বর্ষাকালে ভ্রমণে কোথায় যাওয়া যায়, সে কথা ভাবছেন? তাহলে এই লেখা আপনার জন্য। বর্ষাকালে বাংলাদেশের কিছু কিছু জায়গা যৌবন ফিরে পায় এবং সৌন্দর্যের ঝাঁপি মেলে ধরে। চলুন, জেনে নেওয়া যাক বর্ষাকালে দেশে ভ্রমণের সেরা দশ দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে।
বর্ষায় সিলেট যেন নতুন করে জেগে ওঠে। এই বর্ষায় তাই গন্তব্য হতে পারে সিলেট। এখানে গেলে যে কয়েকটি জায়গা অবশ্যই দেখবেন, সেগুলো হলো রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট, বিছনাকান্দি ও জাফলং। সিলেট থেকে প্রায় ২৬ কিলোমিটার দূরে রাতারগুলের ডুবে যাওয়া বনে রয়েছে প্রায় ৭০ প্রজাতির বেশি গাছপালা ও প্রাণী। বর্ষাকালে গোয়াইন নদ প্লাবিত হয় বলে পুরো বনটি পানিতে তলিয়ে যায় এবং গাছের ছাউনি ছাতার মতো বন ঢেকে দেয়। এ সময় নৌকায় পুরো বন ঘুরে বেড়ানো যায়।
সিলেটের বিছনাকান্দিও বর্ষা মৌসুমে সেজে ওঠে নতুন রূপে। মেঘালয়ের পাহাড় থেকে নেমে আসা স্রোত বিছনাকান্দিকে পাহাড়, জলপ্রপাত ও নদীর মিলনে পরিণত করে। বিছনাকান্দিতে দাঁড়িয়ে দেখা যায় মনোরম খাসিয়া পর্বত।
সিলেটে গেলে যেখানে যেতেই হয়, তা হলো জাফলং। এখানে বাংলাদেশ সীমান্তে দাঁড়িয়ে ভারতের সুউচ্চ পর্বতশ্রেণি দেখা যায়। এসব পাহাড় থেকে নেমে আসা জলপ্রপাত এক মনোরম দৃশ্য সৃষ্টি করে। এ ছাড়া ভারতের ডাউকি বন্দরের ঝুলন্ত সেতুও পর্যটকদের কাছে প্রধান আকর্ষণ। বর্ষার সময় ভারতীয় সীমান্তে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে সর্পিলাকার ডাউকি নদী যেন তার প্রাণশক্তি ফিরে পায়। এই নদীর পানির স্বচ্ছতাও জাফলংয়ের অন্যতম আকর্ষণ।
সুনামগঞ্জ থেকে তাহিরপুরের গাড়ি পাওয়া যায়। গাড়িতে যেতে না চাইলে তাহিরপুর ঘাটে টাঙ্গুয়ার হাওর ভ্রমণের অনেক নৌকা অপেক্ষা করে। আর হাওরে বেড়ানোর মৌসুম হলো বর্ষাকাল। এখন হাওরের সৌন্দর্য উপভোগের জন্য বিভিন্ন প্যাকেজের হাউসবোট পাওয়া যায়। সেখানে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত তো উপভোগ করবেনই, পূর্ণিমার সময় গেলে উপভোগ করা যাবে অপার্থিব এক সৌন্দর্য।
বর্ষায় বান্দরবানে যেতে চাইলে ঘুরে আসতে পারেন নীলাচল থেকে। ঢাকা থেকে বাসে সরাসরি বান্দরবানে যাওয়া যায়। এরপর বান্দরবান থেকে নীলাচলে যেতে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া নিতে হবে অথবা চান্দের গাড়ি বা জিপে কোনো গ্রুপের সঙ্গে উঠে পড়তে হবে। বৃষ্টিভেজা নীলাচল আপনাকে বিমোহিত করবে। বান্দরবানে গেলে অবশ্যই ঘুরে আসবেন দেশের অন্যতম বড় ঝরনা নাফাখুম। তমব্রু থেকে রেমাক্রি আর রেমাক্রি থেকে হেঁটে নাফাখুম যাওয়া এক রোমাঞ্চকর অ্যাডভেঞ্চার। বর্ষায় পানির শীতল ধারা, ঝরনার স্রোত আর চারপাশের সবুজ প্রকৃতি অসাধারণ দৃশ্য উপহার দেবে এ-যাত্রা।
রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়িতে অবস্থিত সাজেক ভ্যালি দেশের অন্যতম সেরা পর্যটন আকর্ষণ। মেঘের লুকোচুরি খেলা কিংবা মেঘ ছুঁয়ে দেখতে চাইলে সাজেকের বিকল্প নেই। রুইলুইপাড়া ও কংলাক পাড়ার সমন্বয়ে গঠিত সাজেক ভ্যালি থেকে রাঙামাটির বেশ কিছু অংশ দেখে যায়। তাই সাজেক ভ্যালিকে রাঙামাটির ছাদ বলা হয়। সাজেক এমনই এক আশ্চর্যজনক জায়গা, যেখানে বর্ষা নিয়ে আসে এক দারুণ দৃশ্যপট। রাঙামাটি গেলে কাপ্তাই লেক ঘুরে আসতে ভুলবেন না। পার্বত্য সৌন্দর্যের রূপের রানি কাপ্তাই। অথই জলরাশি, পাহাড় এবং চোখজুড়ানো সবুজের সমারোহে ঘেরা ১১ হাজার বর্গকিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত কাপ্তাই লেক। এটি আয়তনের দিক থেকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বড় কৃত্রিম হ্রদ। অফুরন্ত জীববৈচিত্র্যে পূর্ণ কাপ্তাই লেকের চারপাশের পরিবেশ, অসংখ্য পাখি এবং হ্রদকেন্দ্রিক মানুষের জীবনযাত্রা পর্যটকদের বরাবরই মুগ্ধ করে।

এক অপার সৌন্দর্যভূমি বান্দরবানের থানচি। পাহাড়, নদী আর পাথরের এক অনন্য মেলবন্ধনে গড়ে উঠেছে এই পাহাড়ি জনপদ। দুই পাহাড়ের বুক চিরে আপন গতিতে বয়ে চলা সাঙ্গু নদী যেন এক জীবন্ত ক্যানভাস। আর সেই রুপালি নদীর বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে পাথরের দেশের এক মুকুটধারী রাজা।
২১ মিনিট আগে
বহুদিনের একটি ইচ্ছা পূরণ করার জন্য রওনা হলাম ঘিওরের কাউটিয়া গ্রামের পথে। গন্তব্য কালীগঙ্গা নদীতীরে দাঁড়িয়ে থাকা শতবর্ষী একটি বটগাছ। উত্তর-পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে এঁকেবেঁকে বয়ে চলেছে কালীগঙ্গা। নদীর সেই চিরচেনা রূপের সমান্তরালে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে এক প্রাচীন বটবৃক্ষ।
২ ঘণ্টা আগে
বর্ষায় ঘুরে বেড়ানোর জন্য দারুণ এক ঋতু। তবে এই ঋতুতে ভ্রমণ করার জন্য প্রয়োজন বিশেষ প্রস্তুতি; বিশেষ করে পোশাক ও ব্যাগ হতে হবে পানিরোধী। আর জুতা হতে হবে বিশেষ ধরনের, যাতে পানি পড়লেও নষ্ট না হয় এবং হাঁটার সময় পিছলে পড়া থেকে রক্ষা করতে পারে।
৩ ঘণ্টা আগে
বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন ও ব্যবসাকেন্দ্র দুবাই জনসমক্ষে আচরণ এবং বিভিন্ন উৎসব-অনুষ্ঠান উদ্যাপন নিয়ে নতুন সরকারি নির্দেশিকা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। শহরটিকে বিশ্বের সবচেয়ে সভ্য ও বাসযোগ্য নগরীগুলোর একটি হিসেবে আরও সুসংহত করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে দুবাই প্রশাসন।
১১ ঘণ্টা আগে