মীর মহিবুল্লাহ

কুয়াশার চাদরে মোড়া সবুজ পাহাড়, নীল আকাশের নিচে স্থির জলরাশি আর দূরে মেঘের আনাগোনা! এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্যের টানে প্রতি শীতে প্রকৃতিপ্রেমী ভ্রমণপিয়াসিরা ছুটে যান পাহাড়ের কোলে, খুঁজে নেন প্রশান্তি আর মুগ্ধতার ঠিকানা। এই প্রশান্তির খোঁজে আমাদেরও যাত্রা এবার পাহাড়ে।
টানা তিন দিনের ছুটি, তার সঙ্গে ২০২৫ নিভে যাওয়ার ক্ষণ। এমন মাহেন্দ্রক্ষণে বেরিয়ে না পড়ে আর পারা গেল না। গন্তব্য—বান্দরবানের বগা লেক ও কেওক্রাডং।
খোঁজখবর করেও সাপ্তাহিক ছুটির ভিড়ে ওসব জায়গায় রিসোর্ট বা মাচাং জোটেনি। সেই সংবাদ উপেক্ষা করে দুপুরে নন-এসি গাড়িতে চড়ে শুরু হলো যাত্রা—ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম। সেখানে নেমে গাড়ি পরিবর্তন করে সন্ধ্যার আগে পৌঁছে গেলাম বান্দরবান। সেখানে রাত কাটিয়ে পরদিন সকালে তিনজন মিলে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চেপে রওনা হলাম রুমার উদ্দেশে। পথে থানচি-রুমা সড়কের মাঝামাঝি সেনাবাহিনীর চেকপোস্ট। এনআইডি দেখানোর পর নাম লিপিবদ্ধ করে প্রবেশের অনুমতি মিলল। পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথে এগোতে এগোতে মনে হচ্ছিল, আমরা যেন তিন যাযাবর, প্রকৃতির ধ্যানে মগ্ন। চোখের সামনে শুধু পাহাড় আর পাহাড়।
রুমা উপজেলায় ঢোকার মুখে আরেকটি চেকপোস্ট। পরিচয়পত্র জমা দিতে হাতে তুলে দিল একটি এন্ট্রি স্লিপ। সেটি নিয়ে পৌঁছে গেলাম রুমা বাজারে। এখানেই মূল প্রস্তুতি। গাইড অফিস থেকে গাইড নেওয়া, আর পরবর্তী যাত্রার সব আয়োজন তার মাধ্যমেই সম্পন্ন করা।
সিএনজিচালিত অটোরিকশা ছেড়ে এবার পালা চাঁদের গাড়ির। কিন্তু তিনজনের জন্য এটি ব্যয়বহুল হওয়ায় শুরু হলো সঙ্গী খোঁজা। সৌভাগ্যক্রমে পেয়ে গেলাম আরও তিন বন্ধু এবং একই পরিবারের শ্বশুর, জামাই আর দুই শ্যালককে। এভাবেই ১০ জনের একটি দল তৈরি হয়ে গেল আমাদের। গাইড অফিসে ফরম পূরণ শেষে সরকার নিবন্ধিত গাইড ঠিক করে চাঁদের গাড়িতে চেপে রওনা দিলাম বগা লেক ও কেওক্রাডংয়ের পথে।
বগা লেকে পৌঁছানোর আগেই পড়ে মুনলাই পাড়া। পাহাড়ি গ্রাম। সম্ভবত দেশের সবচেয়ে পরিষ্কার ও মার্জিত গ্রামগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত এই জনপদ বান্দরবানের রুমায়, পাহাড়ের কোলে। প্রথম দর্শনে গ্রামটির সৌন্দর্য মন কেড়ে নেয়। পরিপাটি পথ, নিস্তব্ধ প্রকৃতি আর সরল জীবনযাপনের ছোঁয়ায় মুনলাই পাড়া যেন নিজস্ব ভাষায় কথা বলে। এখানকার অধিবাসীদের জীবনধারা ও ঐতিহ্য গ্রামটিকে আরও আলাদা করে তুলেছে।
মুনলাই পাড়ার সামনে দার্জিলিং পাড়া। এই গ্রামের সৌন্দর্যও আমরা উপেক্ষা করিনি। সবুজ পাহাড় আর শান্ত পরিবেশে কিছুটা সময় কাটিয়ে এগিয়ে যেতে চোখে পড়ল কাঙ্ক্ষিত গন্তব্য বগা লেক। পাহাড়ের কোলে নীল জলের লেকটি যেন প্রকৃতির নিজ হাতে আঁকা ছবি। শীতের সকালে লেকের ওপর হালকা কুয়াশা, নৌকার ছায়া আর সূর্যের নরম আলো—সব মিলিয়ে এক নিঃশব্দ মুগ্ধতা। বগা লেকে বসে সূর্যাস্ত দেখা এক অপার্থিব অভিজ্ঞতা। সেখানে করা যায় কায়াকিং। পাহাড়ের আড়াল থেকে সূর্য যখন ধীরে ধীরে বিদায় নেয়, তখন লেকের জলে লালচে আভা ছড়িয়ে পড়ে। রাতে পাহাড়ি গ্রামের নিস্তব্ধতা, আকাশভরা তারার মেলা শহরের কোলাহল ভুলিয়ে দিতে যথেষ্ট।

বগা লেকের নীল জলরাশির টান উপেক্ষা করে এবার আমাদের গন্তব্য দেশের অন্যতম উঁচু পাহাড় কেওক্রাডং। পাহাড়ি পথ ধরে এগোতে এগোতে সন্ধ্যা ঘনিয়ে এল। সন্ধ্যায় পাহাড়ের পাদদেশে পৌঁছে আমরা বিস্ময়ে বিমূঢ়! নিচে ফেলে আসা সভ্যতার কোলাহল আর হাজার ফুট ওপরে নীরবতার সেই রাজত্বে দাঁড়িয়ে নিজেকে মনে হচ্ছিল দুনিয়ার সর্বোচ্চ মানুষ!
গাইড রাত কাটানোর ব্যবস্থা করলেন একটি মাচাং ঘরে। একটি মাচাংয়ে সাধারণত তিনটি ছোট রুম থাকলেও ভাগ্যে জুটল মাত্র একটি। উপায় নেই, ৮ জনের জন্য তৈরি মাচাংয়ে আমাদের ১০ জনকে রাত কাটাতে হলো। অস্বস্তির বদলে সেটিই হয়ে উঠল স্মৃতির সবচেয়ে উষ্ণ অধ্যায়।
রাত বাড়তেই শুরু হলো গানের আসর। পাহাড়ের বুক চিরে ভেসে গেল কণ্ঠের সুর। মাথার ওপর জোছনার আলো, চারপাশে গভীর নীরবতা আর তীব্র শীত—সব মিলিয়ে প্রকৃতির সঙ্গে এক অদ্ভুত আত্মিক সংযোগ। শীতের কাঁপুনি গায়ে মেখেই একসময় ঘুমিয়ে পড়লাম সবাই।
ভোর আনুমানিক ছয়টা। কেওক্রাডংয়ের চূড়ায় সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে চোখের সামনে উন্মোচিত হলো এক স্বর্গীয় দৃশ্য—মেঘের সাগর। কখনো মেঘ পায়ের নিচে, আবার কখনো চারপাশজুড়ে, মনে হচ্ছিল, আমরা বুঝি আকাশের খুব কাছাকাছি চলে এসেছি। সূর্যের উঁকি, রোদের তেজ আর মেঘের ঢেউ—সব মিলিয়ে সেই মুহূর্ত ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
সূর্যের আলো পাহাড়জুড়ে ছড়িয়ে পড়তেই আমরা ফিরে আসার পথে পা বাড়িয়ে দিলাম বান্দরবানের দিকে। বগা লেক আর কেওক্রাডংয়ের পাহাড়ি দৃশ্য যেন দীর্ঘ পথচলার সব ক্লান্তি মুহূর্তেই মুছে দিল। বিদায়ী বছরের শেষ প্রান্তে এসে এই পাহাড়ি যাত্রা আমাদের জন্য হয়ে রইল স্মৃতির এক অনন্য অধ্যায়।

যেভাবে যাবেন
শীতকাল, অর্থাৎ নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি বগা লেক ও কেওক্রাডং ভ্রমণের ভালো সময়। ঢাকা থেকে প্রতিদিন সকাল ও রাতে স্লিপারসহ বিভিন্ন ধরনের বাসে বান্দরবানে যাওয়া যায়। তবে বাসের টিকিট অবশ্যই আগে কেটে রাখবেন। চাইলে চট্টগ্রাম হয়েও বান্দরবানে যাওয়া যাবে।
বান্দরবান শহর থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা কিংবা চাঁদের গাড়ি অথবা বাসে যেতে হবে রুমা উপজেলায়। সময় লাগে ২ থেকে ৩ ঘণ্টা। রুমা থেকে বগা লেকে যাওয়ার একমাত্র মাধ্যম চাঁদের গাড়ি। সরকারের অনুমোদিত গাইড আপনাকে ব্যবস্থা করে দেবে। রাতে থাকাসহ ১ দিনের জন্য ভাড়া ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা।
কোথায় থাকবেন
বগা লেকে রাত যাপন করে পরদিন কেওক্রাডং ঘুরেফিরে আসা যায়। বগা লেকে থাকার জন্য রয়েছে বগা লেক রিসোর্ট, হিলভিউ রিসোর্ট, পর্যটন মোটেলসহ বিভিন্ন থাকার ব্যবস্থা। ১ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা খরচ হবে প্রতি রাত থাকার জন্য। তবে খাওয়ার জন্য আলাদা টাকা দিতে হবে। চাইলে থাকা ও খাওয়ার প্যাকেজ নিতে পারবেন।
কেওক্রাডংয়ে বিলাসবহুল থাকার ব্যবস্থা নেই। সেখানে রয়েছে মাচাং ঘর। সাধারণত একটি মাচাংয়ে ৬ থেকে ৮ জন থাকা যায়। তবে চাইলে তাঁবু করেও থাকা যায়। খাওয়ার জন্য সেখানে রয়েছে একটি পাহাড়ি খাবারের দোকান।
ভ্রমণের আগে জরুরি টিপস

কুয়াশার চাদরে মোড়া সবুজ পাহাড়, নীল আকাশের নিচে স্থির জলরাশি আর দূরে মেঘের আনাগোনা! এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্যের টানে প্রতি শীতে প্রকৃতিপ্রেমী ভ্রমণপিয়াসিরা ছুটে যান পাহাড়ের কোলে, খুঁজে নেন প্রশান্তি আর মুগ্ধতার ঠিকানা। এই প্রশান্তির খোঁজে আমাদেরও যাত্রা এবার পাহাড়ে।
টানা তিন দিনের ছুটি, তার সঙ্গে ২০২৫ নিভে যাওয়ার ক্ষণ। এমন মাহেন্দ্রক্ষণে বেরিয়ে না পড়ে আর পারা গেল না। গন্তব্য—বান্দরবানের বগা লেক ও কেওক্রাডং।
খোঁজখবর করেও সাপ্তাহিক ছুটির ভিড়ে ওসব জায়গায় রিসোর্ট বা মাচাং জোটেনি। সেই সংবাদ উপেক্ষা করে দুপুরে নন-এসি গাড়িতে চড়ে শুরু হলো যাত্রা—ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম। সেখানে নেমে গাড়ি পরিবর্তন করে সন্ধ্যার আগে পৌঁছে গেলাম বান্দরবান। সেখানে রাত কাটিয়ে পরদিন সকালে তিনজন মিলে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চেপে রওনা হলাম রুমার উদ্দেশে। পথে থানচি-রুমা সড়কের মাঝামাঝি সেনাবাহিনীর চেকপোস্ট। এনআইডি দেখানোর পর নাম লিপিবদ্ধ করে প্রবেশের অনুমতি মিলল। পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথে এগোতে এগোতে মনে হচ্ছিল, আমরা যেন তিন যাযাবর, প্রকৃতির ধ্যানে মগ্ন। চোখের সামনে শুধু পাহাড় আর পাহাড়।
রুমা উপজেলায় ঢোকার মুখে আরেকটি চেকপোস্ট। পরিচয়পত্র জমা দিতে হাতে তুলে দিল একটি এন্ট্রি স্লিপ। সেটি নিয়ে পৌঁছে গেলাম রুমা বাজারে। এখানেই মূল প্রস্তুতি। গাইড অফিস থেকে গাইড নেওয়া, আর পরবর্তী যাত্রার সব আয়োজন তার মাধ্যমেই সম্পন্ন করা।
সিএনজিচালিত অটোরিকশা ছেড়ে এবার পালা চাঁদের গাড়ির। কিন্তু তিনজনের জন্য এটি ব্যয়বহুল হওয়ায় শুরু হলো সঙ্গী খোঁজা। সৌভাগ্যক্রমে পেয়ে গেলাম আরও তিন বন্ধু এবং একই পরিবারের শ্বশুর, জামাই আর দুই শ্যালককে। এভাবেই ১০ জনের একটি দল তৈরি হয়ে গেল আমাদের। গাইড অফিসে ফরম পূরণ শেষে সরকার নিবন্ধিত গাইড ঠিক করে চাঁদের গাড়িতে চেপে রওনা দিলাম বগা লেক ও কেওক্রাডংয়ের পথে।
