
মানুষ কিসে তৃপ্ত হয়? এই প্রশ্নের সহজ কোনো উত্তর হয় না। কিন্তু এক অর্থে বলা চলে, ‘মানুষের উপস্থিতি’তে মানুষ তৃপ্ত হয়। ডিজিটাল যেকোনো পণ্য যখন বাজারে আসে, মানুষ তাতে হুমড়ি খেয়ে পড়ে। ২০১২ সালে টিন্ডার নামের ‘ডেটিং’ অ্যাপটি আসার পরও মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়েছিল তার ওপর ‘মনের মতো মানুষ’ খুঁজে পাওয়ার জন্য। কিন্তু অবাস্তব সেই দুনিয়ায় মানুষকে পণ্যের মতো ব্যবহার, অবিশ্বাস, হতাশা, ডেটিং বার্ন আউট ইত্যাদি কারণে দেড় দশক না যেতেই এখন তাতে মানুষ ক্লান্ত। তারপরেও ডেটিং অ্যাপের ক্লান্তির চক্রে আটকে আছেন আক্ষরিক অর্থে মিলিয়ন মিলিয়ন মানুষ।
গবেষণা বলছে, অ্যাপগুলো তাদের ব্যবহারকারীদের মধ্যে একটি চেনা প্যাটার্ন তৈরি করতে পারে; যেটি ডেটিংকে ডেটিংয়ের চেয়ে চাপযুক্ত চাকরির মতো অনুভব করায়। বিভিন্ন গবেষণার তথ্য জানাচ্ছে, ডেটিং অ্যাপ ব্যবহারকারীদের মধ্যে বিষণ্নতা, উদ্বেগ এবং একাকিত্বের হার বেশি। যাঁরা আগে থেকে সেসব সমস্যায় ভুগছিলেন, তাঁদের ওপর এর প্রভাব আরও নেতিবাচক।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির রিলেশনশিপ অ্যান্ড টেকনোলজি ল্যাবের পরিচালক লিজেল শারাবি বলেন, ‘দেখে মনে হয়, অ্যাপগুলোর লক্ষ্য ব্যবহারকারীদের লক্ষ্যের সঙ্গে মৌলিকভাবে বেমানান।’ যদি মানুষ দারুণ অপশন পেত এবং অসাধারণ ডেটে যেতে পারত, তাহলে তারা চিরতরে অ্যাপগুলো ছেড়ে দিতে পারত। কিন্তু তেমনটা ঘটছে না। মানুষ শুধু ক্রমাগত অ্যাপ ব্যবহার করছে আর ছাড়ছে বলে জানান লিজেল।
যদি একবার সেসব অ্যাপ ব্যবহার ছেড়ে দিয়ে আপনি ‘ভালোবাসার খোঁজে’ আবার সেগুলোতে ফিরে এসে থাকেন, তাহলে আপনিও হয়তো এখন সেই চক্রের মধ্যে রয়েছেন। সুখবর হলো, একবার আপনি এটি চিনতে পারলে, নিজেকে রক্ষা করার জন্য কিছু সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিতে পারেন।
২০২৪ সালের একটি গবেষণায় তিন মাস ধরে শত শত ডেটিং অ্যাপ ব্যবহারকারীকে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছিল। শারাবি বলেন, ‘আমরা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দেখতে পাই, ডেটিং অ্যাপ ব্যবহারকারীরা সার্বিকভাবে বার্ন আউটের শিকার হচ্ছিলেন, যেটি খুবই স্বাভাবিক। আপনি যদি অ্যাপটিতে আটকে থাকেন, তার মানে আপনি যা খুঁজছেন, তা পাননি। কিন্তু এই অভিজ্ঞতা হতাশার চেয়ে অনেক বেশি গুরুতর ছিল।’
‘বার্ন আউট’ শব্দটি এত বেশি ব্যবহৃত হয় যে এটি তার অর্থ হারাতে শুরু করেছে। কিন্তু এর আরও একটি আনুষ্ঠানিক মনস্তাত্ত্বিক সংজ্ঞা রয়েছে। প্রচলিত পরিমাপকটি বার্ন আউটকে তিনটি ভাগে পরিমাপ করে—মানসিক অবসাদ, আত্মবিচ্ছিন্নতা এবং অদক্ষতা।
শিক্ষাবিদেরা প্রথমে উচ্চ-চাপযুক্ত কর্মপরিবেশে এর তাত্ত্বিক আলাপ করেছিলেন। কিন্তু গবেষণা এটিকে জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রেও প্রসারিত করেছে। শারাবির মতে, এসব ডেটিং অ্যাপ ব্যবহার করার পর যদি আপনি অনুপ্রেরণাহীন, পরাজিত এবং ক্লান্তি বোধ করেন, তবে তা বার্ন আউটের লক্ষণ হতে পারে। শারাবি বলেন, ‘যখন প্রোফাইলগুলোর একে অপরের সঙ্গে আলাপচারিতায় মানবিক ছোঁয়া থাকে না, তখন হতাশা দেখা দেয়।’
শারাবি সম্প্রতি একটি মেটা-অ্যানালাইসিসের নেতৃত্ব দিয়েছেন, যেখানে প্রায় ২৬ হাজার মানুষের ওপর করা ১৭ বছরের গবেষণা একত্র করা হয়েছে। সেসব গবেষণায় দেখা গেছে, ডেটিং অ্যাপ ব্যবহারকারীরা অ্যাপ ব্যবহার না করা ব্যক্তিদের তুলনায় মানসিক স্বাস্থ্যের দিক থেকে খারাপ থাকার কথা জানিয়েছেন। তাঁদের অনেকের মধ্যে ছিল বিষণ্নতা, উদ্বেগ, আবেগীয় নিয়ন্ত্রণহীনতা, একাকিত্ব এবং মানসিক যন্ত্রণা। যাঁরা শুরুতে দুর্বল মানসিক অবস্থা নিয়ে ডেটিং অ্যাপে যোগ দেন, তাঁদের ওপর এই সমস্যাগুলো আরও বেশি করে প্রভাব ফেলে।
ডেটিং অ্যাপ ইন্ডাস্ট্রি চায় না তাদের ব্যবহারকারীরা ক্লান্ত হয়ে পড়ুক। হিঞ্জ নামের একটি ডেটিং অ্যাপের এক মুখপাত্র বিবিসিকে বলেন, ‘ডেটিং অ্যাপ ব্যবহারকারীদের চাহিদা ক্রমাগত পরিবর্তিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা মানুষকে অর্থপূর্ণ সংযোগ স্থাপন করতে এবং সেই সংযোগগুলোকে চমৎকার ডেটে পরিণত করতে সাহায্য করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
অন্যদিকে শারাবি বলেন, ‘অ্যাপগুলো নির্দিষ্ট কিছু ব্যবহারকারীর দুর্দশা আরও বাড়িয়ে তোলে। এগুলোর মধ্যে একটি হলো বিষয়টিকে গেমের মতো করে উপস্থাপন।’
লস অ্যাঞ্জেলেসের এক অফিস প্রশাসক ক্যারেন করনেজো বলেন, ‘সোয়াইপ করাটা আপনাকে একধরনের উত্তেজনা দেবে। তারপর অন্য সবকিছুতে আর কোনো উত্তেজনা থাকে না। যখন কোনো ম্যাচ সত্যিই দেখা করতে চায়, ততক্ষণে সেই উত্তেজনা চলে যায়।’
ব্রুকলিনের এক লেখক ও কৌতুকশিল্পী ডালাস কোয়েলিং বছরের পর বছর ধরে কয়েকটি অ্যাপ ব্যবহার করেছেন। তিনি আরও সরাসরিভাবে বলেন, ‘হিঞ্জে লাইক পাওয়ার নোটিফিকেশনটা পেলে মনে হয় যেন বন্দুকের মুখে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।’
শারাবি বলেন, ‘একটি প্রোফাইল থেকে খুব বেশি কিছু জানা যায় না বলে অসংখ্য মানুষের ভিড়ও ক্লান্তিবোধে ভূমিকা রাখে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আপনি প্রোফাইল দেখা থেকে শুরু করে ব্যর্থ কথোপকথন, তারপর ব্যর্থ ডেট—এই অন্তহীন চক্রে আটকা পড়বেন এবং আবার আগের জায়গায় ফিরে আসবেন।’
ডেটিং অ্যাপগুলো একটি ব্যবসাও বটে। এর প্রায় সব আয় আসে সাবস্ক্রিপশন এবং পেইড ফিচার থেকে। এর মানে হলো, মানুষ এগুলোর ব্যবহার ছেড়ে দিলে প্রতিষ্ঠানগুলোর লোকসান হয়। শারাবি জানান, বছরের পর বছর ধরে ডেটিং অ্যাপ ব্যবহারকারীরা প্রতারিতবোধ করেন। অ্যাপগুলো সেরা সঙ্গীদের আটকে রেখে তাদের আবেগ কাজে লাগিয়ে ট্যাপ ও সোয়াইপ করতে উৎসাহিত করে। ডেটিং অ্যাপ কোম্পানিগুলো এই অভিযোগ দ্ব্যর্থহীনভাবে অস্বীকার করলেও এর অ্যালগরিদমগুলো বড় রহস্যময়!
অ্যাপগুলো ব্যবহারকারীদের সোয়াইপ করতে উৎসাহিত করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে এবং অনিয়ন্ত্রিত থাকলে এই সোয়াইপিংই মানুষকে ক্লান্ত করে তোলে। কিন্তু শারাবি জানিয়েছেন, ক্লান্তির লক্ষণগুলো এড়াতে এবং মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে কিছু সহজ পদক্ষেপ অনুসরণ করা যেতে পারে—
অ্যাপগুলোকে আপনার যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম বানাবেন না
শারাবি বলেন, ‘আমি কাউকে এগুলো ব্যবহার করতে কখনো নিরুৎসাহিত করি না।’ কিন্তু মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার জন্য এগুলোই একমাত্র উপায় হওয়া উচিত নয় বলে মনে করেন তিনি। সে রকম মনে করলে চাপ কিছুটা কমে যায়। তিনি বরং মানুষদের কোনো দৌড়ের ক্লাবে যোগ দিতে বা এমন কাজে যুক্ত হতে বলেন, যেখানে তাঁরা পুরোনো পদ্ধতিতে অন্যদের সঙ্গে পরিচিত হতে পারেন।
উদ্দেশ্য নিয়ে সোয়াইপ করুন
উদ্দেশ্যহীনভাবে সোয়াইপ করতে করতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে যেতে পারে এবং এর কোনো ফল পাওয়া যায় না। শারাবি অ্যাপগুলোকে সেভাবেই ব্যবহার করার পরামর্শ দেন, যেভাবে আজকাল কিছু মানুষ সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করেন।
আপনার বন্ধুদের ওপর নির্ভর করুন
একাকিত্বে বার্ন আউট বাড়ে এবং এর জন্য প্রয়োজনীয় সোয়াইপিংয়ের বেশির ভাগই একা একা করা হয়। বার্ন আউট নিয়ে গবেষণা করেন এমন গবেষকেরা দীর্ঘদিন ধরে দেখেছেন, সামাজিকতা এর প্রভাব কমাতে সাহায্য করে। তাই বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। পরিচিত মানুষদের সঙ্গে জীবনের উত্থান-পতন নিয়ে কথা বললে একটি খারাপ সপ্তাহকে আরও খারাপ চক্রে পরিণত হওয়া থেকে রক্ষা করা যায়।
কখন থামতে হবে তা জানুন
ডেটিং হতাশাজনক হতে পারে। কিন্তু যদি অ্যাপগুলো আপনার আশা নষ্ট করে দেয় এবং আপনি ফোন রাখার পর মনে করতে শুরু করেন, আপনি কখনো কাউকে খুঁজে পাবেন না, তাহলে আপনার ডেটিং অ্যাপ থেকে সরে আসার সময় হয়েছে। শারাবি বলেন, ‘এই সবকিছুই আপনার হয়তো পুরোপুরি বিরতি নেওয়ার লক্ষণ হবে।’
সূত্র: বিবিসি

এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে টিকটকে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। তাতে দেখা যায়, দারুণ পাহাড়ি প্রকৃতির মাঝ দিয়ে কাঁদতে কাঁদতে হেঁটে চলেছেন এক নারী। ভিডিওটির মূলকথা ছিল, পাহাড়ে হাইকিংয়ে গিয়ে যখন দেখেন, আপনাকে মাঝপথে একা ফেলে সঙ্গীটি চলে যায়, তখন বোঝা যায়, সে আপনাকে কখনোই ভালোবাসেনি
৭ ঘণ্টা আগে
এ সময়টায় যদিও সবার বাড়িতে গরু বা খাসির মাংস থাকে; কিন্তু এসব লাল মাংস খান না, এমন অতিথি হঠাৎ বাড়িতে এলে রান্না করতে পারেন মুরগির মাংসের কোর্মা। তার রেসিপি ও ছবি পাঠিয়েছেন রন্ধনশিল্পী আফরোজা খানম মুক্তা। মুরগির মাংস বড় টুকরো করে কেটে ধুয়ে নিন। টক দই, আদা, রসুন, মরিচ ও ধনেবাটা দিয়ে মেখে ঘণ্টাখানেক...
৯ ঘণ্টা আগে
ঈদের দীর্ঘ ছুটি কাটিয়ে অনেকে কর্মস্থলে ফিরেছেন। কেউ কেউ ফিরবেন আরও কয়েক দিন বাদে। দীর্ঘ অবসরের পর আবার রোজ সকালে হন্তদন্ত হয়ে অফিসের পথে পা বাড়ানো। আবার একগাদা ফাইলে মুখ গুঁজে বসে থাকার দিন শুরু হলেও কিছুতেই আপনার শরীর ও মন বুঝতে পারছে না, ছুটি আসলেই শেষ। উৎসবে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে আনন্দঘন সময়...
১১ ঘণ্টা আগে
ঈদের টানা ছুটি কাটিয়ে এবার কাজকর্মে ফেরার পালা। একই সঙ্গে ঈদের খাওয়াদাওয়ার ফলে খানিক ভারী হয়ে যাওয়া শরীরকে আগের জায়গায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়ও বটে। উৎসবে বেশি খাওয়া হবে, তা নিয়ে অপরাধবোধে না ভুগে বরং ধীরেসুস্থে স্বাস্থ্যকর জীবনে ফেরার চেষ্টা করুন।
১ দিন আগে