সানজিদা সামরিন

বাঙালি যে খানিক হলেও ভোজনরসিক—এ কথা অস্বীকারের জো কোথায়! ঝাঁঝ আর মিষ্টি খাবার তৈরির ঘনঘটা যেখানে, সেখানে খাবারের প্রতি প্রেম থাকবে না তা কী করে হয়? এই যে কিংবদন্তি সাহিত্যিক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা সত্যজিৎ রায়, তিনিও এর বাইরে নাকি!
একে একে যদি বলি, ফেলুদার গোয়েন্দাগিরির মুরগীর মাংস, কৈলাসে কেলেঙ্কারির রুটি, মাংস, তরকা, মিহিদানা, নতুন গুড়ের সন্দেশ, খিচুড়ি, ইলিশ মাছ ভাজা বা জয় বাবা ফেলুনাথ–এর সেই মাংসের কালিয়া, ডাল, ভাত, মাছের ঝোল, দই, জিলিপি, রাবড়ির কথা—তাও যেন কম হয়ে যায়। এককথায় সত্যজিৎ রায় ভীষণ খাদ্যরসিক ছিলেন। তাঁর লেখনী ও বেশ কিছু চলচ্চিত্রে জমিয়ে খাওয়াদাওয়ার সিকোয়েন্স পাওয়া যায়। ভারতের জনপ্রিয় শিল্পী অনুপ ঘোষাল টাইমস অব ইন্ডিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, বাড়িতে একটু লুচি, আলুর দম, বেগুন ভাজা আর ডাল হলেই সত্যজিৎ রায় দারুণ খুশি হতেন। মাছ-টাছ অতটা খেতে দেখা যেত না। তবে আমাদের বাড়িতে এলে সরষে বাটা, আর কাঁচালঙ্কা দিয়ে যে ইলিশ মাছটা করা হতো, সেটার দুটো পিস তিনি খেতেন।
অনুপ ঘোষালই জানাচ্ছেন, সত্যজিৎ পাঁঠার মাংস খেতে খুব পছন্দ করতেন। বলতেন, মুরগীর মাংসের আবার কোনো স্বাদ আছে নাকি! তবে খাবার–দাবারে যত খুঁতখুঁতেই হোন না কেন কর্মক্ষেত্রে কিন্তু তিনি অন্যরকম। স্টুডিওতে দুটো স্যান্ডউইচ, আর একটু দই হলেই তাঁর হয়ে যেত।
আর বাঙালির মুড়িতে মন মজবে না, তা কী করে হয়। একদিন নাকি সত্যজিৎ রায় অনুপ ঘোষালকে বলেছিলেন, `মুড়ি তেল দিয়ে খায় এটা তো দেখেছ, তবে মুড়ি যে ঘি আর বেশ দানা দানা চিনি দিয়েও খায় সেটা জানো?' অনুপ ঘোষাল তো অবাক হয়ে গেলেন, এমন বিশ্ব বরেণ্য মানুষের মুখে এ কি কথা! সাধারণেই অসাধারণ ছিলেন এ মানুষটি।
সত্যজিৎ রায় পরিচালিত চিড়িয়াখানা চলচ্চিত্রে বিজয় চরিত্রে রূপদান করেন প্রয়াত ভারতীয় চলচ্চিত্র অভিনেতা শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায়। তিনি এক সাক্ষাৎকারে সত্যজিতের ডালভক্তির কথা বলছিলেন। স্মৃতিচারণ করে বলছিলেন, `বিউলির ডাল বা অড়হড়ের ডাল সত্যজিৎ খেতে ভালোবাসতেন। বারবার পাতে তুলে দিতে বলতেন। এই সামান্য ডালটাই তাঁর এত প্রিয় ছিল!'
২০১৭ সালের জুলাই মাসে কলকাতার রাজারহাটে আইকনিক আহেলি রেস্তোঁরায় মাসব্যাপী সত্যজিৎ রায়ের প্রিয় খাবারগুলো পরিবেশন করা হয়েছিল। তাঁর প্রিয় খাবারগুলো থালায় সাজিয়ে পরিবেশন করা হয় তখন। মেনু তৈরি করেছিলেন তাঁর ছেলে সন্দীপ রায় ও পুত্রবধূ ললিতা রায়। থালায় পরিবেশন করা হয়েছিল—লুচি, বেগুন ভজা, মোচার ঘণ্ট, ডাল রায়বাহাদুর ও ভাজা মসলার আলুর দম। সঙ্গে আরও ছিল চিংড়ির মালাই কারি, ভেটকি কালিয়া, কষা মাংস, কাঁচা আমের চাটনি, আর সবশেষে মিষ্টি দই ও সন্দেশ।
বাবার পছন্দের খাবার নিয়ে এক স্মৃতিকথায় সন্দীপ রায় বলেন, ছোটবেলায় আমরা মাঝেমধ্যেই পার্কস্ট্রিটের স্কাইরুমে কন্টিনেন্টাল খাবার খেতে যেতাম। বাড়িতে কখনো-কখনো রয়েলের বিরিয়ানিও আসত। তবে বাবা কিন্তু খুব একটা পাঁচতারা হোটেলে যেতেন না।
সূত্র: ফুডস অফ বেঙ্গল ও টাইমস অব ইন্ডিয়া

বাঙালি যে খানিক হলেও ভোজনরসিক—এ কথা অস্বীকারের জো কোথায়! ঝাঁঝ আর মিষ্টি খাবার তৈরির ঘনঘটা যেখানে, সেখানে খাবারের প্রতি প্রেম থাকবে না তা কী করে হয়? এই যে কিংবদন্তি সাহিত্যিক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা সত্যজিৎ রায়, তিনিও এর বাইরে নাকি!
একে একে যদি বলি, ফেলুদার গোয়েন্দাগিরির মুরগীর মাংস, কৈলাসে কেলেঙ্কারির রুটি, মাংস, তরকা, মিহিদানা, নতুন গুড়ের সন্দেশ, খিচুড়ি, ইলিশ মাছ ভাজা বা জয় বাবা ফেলুনাথ–এর সেই মাংসের কালিয়া, ডাল, ভাত, মাছের ঝোল, দই, জিলিপি, রাবড়ির কথা—তাও যেন কম হয়ে যায়। এককথায় সত্যজিৎ রায় ভীষণ খাদ্যরসিক ছিলেন। তাঁর লেখনী ও বেশ কিছু চলচ্চিত্রে জমিয়ে খাওয়াদাওয়ার সিকোয়েন্স পাওয়া যায়। ভারতের জনপ্রিয় শিল্পী অনুপ ঘোষাল টাইমস অব ইন্ডিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, বাড়িতে একটু লুচি, আলুর দম, বেগুন ভাজা আর ডাল হলেই সত্যজিৎ রায় দারুণ খুশি হতেন। মাছ-টাছ অতটা খেতে দেখা যেত না। তবে আমাদের বাড়িতে এলে সরষে বাটা, আর কাঁচালঙ্কা দিয়ে যে ইলিশ মাছটা করা হতো, সেটার দুটো পিস তিনি খেতেন।
অনুপ ঘোষালই জানাচ্ছেন, সত্যজিৎ পাঁঠার মাংস খেতে খুব পছন্দ করতেন। বলতেন, মুরগীর মাংসের আবার কোনো স্বাদ আছে নাকি! তবে খাবার–দাবারে যত খুঁতখুঁতেই হোন না কেন কর্মক্ষেত্রে কিন্তু তিনি অন্যরকম। স্টুডিওতে দুটো স্যান্ডউইচ, আর একটু দই হলেই তাঁর হয়ে যেত।
আর বাঙালির মুড়িতে মন মজবে না, তা কী করে হয়। একদিন নাকি সত্যজিৎ রায় অনুপ ঘোষালকে বলেছিলেন, `মুড়ি তেল দিয়ে খায় এটা তো দেখেছ, তবে মুড়ি যে ঘি আর বেশ দানা দানা চিনি দিয়েও খায় সেটা জানো?' অনুপ ঘোষাল তো অবাক হয়ে গেলেন, এমন বিশ্ব বরেণ্য মানুষের মুখে এ কি কথা! সাধারণেই অসাধারণ ছিলেন এ মানুষটি।
সত্যজিৎ রায় পরিচালিত চিড়িয়াখানা চলচ্চিত্রে বিজয় চরিত্রে রূপদান করেন প্রয়াত ভারতীয় চলচ্চিত্র অভিনেতা শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায়। তিনি এক সাক্ষাৎকারে সত্যজিতের ডালভক্তির কথা বলছিলেন। স্মৃতিচারণ করে বলছিলেন, `বিউলির ডাল বা অড়হড়ের ডাল সত্যজিৎ খেতে ভালোবাসতেন। বারবার পাতে তুলে দিতে বলতেন। এই সামান্য ডালটাই তাঁর এত প্রিয় ছিল!'
২০১৭ সালের জুলাই মাসে কলকাতার রাজারহাটে আইকনিক আহেলি রেস্তোঁরায় মাসব্যাপী সত্যজিৎ রায়ের প্রিয় খাবারগুলো পরিবেশন করা হয়েছিল। তাঁর প্রিয় খাবারগুলো থালায় সাজিয়ে পরিবেশন করা হয় তখন। মেনু তৈরি করেছিলেন তাঁর ছেলে সন্দীপ রায় ও পুত্রবধূ ললিতা রায়। থালায় পরিবেশন করা হয়েছিল—লুচি, বেগুন ভজা, মোচার ঘণ্ট, ডাল রায়বাহাদুর ও ভাজা মসলার আলুর দম। সঙ্গে আরও ছিল চিংড়ির মালাই কারি, ভেটকি কালিয়া, কষা মাংস, কাঁচা আমের চাটনি, আর সবশেষে মিষ্টি দই ও সন্দেশ।
বাবার পছন্দের খাবার নিয়ে এক স্মৃতিকথায় সন্দীপ রায় বলেন, ছোটবেলায় আমরা মাঝেমধ্যেই পার্কস্ট্রিটের স্কাইরুমে কন্টিনেন্টাল খাবার খেতে যেতাম। বাড়িতে কখনো-কখনো রয়েলের বিরিয়ানিও আসত। তবে বাবা কিন্তু খুব একটা পাঁচতারা হোটেলে যেতেন না।
সূত্র: ফুডস অফ বেঙ্গল ও টাইমস অব ইন্ডিয়া

হাতের আঙুলের ডগায় নিখুঁত রঙের ছোঁয়া কিংবা নখের সূক্ষ্ম কারুকাজ কেবল সাজগোজ নয়। বরং তা একজন নারীর আত্মবিশ্বাস এবং ব্যক্তিত্বের এক শৈল্পিক বহিঃপ্রকাশ। নখের এই ক্ষুদ্র ক্যানভাসে যাঁরা জাদুর ছোঁয়া দেন, তাঁদেরই একজন বেকি হলিস। মাত্র ২৯ বছর বয়সে তিনি প্রমাণ করেছেন, সদিচ্ছা আর কঠোর পরিশ্রম থাকলে সাধারণ...
১ ঘণ্টা আগে
বয়স বেড়ে যাওয়া প্রকৃতির এক অপরিবর্তনীয় নিয়ম। কিন্তু সেই বার্ধক্য যেন অকালে আমাদের লাবণ্য কেড়ে নিতে না পারে, তার চাবিকাঠি লুকিয়ে আছে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায়। বিভিন্ন গবেষণা জানাচ্ছে, সঠিক পুষ্টি শুধু আমাদের ফিটনেস বা শারীরিক সক্ষমতাই বাড়ায় না, বরং ত্বক সতেজ রেখে দীর্ঘকাল তারুণ্য...
৬ ঘণ্টা আগে
আজ আপনার শরীরে এনার্জি থাকবে অলিম্পিক অ্যাথলেটের মতো। অফিসে আপনার কঠোর পরিশ্রম দেখে বস এতটাই খুশি হবেন যে আপনাকে ‘পুরস্কার’ হিসেবে আরও তিনটি প্রজেক্টের দায়িত্ব গছিয়ে দিতে পারেন। মনে রাখবেন, গাধার খাটুনি আর ঘোড়ার চালের মধ্যে পার্থক্য বজায় রাখাটাই আসল চ্যালেঞ্জ।
৭ ঘণ্টা আগে
বিশ্বের ধনী ও উচ্চ-মধ্যবিত্তদের কাছে ‘গোল্ডেন ভিসা’ শুধু একটি বাড়তি ভিসা নয়; বরং এটি এখন নিরাপত্তা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং উন্নত জীবনের একধরনের নিশ্চয়তা। ২০২৫ সাল সেই বাস্তবতাকেই আরও স্পষ্ট করে দিয়েছে। কোথাও কর্মসূচি বন্ধ, কোথাও কঠোর আইন, আবার কোথাও নতুন করে দরজা খুলে দেওয়া...
৮ ঘণ্টা আগে