Ajker Patrika

চিয়া সিডের পর এবার ঈষদুষ্ণ পানিতে ঘি মিশিয়ে পান করছেন অনেকে, কী উপকার তাতে জেনে নিন

ফিচার ডেস্ক
চিয়া সিডের পর এবার ঈষদুষ্ণ পানিতে ঘি মিশিয়ে পান করছেন অনেকে, কী উপকার তাতে জেনে নিন

দিনের শুরুটা কী করে করবেন, সেটা ঠিক করতে হলেও যেন আজকাল ট্রেন্ডের দিকে নজর রাখতে হয়। আর কখন কী ট্রেন্ড চলছে, তা টের পাওয়া যায় সোশ্যাল মিডিয়ায় ঢুকলে। অনেকেই হয়তো দেখেছেন, অনেকেই সকালের রুটিনে খালি পেটে কুসুম গরম পানিতে এক চা-চামচ ঘি মিশিয়ে পান করছেন। নিয়মিত পানে নাকি পেট ও ত্বক—দুয়ের স্বাস্থ্যই ভালো থাকে।

খালি পেটে কুসুম গরম পানিতে ঘি মিশিয়ে পান করার অভ্যাস আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে অত্যন্ত উপকারী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাই স্বাস্থ্যসচেতন অনেকের সকালই এখন শুরু হয় এই পানীয় দিয়ে। নিয়মিত এই মিশ্রণ পান করলে শরীরে কী কী ইতিবাচক পরিবর্তন আসে, তা জেনে নিন।

হজমশক্তি বাড়াতে সহায়তা করে

কুসুম গরম বা ঈষদুষ্ণ পানিতে এক চা-চামচ ঘি মিশিয়ে পান করলে পাকস্থলির কার্যক্ষমতা বাড়ে। ঘিয়ের মধ্যে থাকা অ্যাসিড পরিপাকতন্ত্রের প্রদাহ কমায় এবং খাবার ভালোভাবে হজম করতে সহায়তা করে।

ghee-pexels

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে

ঘি মেশানো ঈষদুষ্ণ পানি অন্ত্রের ভেতরের দেয়ালে লুব্রিকেন্ট বা পিচ্ছিলকারক পদার্থ হিসেবে কাজ করে। এটি মলত্যাগের প্রক্রিয়াকে সহজ করে তোলে। দীর্ঘদিন যাঁরা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের জন্য এটি একটি চমৎকার প্রাকৃতিক প্রতিষেধক।

মেটাবলিজম বাড়ায় ও ওজন নিয়ন্ত্রণ করে

অনেকে মনে করেন, ঘি খেলে ওজন বাড়ে, তবে খালি পেটে কুসুম গরম পানির সঙ্গে সঠিক পরিমাপে ঘি খেলে তা মেটাবলিজম বা বিপাক হার বাড়াতে সাহায্য করে। এটি শরীরের জমে থাকা ক্ষতিকর চর্বি গলিয়ে শক্তি তৈরি করে, যা পরোক্ষভাবে ওজন নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।

ত্বক ও চুলের উজ্জ্বলতা বাড়াতে

ভিটামিন এ, ডি, ই এবং কে-সমৃদ্ধ ঘি ঈষদুষ্ণ পানির সঙ্গে মিশিয়ে নিয়মিত পান করলে শরীরের ভেতর থেকে টক্সিন বা বর্জ্য পদার্থ বের হয়ে যায়। এর ফলে ত্বক হয়ে ওঠে নরম, কোমল ও উজ্জ্বল। পাশাপাশি এটি চুলের গোড়া শক্ত করতে ও চুলের শুষ্কতা দূর করতেও সাহায্য করে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়ক

ঘিয়ের অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-ফাঙ্গাল উপাদান শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি বাড়াতে সাহায্য করে। সকালে খালি পেটে এই পানীয় পান করলে শরীর সারা দিনের কাজ করার জন্য শক্তি পায়।

খাওয়ার নিয়ম

প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এক গ্লাস ঈষদুষ্ণ পানিতে এক চা-চামচ খাঁটি ঘি মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি পানের পর অন্তত ৩০ মিনিট অন্য কিছু খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। তবে যেকোনো নতুন অভ্যাস দীর্ঘ মেয়াদে শুরু করার আগে আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।

এই পানীয় পানে যাঁদের সতর্ক হতে হবে

নিয়মিত কুসুম গরম পানিতে ঘি মিশিয়ে পান করা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হলেও সবার শারীরিক অবস্থা এক রকম নয়। নির্দিষ্ট কিছু শারীরিক সমস্যা রয়েছে—এমন ব্যক্তিদের জন্য এই পানীয় ফলদায়ক না-ও হতে পারে।

হৃদ্‌রোগ ও উচ্চ কোলেস্টেরল থাকলে

ঘিতে প্রচুর পরিমাণে স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে। যাঁদের রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল এলডিএল এবং ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা অনেক বেশি, তাঁদের চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এই পানীয় পান করা একদমই উচিত নয়।

লিভারের সমস্যায় আক্রান্ত রোগী

যাঁদের ফ্যাটি লিভার, জন্ডিস, লিভার সিরোসিস ইত্যাদি সমস্যা রয়েছে, তাঁদের এই মিশ্রণ এড়িয়ে চলা উচিত। লিভার দুর্বল থাকলে ঘিয়ের মতো জটিল ফ্যাট বা চর্বি হজম করা লিভারের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে।

দীর্ঘস্থায়ী পেটের সমস্যা থাকলে

আপনার যদি প্রায়ই পেট খারাপ, আইবিএস বা ডায়রিয়া হওয়ার প্রবণতা থাকে, তবে এই পানীয়টি পান করা থেকে বিরত থাকুন। ঘি অন্ত্রের পিচ্ছিলতা বাড়ায়, যা লুজ মোশন বা পাতলা পায়খানার সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

সূত্র: এনডিটিভি ফুডস, আস্ক আয়ুর্বেদা ও অন্যান্য

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত