সানজিদা সামরিন

ঢাকা: ‘একটু ভালো করে বাঁচবো বলে আর একটু বেশি রোজগার ছাড়লাম ঘর আমি ছাড়লাম ভালোবাসা আমার নীলচে পাহাড়।’
কে জানত একুশ শতকে বহু শোনা অঞ্জন দত্তের এই গানের কথাই সত্যে পরিণত হবে! এই জটিল অর্থনৈতিক হিসেবের সময়ে একটু ভালো করে বাঁচার জন্য একটু বেশি রোজগার করতে ছুটছি আমরা রাত–দিন। ছুটছি তো ছুটছি। যাঁরা বেশি রোজগার করছেন, তাঁরা আরও বেশি রোজগার করার আশায় ছুটছেন নিরন্তর। ছুটছেন কাজের পেছনে। এই করপোরেট রাজ্যে সবকিছুই এখন কাজ আর অর্থের মাপকাঠিতে মাপার প্রবণতা বেড়েছে। যুগের হাওয়ার কথা বলে ‘যত কাজ, তত টাকা’ প্রবাদে গা ভাসিয়ে দেওয়াই যায়। কিন্তু বিজ্ঞানীরা সে পথে হাঁটতে নিষেধ করছেন। রীতিমতো গবেষণা করেই তাঁরা দেখিয়েছেন, কাজের চাপ যত বেশি, আপনার মৃত্যুর সময় ততই কাছে! এ গবেষণা চালিয়েছে খোদ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
বেশি কাজ করে বেশি আয় করতে গিয়ে পরিশ্রম অনুপাতে বিশ্রাম নেওয়াও যে প্রয়োজন, সে বিষয়টি আমরা ভুলতে বসেছি। এ ছাড়া আমরা মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিই না। ফলে অতিরিক্ত কাজের চাপে যে মানসিক স্বাস্থ্যহানি হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে আমাদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ১৯৪টি দেশের ওপর তাদের গবেষণাটি চালিয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, টানা ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাজ করার ফলে বছরে মারা যান কয়েক হাজার মানুষ। আর করোনা মহামারির এই সময়ে এ হার আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
‘এনভায়রনমেন্ট ইন্টারন্যাশনাল’ জার্নালে প্রকাশিত দীর্ঘ কর্মঘণ্টার কারণে প্রাণহানিবিষয়ক বিশ্বের প্রথম এ গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১৬ সালে টানা কাজ করার ফলে ৭ লাখ ৪৫ হাজার মানুষ হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে অথবা স্ট্রোকে মারা গেছেন। আর এ হার ২০০০ সালের চেয়ে ৩০ শতাংশ বেশি ছিল।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক মারিয়া নিরা বলেন, সপ্তাহে ৫৫ ঘণ্টা বা তার বেশি কাজ করা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি বয়ে আনতে পারে। তিনি আরও বলেন, কর্মীদের সুরক্ষার জন্য এ তথ্যটি আরও বেশি প্রচার করা প্রয়োজন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দেওয়া তথ্যমতে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বিশেষভাবে চীন, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসকারী কর্মীরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
করোনাকালীন অন্তত ৯ শতাংশ মানুষ দীর্ঘ সময় কাজ করছেন। অর্থনৈতিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে দীর্ঘ সময় কাজ করার প্রবণতা বাড়তে থাকায় এই ঝুঁকি আরও বাড়ছে।
অধিক কর্মঘণ্টায় যেসব স্বাস্থ্যঝুঁকি:
কাজ জীবনকে গতিশীল করে। করে ছন্দময়। তবে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করলে জীবন পানসে হয়ে আসে, তৈরি হয় হতাশাসহ বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক সমস্যা। বাড়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি। সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তাদের এক প্রতিবেদনে বলেছে, দীর্ঘ সময় কাজ করা মৃত্যুর অন্যতম কারণ। ‘এনভায়রনমেন্ট ইন্টারন্যাশনাল জার্নালে’ প্রকাশিত গবেষণাটিতে বলা হয়েছে, ২০১৬ সাল থেকে যাঁরা দীর্ঘসময় ধরে কাজ করে যাচ্ছেন, তাঁদের মধ্যে ৭ লাখ ৪৫ হাজার মানুষ স্ট্রোক ও হৃদ্রোগজনিত কারণে মারা গেছেন।
বছরের পর বছর অতিরিক্ত সময় কাজ করা এবং বেশি চাপ নেওয়া স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। দীর্ঘসময় কাজ করলে যেসব স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ে সেগুলো হলো—
হৃদ্রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি
‘ল্যানসেট’–এ প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যাঁরা বছরের পর বছর অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা অনুযায়ী কাজ করেন, তাঁদের হৃদ্রোগের ঝুঁকি বেশি থাকে। যাঁরা স্বাভাবিক কর্মঘণ্টা মেনে কাজ করেন, তাঁদের ঝুঁকি কম থাকে। গবেষকেরা অনুমান করছেন, সপ্তাহে ৬১-৭০ ঘণ্টা কাজ করলে হার্টের রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে ৪২ শতাংশ। যদি সপ্তাহে ৭১-৮০ ঘণ্টা কাজ করা হয়, তাহলে ঝুঁকি বাড়ে ৬৩ শতাংশ। কারণ, বসে কাজ করলে শরীরের চর্বি কম খরচ হয়। ফলে ফ্যাটি অ্যাসিড ধমনিতে জমাট বাঁধতে থাকে।
মেরুদণ্ডে ব্যথা
অতিরিক্ত সময় কাজ করলে আপনার প্রতিষ্ঠান খুশি থাকলেও, স্বাস্থ্য ভালো থাকবে না। শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ, বিশেষ করে মেরুদণ্ডে ব্যথা হতে পারে। ধীরে ধীরে হাড় ক্ষয় হতে শুরু করবে। যত বেশি চেয়ারে বসে থাকবেন, তত বেশি মেরুদণ্ডের ব্যথা বাড়বে। বাড়বে ঘাড়ের ব্যথাও। টানা বসে থাকলে পায়ের ওপর চাপ পড়ে। এতে শিরা বড় হয়ে যেতে পারে।
ডায়াবেটিসের ঝুঁকি
যারা হাঁটাচলা কম করেন, বসে কাজ বেশি করেন, তাঁদের ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে। এমনটাই মনে করছেন নরওয়ের ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলোজির গবেষকেরা।
ওজন বৃদ্ধি
অফিসে একটানা বসে কাজ করলে হাঁটাচলা হয় না। শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের সঞ্চালন হয় না। এ কারণে ওজন বৃদ্ধি পায়। আর অতিরিক্ত ওজন শরীরের অন্যান্য ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। নির্দিষ্ট সময়ের বেশি কাজ করলে শরীরে আরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
ক্লান্তি ও দুর্বলতা
দীর্ঘসময় ধরে কাজ করলে কিংবা অতিরিক্ত চাপ নিয়ে কাজ করলে ক্লান্তি ও দুর্বলতা বাড়তে থাকে। কেননা সারাক্ষণ কম্পিউটার স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকলে স্ক্রিনের আলো চোখ ও মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলে। এতে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। গবেষকেরা বলেন, গভীর ঘুম মস্তিষ্ককে সতেজ করে। ঘুম ক্লান্তি ও দুর্বলতা দূর করে। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের বেশি সময় কাজ করলে ঘুমাতে দেরি হয়। এর ফলে শরীরের ক্লান্তি দূর হয় না।
মস্তিষ্কের ক্ষতি
দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করলে মস্তিষ্কের যে অংশ নতুন স্মৃতি গঠন করে, তা দুর্বল হয়ে পড়ে। এতে মস্তিষ্কের ক্ষয় হয়। এমনটাই জানা গেছে লস অ্যাঞ্জেলসের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার এক গবেষণা থেকে। তাই নিয়মিত বেশি সময় কাজ করা ঠিক নয়।
উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি
জাপানের গবেষকেরা পাঁচ বছর ধরে গবেষণা করে জানিয়েছেন, নিয়মিত দীর্ঘক্ষণ কাজ করলে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ে। তারা ৯৪১ জন পুরুষের ওপর এ গবেষণা করেন।
বাড়ে উদ্বেগ
অধিক কাজ করলে, মনের প্রশান্তি না থাকলে ধীরে ধীরে বাড়ে উদ্বেগ। একজন মানুষ মানসিকভাবে বিষণ্ণ হয়ে যান। আর মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও বিষণ্ণতা থেকে যেকোনো বড় অসুখ হতে পারে।

ঢাকা: ‘একটু ভালো করে বাঁচবো বলে আর একটু বেশি রোজগার ছাড়লাম ঘর আমি ছাড়লাম ভালোবাসা আমার নীলচে পাহাড়।’
কে জানত একুশ শতকে বহু শোনা অঞ্জন দত্তের এই গানের কথাই সত্যে পরিণত হবে! এই জটিল অর্থনৈতিক হিসেবের সময়ে একটু ভালো করে বাঁচার জন্য একটু বেশি রোজগার করতে ছুটছি আমরা রাত–দিন। ছুটছি তো ছুটছি। যাঁরা বেশি রোজগার করছেন, তাঁরা আরও বেশি রোজগার করার আশায় ছুটছেন নিরন্তর। ছুটছেন কাজের পেছনে। এই করপোরেট রাজ্যে সবকিছুই এখন কাজ আর অর্থের মাপকাঠিতে মাপার প্রবণতা বেড়েছে। যুগের হাওয়ার কথা বলে ‘যত কাজ, তত টাকা’ প্রবাদে গা ভাসিয়ে দেওয়াই যায়। কিন্তু বিজ্ঞানীরা সে পথে হাঁটতে নিষেধ করছেন। রীতিমতো গবেষণা করেই তাঁরা দেখিয়েছেন, কাজের চাপ যত বেশি, আপনার মৃত্যুর সময় ততই কাছে! এ গবেষণা চালিয়েছে খোদ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
বেশি কাজ করে বেশি আয় করতে গিয়ে পরিশ্রম অনুপাতে বিশ্রাম নেওয়াও যে প্রয়োজন, সে বিষয়টি আমরা ভুলতে বসেছি। এ ছাড়া আমরা মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিই না। ফলে অতিরিক্ত কাজের চাপে যে মানসিক স্বাস্থ্যহানি হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে আমাদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ১৯৪টি দেশের ওপর তাদের গবেষণাটি চালিয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, টানা ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাজ করার ফলে বছরে মারা যান কয়েক হাজার মানুষ। আর করোনা মহামারির এই সময়ে এ হার আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
‘এনভায়রনমেন্ট ইন্টারন্যাশনাল’ জার্নালে প্রকাশিত দীর্ঘ কর্মঘণ্টার কারণে প্রাণহানিবিষয়ক বিশ্বের প্রথম এ গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১৬ সালে টানা কাজ করার ফলে ৭ লাখ ৪৫ হাজার মানুষ হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে অথবা স্ট্রোকে মারা গেছেন। আর এ হার ২০০০ সালের চেয়ে ৩০ শতাংশ বেশি ছিল।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক মারিয়া নিরা বলেন, সপ্তাহে ৫৫ ঘণ্টা বা তার বেশি কাজ করা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি বয়ে আনতে পারে। তিনি আরও বলেন, কর্মীদের সুরক্ষার জন্য এ তথ্যটি আরও বেশি প্রচার করা প্রয়োজন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দেওয়া তথ্যমতে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বিশেষভাবে চীন, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসকারী কর্মীরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
করোনাকালীন অন্তত ৯ শতাংশ মানুষ দীর্ঘ সময় কাজ করছেন। অর্থনৈতিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে দীর্ঘ সময় কাজ করার প্রবণতা বাড়তে থাকায় এই ঝুঁকি আরও বাড়ছে।
অধিক কর্মঘণ্টায় যেসব স্বাস্থ্যঝুঁকি:
কাজ জীবনকে গতিশীল করে। করে ছন্দময়। তবে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করলে জীবন পানসে হয়ে আসে, তৈরি হয় হতাশাসহ বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক সমস্যা। বাড়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি। সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তাদের এক প্রতিবেদনে বলেছে, দীর্ঘ সময় কাজ করা মৃত্যুর অন্যতম কারণ। ‘এনভায়রনমেন্ট ইন্টারন্যাশনাল জার্নালে’ প্রকাশিত গবেষণাটিতে বলা হয়েছে, ২০১৬ সাল থেকে যাঁরা দীর্ঘসময় ধরে কাজ করে যাচ্ছেন, তাঁদের মধ্যে ৭ লাখ ৪৫ হাজার মানুষ স্ট্রোক ও হৃদ্রোগজনিত কারণে মারা গেছেন।
বছরের পর বছর অতিরিক্ত সময় কাজ করা এবং বেশি চাপ নেওয়া স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। দীর্ঘসময় কাজ করলে যেসব স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ে সেগুলো হলো—
হৃদ্রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি
‘ল্যানসেট’–এ প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যাঁরা বছরের পর বছর অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা অনুযায়ী কাজ করেন, তাঁদের হৃদ্রোগের ঝুঁকি বেশি থাকে। যাঁরা স্বাভাবিক কর্মঘণ্টা মেনে কাজ করেন, তাঁদের ঝুঁকি কম থাকে। গবেষকেরা অনুমান করছেন, সপ্তাহে ৬১-৭০ ঘণ্টা কাজ করলে হার্টের রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে ৪২ শতাংশ। যদি সপ্তাহে ৭১-৮০ ঘণ্টা কাজ করা হয়, তাহলে ঝুঁকি বাড়ে ৬৩ শতাংশ। কারণ, বসে কাজ করলে শরীরের চর্বি কম খরচ হয়। ফলে ফ্যাটি অ্যাসিড ধমনিতে জমাট বাঁধতে থাকে।
মেরুদণ্ডে ব্যথা
অতিরিক্ত সময় কাজ করলে আপনার প্রতিষ্ঠান খুশি থাকলেও, স্বাস্থ্য ভালো থাকবে না। শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ, বিশেষ করে মেরুদণ্ডে ব্যথা হতে পারে। ধীরে ধীরে হাড় ক্ষয় হতে শুরু করবে। যত বেশি চেয়ারে বসে থাকবেন, তত বেশি মেরুদণ্ডের ব্যথা বাড়বে। বাড়বে ঘাড়ের ব্যথাও। টানা বসে থাকলে পায়ের ওপর চাপ পড়ে। এতে শিরা বড় হয়ে যেতে পারে।
ডায়াবেটিসের ঝুঁকি
যারা হাঁটাচলা কম করেন, বসে কাজ বেশি করেন, তাঁদের ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে। এমনটাই মনে করছেন নরওয়ের ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলোজির গবেষকেরা।
ওজন বৃদ্ধি
অফিসে একটানা বসে কাজ করলে হাঁটাচলা হয় না। শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের সঞ্চালন হয় না। এ কারণে ওজন বৃদ্ধি পায়। আর অতিরিক্ত ওজন শরীরের অন্যান্য ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। নির্দিষ্ট সময়ের বেশি কাজ করলে শরীরে আরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
ক্লান্তি ও দুর্বলতা
দীর্ঘসময় ধরে কাজ করলে কিংবা অতিরিক্ত চাপ নিয়ে কাজ করলে ক্লান্তি ও দুর্বলতা বাড়তে থাকে। কেননা সারাক্ষণ কম্পিউটার স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকলে স্ক্রিনের আলো চোখ ও মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলে। এতে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। গবেষকেরা বলেন, গভীর ঘুম মস্তিষ্ককে সতেজ করে। ঘুম ক্লান্তি ও দুর্বলতা দূর করে। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের বেশি সময় কাজ করলে ঘুমাতে দেরি হয়। এর ফলে শরীরের ক্লান্তি দূর হয় না।
মস্তিষ্কের ক্ষতি
দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করলে মস্তিষ্কের যে অংশ নতুন স্মৃতি গঠন করে, তা দুর্বল হয়ে পড়ে। এতে মস্তিষ্কের ক্ষয় হয়। এমনটাই জানা গেছে লস অ্যাঞ্জেলসের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার এক গবেষণা থেকে। তাই নিয়মিত বেশি সময় কাজ করা ঠিক নয়।
উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি
জাপানের গবেষকেরা পাঁচ বছর ধরে গবেষণা করে জানিয়েছেন, নিয়মিত দীর্ঘক্ষণ কাজ করলে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ে। তারা ৯৪১ জন পুরুষের ওপর এ গবেষণা করেন।
বাড়ে উদ্বেগ
অধিক কাজ করলে, মনের প্রশান্তি না থাকলে ধীরে ধীরে বাড়ে উদ্বেগ। একজন মানুষ মানসিকভাবে বিষণ্ণ হয়ে যান। আর মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও বিষণ্ণতা থেকে যেকোনো বড় অসুখ হতে পারে।

সঠিক রং, মানানসই কাট আর আরামদায়ক কাপড় নির্বাচন করলে অষ্টাদশী মেয়েরা যেমন আত্মবিশ্বাসী থাকেন, তেমনই উৎসবের প্রতিটি মুহূর্তও হবে তাঁদের কাছে স্মরণীয়। তাঁদের পোশাক নিয়ে ফ্যাশন উদ্যোগ আর্টেমিসের স্বত্বাধিকারী...
১৪ মিনিট আগে
বাসা বদলের কথা এলেই অনেকের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। প্যাকিং থেকে শুরু করে নতুন জায়গায় সবকিছু গুছিয়ে নেওয়া, পুরো প্রক্রিয়াটি যেমন ক্লান্তিকর তেমনই মানসিক চাপেরও বটে। তবে আজকাল অনেকে ব্যস্ততার কারণে বিভিন্ন শিফটিং প্রতিষ্ঠানের ওপর প্যাকিং ও মালপত্র পৌঁছে দেওয়ার জন্য ভরসা করছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা...
৪৪ মিনিট আগে
নতুন ভাইরাল ট্রেন্ড স্কিন ফ্লাডিং। এর মানে হলো, ত্বকের এমন যত্ন নেওয়া, যাতে শীতের শুষ্ক আবহাওয়ায়ও ত্বক ভেজা বা আর্দ্র দেখাবে। যাঁদের ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক, তাঁদের জন্যই মূলত এই স্কিন ফ্লাডিং টেকনিক উপযোগী।
১ ঘণ্টা আগে
বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রযুক্তি প্রদর্শনী কনজ্যুমার ইলেকট্রনিকস শো বা সিইএস- ২০২৬ আবারও প্রমাণ করল, ভবিষ্যৎ শুধু কল্পনায় সীমাবদ্ধ নেই। তা আমাদের ঘরে ঢুকে পড়ছে। এবারের প্রদর্শনীতে এমন কিছু ঘরোয়া প্রযুক্তিপণ্য প্রদর্শিত হয়েছে, যেগুলো প্রতিদিনের কাজ শুধু সহজ নয়, অনেক ক্ষেত্রে প্রায় স্বয়ংক্রিয় করে তুলতে
১৪ ঘণ্টা আগে