Ajker Patrika

ফ্লার্টিং দিবস

ফ্লার্ট করা কি নিছকই আকর্ষণ, নাকি অন্য কিছু

ফিচার ডেস্ক, ঢাকা 
আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১: ৪৭
ফ্লার্ট করা কি নিছকই আকর্ষণ, নাকি অন্য কিছু
ফ্লার্ট করার সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো কারও সঙ্গে অন্তরঙ্গ সম্পর্ক গড়ে তোলা। প্রতীকী ছবি এআই দিয়ে তৈরি করা।

মানুষ কেন ফ্লার্ট করে? এটি কি শুধু কাউকে আকর্ষণ করার একটি কৌশল, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে গভীর কোনো মনস্তাত্ত্বিক কারণ? মনোবিজ্ঞানীদের মতে, ফ্লার্ট করা একটি রহস্যময় শিল্প। কেউ কেউ জন্মগতভাবে ফ্লার্ট করতে পছন্দ করেন। কফি শপে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা থেকে শুরু করে পরিচিত-অপরিচিত সবার সঙ্গে তাঁরা সহজভাবে মিশে যান। কিন্তু সবার উদ্দেশ্য সব সময় এক হয় না। ফ্লার্ট করার মনস্তাত্ত্বিক কারণগুলো নিয়েই আজকের এই আলোচনা।

ঘনিষ্ঠতার আকাঙ্ক্ষা

ফ্লার্ট করার সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো কারও সঙ্গে অন্তরঙ্গ সম্পর্ক গড়ে তোলা। যুক্তরাষ্ট্রের বাকনেল ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় দেখা গেছে, অধিকাংশ মানুষ ফ্লার্ট করে, যখন তারা অন্য কোনো ব্যক্তির প্রতি বিশেষভাবে আকৃষ্ট বোধ করে এবং তার কাছাকাছি আসতে চায়। এটি মূলত একটি রোমান্টিক সম্পর্কের প্রাথমিক ধাপ।

অনেকের কাছে ফ্লার্ট করা একটি খেলার মতো। প্রতীকী ছবি: পেক্সেলস
অনেকের কাছে ফ্লার্ট করা একটি খেলার মতো। প্রতীকী ছবি: পেক্সেলস

শুধুই বিনোদনের জন্য

অনেকের কাছে ফ্লার্ট করা একটি খেলার মতো। যারা ফ্লার্ট করে, তারা এর মাধ্যমে কোনো বিশেষ প্রাপ্তি বা সম্পর্কের আশা করে না। শুধু সময় কাটানো বা মুহূর্তটি আনন্দময় করে তুলতেই তারা ফ্লার্ট করে থাকে। একে বলা হয় ক্যাজুয়াল ফ্লার্টিং, যেখানে উভয় পক্ষই বিষয়টি মজা হিসেবে গ্রহণ করলে কোনো সমস্যা হয় না।

নিজেকে যাচাই করা

কেউ কেউ ফ্লার্ট করে নিজেদের সামাজিক দক্ষতা যাচাই করার জন্য। তারা দেখতে চায়, অন্যদের ওপর তাদের আকর্ষণ কতটা কাজ করে। এটি একধরনের অনুশীলন, যার মাধ্যমে তারা বুঝতে পারে, কীভাবে মানুষকে প্রভাবিত করা যায় বা কীভাবে আকর্ষণীয় কথোপকথন চালিয়ে যাওয়া যায়।

দাম্পত্য সম্পর্কের মাধুর্য বজায় রাখার জন্য

ফ্লার্ট করা শুধু অবিবাহিতদের কাজ নয়। বল স্টেট ইউনিভার্সিটির একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব বিবাহিত দম্পতি একে অপরের সঙ্গে নিয়মিত ফ্লার্ট করে, তাদের সম্পর্কের সন্তুষ্টির মাত্রা অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি। এটি স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের একঘেয়েমি দূর করে নতুনত্বের ছোঁয়া দেয়।

আত্মবিশ্বাস বাড়াতে

অনেকে নিজের আত্মসম্মান বা সেলফ এস্টিম বাড়ানোর জন্য ফ্লার্ট করে। যখন কেউ তাদের ফ্লার্টের ইতিবাচক সাড়া দেয়, তখন তারা নিজেদের সম্পর্কে ভালো বোধ করে এবং নিজেদের আকর্ষণীয় মনে করে। তবে এই ধরনের ফ্লার্ট করার প্রবণতা সাধারণত ইগো চালিত হয়। তাই এতে অনেক সময় কৃত্রিমতা থাকে।

স্বার্থ হাসিল করতে

স্বার্থ হাসিলের জন্য ফ্লার্ট করা সবচেয়ে নেতিবাচক হিসেবেই বিবেচিত। অনেকে নিজের কোনো বিশেষ কাজ উদ্ধার বা সুযোগ পেতে ফ্লার্ট করাকে কৌশল হিসেবে বেছে নেয়। একে মনোবিজ্ঞানের ভাষায় ম্যানিপুলেশন বা চতুরতা বলা হয়। এ ধরনের ফ্লার্টে অন্যকে আবেগ দিয়ে প্রভাবিত করার চেষ্টা থাকে। যেমন অফিসে বাড়তি সুবিধা পাওয়া কিংবা ট্রাফিক জরিমানা এড়াতে অনেকে এ ধরনের ফ্লার্টের আশ্রয় নিয়ে থাকে। অন্যের সরলতার সুযোগ নিয়ে নিজের উদ্দেশ্য সফল করা এই ধরনের আচরণের মূল লক্ষ্য।

সতর্কতা ও সচেতনতা

ফ্লার্ট করা অনেক সময় ক্ষতিকর হতে পারে, বিশেষ করে যখন একজনের উদ্দেশ্য থাকে শুধু স্বার্থ হাসিল করা, আর অন্যজন সেটিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে আবেগের বশবর্তী হয়ে পড়ে। এতে প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে এবং মানসিক আঘাত পাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, চার্মিং বা অমায়িক হওয়া আর ফ্লার্ট করার মধ্যে সূক্ষ্ম পার্থক্য আছে। একজন অমায়িক মানুষ সবাইকে গুরুত্বপূর্ণ অনুভব করায়। কিন্তু একজন ফ্লার্টার সাধারণত একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য বা অ্যাজেন্ডা বিবেচনায় রেখে কাজ করে।

ফ্লার্ট করা যেমন মজার ও নির্দোষ হতে পারে, তেমনি এটি কুটিলও হতে পারে। তাই আপনার সঙ্গে কেউ ফ্লার্ট করলে তার প্রকৃত উদ্দেশ্য কী, তা বোঝার চেষ্টা করুন। সচেতন থাকলে আপনি যেমন নিজেকে আবেগীয় বিশ্বাসঘাতকতা থেকে রক্ষা করতে পারবেন, তেমনি সম্পর্কের সুস্থতাও বজায় থাকবে।

সূত্র: ইয়োর ট্যাঙ্গো ও অন্যান্য

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত