কেমন হবে, তা-ও এরই মধ্য়ে ঠিক করে ফেলেছেন তাঁরা।
১৯ ঘণ্টা আগে
আঁচল আর উত্তরীয়র কোনায় যাঁদের গিঁট পড়েছে, একাকী থাকার দিন যাঁদের শেষ হয়েছে গত পূজার পর আর এই পূজার আগেই, যাঁরা একটু একটু করে মানিয়ে নিচ্ছেন দুজনের জীবনে দুজনের উপস্থিতি, তাঁদের জন্য এবারের পূজার উৎসব একেবারে আলাদা।
১ দিন আগে