বগা লেকে পৌঁছানোর আগেই পড়ে মুনলাই পাড়া। পাহাড়ি গ্রাম। সম্ভবত দেশের সবচেয়ে পরিষ্কার ও মার্জিত গ্রামগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত এই জনপদ বান্দরবানের রুমায়, পাহাড়ের কোলে। প্রথম দর্শনে গ্রামটির সৌন্দর্য মন কেড়ে নেয়। পরিপাটি পথ, নিস্তব্ধ প্রকৃতি আর সরল জীবনযাপনের ছোঁয়ায় মুনলাই পাড়া যেন নিজস্ব ভাষায় কথা বলে। এখানকার অধিবাসীদের জীবনধারা ও ঐতিহ্য গ্রামটিকে আরও আলাদা করে তুলেছে।
মুনলাই পাড়ার সামনে দার্জিলিং পাড়া। এই গ্রামের সৌন্দর্যও আমরা উপেক্ষা করিনি। সবুজ পাহাড় আর শান্ত পরিবেশে কিছুটা সময় কাটিয়ে এগিয়ে যেতে চোখে পড়ল কাঙ্ক্ষিত গন্তব্য বগা লেক। পাহাড়ের কোলে নীল জলের লেকটি যেন প্রকৃতির নিজ হাতে আঁকা ছবি। শীতের সকালে লেকের ওপর হালকা কুয়াশা, নৌকার ছায়া আর সূর্যের নরম আলো—সব মিলিয়ে এক নিঃশব্দ মুগ্ধতা। বগা লেকে বসে সূর্যাস্ত দেখা এক অপার্থিব অভিজ্ঞতা। সেখানে করা যায় কায়াকিং। পাহাড়ের আড়াল থেকে সূর্য যখন ধীরে ধীরে বিদায় নেয়, তখন লেকের জলে লালচে আভা ছড়িয়ে পড়ে। রাতে পাহাড়ি গ্রামের নিস্তব্ধতা, আকাশভরা তারার মেলা শহরের কোলাহল ভুলিয়ে দিতে যথেষ্ট।

বগা লেকের নীল জলরাশির টান উপেক্ষা করে এবার আমাদের গন্তব্য দেশের অন্যতম উঁচু পাহাড় কেওক্রাডং। পাহাড়ি পথ ধরে এগোতে এগোতে সন্ধ্যা ঘনিয়ে এল। সন্ধ্যায় পাহাড়ের পাদদেশে পৌঁছে আমরা বিস্ময়ে বিমূঢ়! নিচে ফেলে আসা সভ্যতার কোলাহল আর হাজার ফুট ওপরে নীরবতার সেই রাজত্বে দাঁড়িয়ে নিজেকে মনে হচ্ছিল দুনিয়ার সর্বোচ্চ মানুষ!
গাইড রাত কাটানোর ব্যবস্থা করলেন একটি মাচাং ঘরে। একটি মাচাংয়ে সাধারণত তিনটি ছোট রুম থাকলেও ভাগ্যে জুটল মাত্র একটি। উপায় নেই, ৮ জনের জন্য তৈরি মাচাংয়ে আমাদের ১০ জনকে রাত কাটাতে হলো। অস্বস্তির বদলে সেটিই হয়ে উঠল স্মৃতির সবচেয়ে উষ্ণ অধ্যায়।
রাত বাড়তেই শুরু হলো গানের আসর। পাহাড়ের বুক চিরে ভেসে গেল কণ্ঠের সুর। মাথার ওপর জোছনার আলো, চারপাশে গভীর নীরবতা আর তীব্র শীত—সব মিলিয়ে প্রকৃতির সঙ্গে এক অদ্ভুত আত্মিক সংযোগ। শীতের কাঁপুনি গায়ে মেখেই একসময় ঘুমিয়ে পড়লাম সবাই।
ভোর আনুমানিক ছয়টা। কেওক্রাডংয়ের চূড়ায় সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে চোখের সামনে উন্মোচিত হলো এক স্বর্গীয় দৃশ্য—মেঘের সাগর। কখনো মেঘ পায়ের নিচে, আবার কখনো চারপাশজুড়ে, মনে হচ্ছিল, আমরা বুঝি আকাশের খুব কাছাকাছি চলে এসেছি। সূর্যের উঁকি, রোদের তেজ আর মেঘের ঢেউ—সব মিলিয়ে সেই মুহূর্ত ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
সূর্যের আলো পাহাড়জুড়ে ছড়িয়ে পড়তেই আমরা ফিরে আসার পথে পা বাড়িয়ে দিলাম বান্দরবানের দিকে। বগা লেক আর কেওক্রাডংয়ের পাহাড়ি দৃশ্য যেন দীর্ঘ পথচলার সব ক্লান্তি মুহূর্তেই মুছে দিল। বিদায়ী বছরের শেষ প্রান্তে এসে এই পাহাড়ি যাত্রা আমাদের জন্য হয়ে রইল স্মৃতির এক অনন্য অধ্যায়।

যেভাবে যাবেন
শীতকাল, অর্থাৎ নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি বগা লেক ও কেওক্রাডং ভ্রমণের ভালো সময়। ঢাকা থেকে প্রতিদিন সকাল ও রাতে স্লিপারসহ বিভিন্ন ধরনের বাসে বান্দরবানে যাওয়া যায়। তবে বাসের টিকিট অবশ্যই আগে কেটে রাখবেন। চাইলে চট্টগ্রাম হয়েও বান্দরবানে যাওয়া যাবে।
বান্দরবান শহর থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা কিংবা চাঁদের গাড়ি অথবা বাসে যেতে হবে রুমা উপজেলায়। সময় লাগে ২ থেকে ৩ ঘণ্টা। রুমা থেকে বগা লেকে যাওয়ার একমাত্র মাধ্যম চাঁদের গাড়ি। সরকারের অনুমোদিত গাইড আপনাকে ব্যবস্থা করে দেবে। রাতে থাকাসহ ১ দিনের জন্য ভাড়া ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা।
কোথায় থাকবেন
বগা লেকে রাত যাপন করে পরদিন কেওক্রাডং ঘুরেফিরে আসা যায়। বগা লেকে থাকার জন্য রয়েছে বগা লেক রিসোর্ট, হিলভিউ রিসোর্ট, পর্যটন মোটেলসহ বিভিন্ন থাকার ব্যবস্থা। ১ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা খরচ হবে প্রতি রাত থাকার জন্য। তবে খাওয়ার জন্য আলাদা টাকা দিতে হবে। চাইলে থাকা ও খাওয়ার প্যাকেজ নিতে পারবেন।
কেওক্রাডংয়ে বিলাসবহুল থাকার ব্যবস্থা নেই। সেখানে রয়েছে মাচাং ঘর। সাধারণত একটি মাচাংয়ে ৬ থেকে ৮ জন থাকা যায়। তবে চাইলে তাঁবু করেও থাকা যায়। খাওয়ার জন্য সেখানে রয়েছে একটি পাহাড়ি খাবারের দোকান।
ভ্রমণের আগে জরুরি টিপস

তারুণ্য ধরে রাখতে মরিয়া পৃথিবীর মানুষ। কোনোভাবেই তারা বৃদ্ধ হতে চায় না। তাই বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়ে নিরন্তর গবেষণা করে চলেছেন পৃথিবীর খ্যাতনামা বিজ্ঞানীরা। কখনো সেসব গবেষণায় মেলে সাফল্য, আবার কখনো অপেক্ষা করতে হয় আরও ব্যাপক গবেষণা ফলের জন্য। এবারও বিজ্ঞানীরা তেমনি একটি গবেষণা করছেন চকলেটের ওপর...
১৪ ঘণ্টা আগে
জীবন ইতিবাচকভাবে বদলাতে জীবনধারাতেও পরিবর্তন আনা জরুরি। এই ব্যাপারটা বলিউড তারকারা কঠোরভাবে বিশ্বাস করেন। বি টাউনের আলোচিত নায়িকাদের অনেকে নতুন বছরে নিজেদের জীবনধারায় পরিবর্তন এনেছেন। তাঁরা বিশ্বাস করেন, এসব পরিবর্তন তাঁদের ভবিষ্যৎ জীবনে বেশ ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে...
১৭ ঘণ্টা আগে
শীতের দুপুরে গরম-গরম ভাতের সঙ্গে কলইশাক ভাজি খেতে দারুণ লাগে। এখন এই শাকের মৌসুম। কলইশাক শুধু খেতেই সুস্বাদু নয়, এর রয়েছে বহু উপকারিতা। প্রচুর আঁশ থাকায় এটি হজমে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। তা ছাড়া এতে থাকা ক্যালসিয়াম হাড় ও পেশি শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। কলইশাক রান্নার মূল ব্যাপারটা...
১৯ ঘণ্টা আগে
আজ আপনার শরীরে প্রচুর এনার্জি থাকবে, কিন্তু সেই এনার্জি অফিসের কাজে না লাগিয়ে বিরিয়ানির দোকান খুঁজতে বেশি খরচ করবেন। ব্যবসায় উন্নতির যোগ আছে, তবে চোর থেকে সাবধান! বিশেষ করে অফিসের কলম বা সহকর্মীর টিফিন চুরির অপবাদ যেন আপনার ঘাড়ে না আসে।
২১ ঘণ্টা আগে