Ajker Patrika

একাকিত্বের দুই পিঠ: কখন প্রয়োজন আর কখন এটি বিপজ্জনক

ফিচার ডেস্ক
একাকিত্বের দুই পিঠ: কখন প্রয়োজন আর কখন এটি বিপজ্জনক
একাকিত্ব মানেই নিঃসঙ্গতা নয়। এটি হতে পারে আপনার আত্মার সঙ্গে পুনরায় পরিচয়ের লগ্ন। তবে খেয়াল রাখতে হবে, এই দেয়াল যেন আপনাকে বন্দী না করে ফেলে। ছবি: পেক্সেলস

মানুষ সামাজিক জীব হলেও জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে আমরা একাকিত্ব বা আইসোলেশনের মুখোমুখি হই। আধুনিক জীবনে এটি কখনো আমাদের স্বস্তি দেয়, আবার কখনো টেনে নিয়ে যায় অন্ধকারের দিকে। প্রশ্ন হলো, কখন একাকিত্ব আপনার জন্য প্রয়োজন আর কখন এটি থেকে বেরিয়ে আসা জরুরি? একাকিত্ব বা আইসোলেশন যখন অভ্যাসে পরিণত হয়, তখন তা থেকে বেরিয়ে আসা পাহাড় ডিঙানোর মতো কঠিন মনে হতে পারে।

বিশেষ করে, যাঁরা ঘরে বসে কাজ করেন কিংবা মানসিকভাবে বিষণ্নতা বা উদ্বেগের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, তাঁদের জন্য এটি একটি ‘বিপজ্জনক চক্র’। কিন্তু সচেতনভাবে নিজের সঙ্গে সময় কাটানো মানসিক ও শারীরিক উন্নতির জন্য এক অভাবনীয় সুযোগ হতে পারে। তাই এটা জানা অনেক জরুরি যে, কখন একা সময় কাটানো দরকার আর কখন সেখান থেকে বের হয়ে আসতে হবে।

কখন এবং কেন দরকার ‘সেলফ-আইসোলেশন’

ব্যস্ত জীবনের যান্ত্রিকতা থেকে মুক্তি পেতে সচেতনভাবে নেওয়া ‘অ্যালোন টাইম’ বা নির্জনতা মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য অভাবনীয় সুযোগ হতে পারে।

আত্ম-আবিষ্কার: সারাক্ষণ অন্যের প্রত্যাশা পূরণ করতে গিয়ে আমরা নিজেদের হারিয়ে ফেলি। নির্জনতা একজন মানুষকে নিজের মূল্যবোধ ও লক্ষ্য নিয়ে ভাবার সুযোগ দেয়।

সৃজনশীলতার বিকাশ: কোলাহলমুক্ত পরিবেশে মস্তিষ্ক অনেক বেশি সৃজনশীল হয়। অনেক দিন ধরে ভেবে রাখা সেই গল্প লেখা, ছবি আঁকা বা কোনো নতুন শখের চর্চা করার জন্য এটিই সেরা সময়। কোনো বিচারকের ভয় ছাড়াই আপনি নিজের সৃজনশীলতাকে ডানা মেলতে দিতে পারেন।

একাকিত্ব কাটাতে আপনার পরিচিত সার্কেলের সবচেয়ে মিশুক বন্ধুটির সঙ্গে ঘুরতে বের হন। সে নিজেই কথোপকথন চালিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব নেবে। ছবি: পেক্সেলস
একাকিত্ব কাটাতে আপনার পরিচিত সার্কেলের সবচেয়ে মিশুক বন্ধুটির সঙ্গে ঘুরতে বের হন। সে নিজেই কথোপকথন চালিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব নেবে। ছবি: পেক্সেলস

স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের শুরু: ঘরে রান্না করা, ইয়োগা বা পর্যাপ্ত ঘুমের মাধ্যমে শরীরকে পুনরুজ্জীবিত করার সুযোগ মেলে এ সময়ে। যেমন জিমের মেম্বারশিপ ছাড়াই লিভিং রুমে ইয়োগা বা ফ্রি-হ্যান্ড এক্সারসাইজ শুরু করতে পারেন। কিংবা ঘরে বসে নিজেই খাবার তৈরি করে খেলেন। অথবা পর্যাপ্ত ঘুমানো এবং ত্বকের বা চুলের দীর্ঘমেয়াদি ট্রিটমেন্ট নিতে পারেন।

মানসিক প্রশান্তি: কোনো সামাজিক চাপ ছাড়াই নিজের মতো থাকতে পারেন। এমনকি সারা দিন পায়জামা পরে প্রিয় সিনেমা দেখার স্বাধীনতা কেবল আইসোলেশনেই সম্ভব।

সম্পর্কের মূল্যায়ন: বিচ্ছিন্ন থাকা আপনাকে বুঝতে সাহায্য করে যে, আপনার জীবনে কোন মানুষগুলো আসলেই গুরুত্বপূর্ণ। এটি আপনার সম্পর্কের গভীরতা ও প্রয়োজনীয়তা বুঝতে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি দেয়। এ ছাড়া দূরে থাকা আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে ফোন বা ভিডিওকলে দীর্ঘ আলাপ করার সুযোগ তৈরি হয়।

একাকিত্ব কখন বিপজ্জনক

একাকিত্ব মানেই নিঃসঙ্গতা নয়। এটি হতে পারে আপনার আত্মার সঙ্গে পুনরায় পরিচয়ের লগ্ন। তবে খেয়াল রাখতে হবে, এই দেয়াল যেন আপনাকে বন্দী না করে ফেলে। নির্জনতাকে ব্যবহার করুন নিজেকে সমৃদ্ধ করতে। কিন্তু যখনই তা বোঝা হয়ে দাঁড়াবে, তখন ছোট ছোট পদক্ষেপে আবার ফিরে আসুন জীবনের মূল স্রোতে। আইসোলেশন যখন প্রশান্তি না দিয়ে উল্টো হীনমন্যতা তৈরি করে, তখন বুঝতে হবে—আপনি বিপদে আছেন। এর জন্য তিনটি বিষয়ে খেয়াল রাখতে পারেন—

১. যখন আপনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এড়িয়ে চলেন এবং নিজেকে মূল্যহীন ভাবতে শুরু করেন।

২. যখন ঘরে একা থাকাটা অভ্যাসে পরিণত হয় এবং মানুষের সামনে যেতে ভয় কাজ করে।

৩. যখন বিষণ্নতা, উদ্বেগ বা দীর্ঘমেয়াদি ক্লান্তি আপনার স্বাভাবিক জীবনকে স্থবির করে দেয়।

একাকিত্ব উপভোগ করার জন্য জিমের মেম্বারশিপ ছাড়াই লিভিং রুমে ইয়োগা বা ফ্রি-হ্যান্ড এক্সারসাইজ শুরু করতে পারেন। ছবি: পেক্সেলস
একাকিত্ব উপভোগ করার জন্য জিমের মেম্বারশিপ ছাড়াই লিভিং রুমে ইয়োগা বা ফ্রি-হ্যান্ড এক্সারসাইজ শুরু করতে পারেন। ছবি: পেক্সেলস

একাকিত্ব থেকে বেরিয়ে আসার ৫ উপায়

যদি অনুভব করেন একাকিত্ব আপনাকে গিলে খাচ্ছে, তবে নিচের কৌশলগুলো অবলম্বন করুন:

১। হঠাৎ বড় আড্ডায় না গিয়ে ছোট যোগাযোগ শুরু করুন। কাউকে ‘কেমন আছ?’ টেক্সট পাঠানো বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছোট মন্তব্য করাও এই একাকিত্বকে বিদায় জানানোর শুরু হতে পারে। মনে রাখবেন, কাজের ইচ্ছা জাগার অপেক্ষা না করে আগে কাজ শুরু করুন। ভালো লাগা পরে আসবেই।

২. সরাসরি কথা বলতে জড়তা কাজ করলে ক্যাফে, লাইব্রেরি বা পার্কে গিয়ে বই পড়ুন। চারপাশে মানুষের উপস্থিতি আপনার একাকিত্বের নেতিবাচক প্রভাব কমিয়ে দেবে। একে বলা হয় ‘অ্যাম্বিয়েন্ট কোম্পানি’।

৩. সরাসরি দেখা করা ক্লান্তিকর মনে হলে ভার্চুয়াল হ্যাংআউট বেছে নিন। জুম বা অনলাইন গেমিংয়ের মাধ্যমে ঘরে বসেই অন্যদের সঙ্গে সংযুক্ত থাকুন।

৪. আপনার পরিচিত সার্কেলের সবচেয়ে মিশুক বন্ধুটির সঙ্গে ঘুরতে বের হন। সে নিজেই কথোপকথন চালিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব নেবে। ফলে আপনার ওপর বাড়তি চাপ ছাড়াই সামাজিক জড়তা কাটতে শুরু করবে।

৫. মন যখন বলবে ‘কেউ আমাকে চায় না’, তখন তাকে পাল্টা প্রশ্ন করুন—‘হয়তো সে-ও সংকোচে আছে অথবা আমাকে মনে করছে?’ নিজেকে প্রতিদিন ইতিবাচক কথা বলুন। কারণ, আপনি যা বলবেন, আপনার মস্তিষ্ক তা-ই বিশ্বাস করবে।

সূত্র: ওয়ান্ডার মাইন্ড, স্টার্স ইনসাইডার

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

বিএনপি সরকার গঠন করলে এনসিপির অবস্থান কী হবে, যা জানালেন নাহিদ ইসলাম

নওগাঁয় হাসপাতালের সামনে পড়ে ছিল রাজস্ব কর্মকর্তার রক্তাক্ত লাশ

যেভাবে হত্যা করা হয় মুয়াম্মার গাদ্দাফির পুত্র সাইফকে

জামায়াত প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনের কী হবে

অনলাইন গেমের নেশা: নিষেধ করায় গভীর রাতে ৯ তলা থেকে ঝাঁপ দিল ৩ বোন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত