Ajker Patrika

সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদ: পরীক্ষার শেষ সময়ের প্রস্তুতি

চাকরি ডেস্ক 
সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদ: পরীক্ষার শেষ সময়ের প্রস্তুতি
মো. জাহিদুল ইসলাম

স্নাতক পাস করে সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নেওয়া অনেকের কাছে গ্রেড-১১ মানে বড় সুযোগ। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে এবার বাছাই হবে এমসিকিউ, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায়। ২৪২ পদের এই প্রতিযোগিতায় কোন বিষয়ে কতটা সময় দেবেন, বিগত পরীক্ষায় কী ধরনের প্রশ্ন এসেছে এবং প্রস্তুতি কেমন হওয়া উচিত। এসব বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন ৪৩তম বিসিএসের ইন্সপেক্টর অব ট্যাক্সেস মো. জাহিদুল ইসলাম।

এই পদে সর্বশেষ নিয়োগ হয়েছিল ২০২২ সালে। ওই বছরের ৩০ ডিসেম্বর সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা, ক্যাশিয়ার ও গাড়িচালক পদের জন্য ৮০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষা হয়। এরপর ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। অধিদপ্তরের সর্বশেষ পরীক্ষা ছিল অফিস সহায়ক পদের। ২৭ জুন ২০২৬ অনুষ্ঠিত ৭০ নম্বরের পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও সাধারণ জ্ঞান বিষয় থেকে প্রশ্ন ছিল। পদ আলাদা হলেও প্রশ্নের ধরন বোঝার জন্য পরীক্ষাটি গুরুত্বপূর্ণ। তাই চারটি বিষয়ে প্রস্তুতি নিতে হবে।

গণিত

পুরো পরীক্ষার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ প্রশ্ন গণিত থেকে আসতে পারে। সাম্প্রতিক পরীক্ষায় সরল মুনাফা, শতকরা, লাভ-ক্ষতি, সেট, লগারিদম, সমীকরণ ও গুণোত্তর ধারা এবং ক্ষেত্রফল ও আয়তনের অঙ্ক থেকে প্রশ্ন এসেছে। পাশাপাশি রম্বস, ঘনবস্তু ও বেলনের মতো পরিমিতির প্রশ্ন প্রায় প্রতিবার আসতে দেখা গেছে।

২০২২ সালের ক্যাশিয়ার ও গাড়িচালক পদের প্রশ্নেও শতকরা, অনুপাত থেকে লাভ এবং পরপর দুই সংখ্যার বর্গের পার্থক্যের মতো অঙ্ক ছিল। অঙ্কগুলো স্কুল পর্যায়ের হলেও বড় চ্যালেঞ্জ সময় নিয়ে। তাই ঘড়ি ধরে অনুশীলন করুন। প্রথমে পাটিগণিত ও পরিমিতির সূত্র ঝালিয়ে নিয়ে বীজগণিত ও সেটে মনোযোগ দিন।

বাংলা

বাংলা ব্যাকরণে বেশি গুরুত্ব দিন। সমাস, কারক-বিভক্তি, প্রত্যয়, সন্ধি, উপসর্গ, বাগধারা, এককথায় প্রকাশ, প্রতিশব্দ, বিপরীত শব্দ ও বানান থেকে নিয়মিত প্রশ্ন আসে।

২০১৮ সালে ছিল বানান শুদ্ধি, ‘পরভৃত’-এর সমার্থক শব্দ, বিদেশি শব্দ, বাগ্‌যন্ত্রের অঙ্গ এবং ‘দলছাড়া’র সমাস। ২০২২ সালে এসেছে খাঁটি বাংলা উপসর্গের সংখ্যা, ‘উপশহর’ কোন সমাস, কারক-বিভক্তি, বাক্যের প্রকার, স্বরধ্বনির ভাগ ও যতিচিহ্ন। ২০২৬ সালে প্রশ্ন ছিল ‘দর্পণ’-এর প্রকৃতি ও প্রত্যয়, ‘চৌচালা’র সমাস, ‘পর্যন্ত’-এর সন্ধি-বিচ্ছেদ, তালব্য বর্ণ, সাপেক্ষ যোজক এবং ‘ভানুমতীর খেল’ বাগধারা নিয়ে।

সাহিত্য থেকেও প্রশ্ন আসে; তবে তুলনামূলক কম। ‘মহাশ্মশান’ কার লেখা, ‘ভবিষ্যতের বাঙালি’ কার বই, রবীন্দ্রনাথের প্রথম উপন্যাস এবং ‘স্বভাব কবি’ কাকে বলা হয়, এমন প্রশ্ন এসেছে। ছোট একটি খাতায় লেখক, গ্রন্থ ও উপাধি লিখে রাখলে প্রস্তুতি সহজ হবে। উপভাষা ও ভাষা-পরিবারও একবার দেখে নিন।

ইংরেজি

ইংরেজিতে প্রশ্নের ধরন প্রায় একই। Article, preposition, tense, pronoun, gender, right form of verb, sentence transformation ও vocabulary নিয়মিত পড়তে হবে। বিগত প্রশ্নে antonym, synonym, idiom, reflexive pronoun এবং complex sentence-সংক্রান্ত প্রশ্নও এসেছে। বাংলা থেকে ইংরেজি অনুবাদও ছিল; যেমন ‘বেলা পড়ে আসছে’। একটি ভালো ব্যাকরণ বই ধরে নিয়মগুলো ভালো করে পড়ুন। প্রতিদিন কিছু নতুন শব্দ শিখে সেগুলো বাক্যে ব্যবহারের চেষ্টা করুন।

সাধারণ জ্ঞান

এখান থেকে প্রশ্ন কম এলেও প্রস্তুতি রাখা উচিত। সংবিধান, প্রশাসনিক কাঠামো, মুক্তিযুদ্ধ, অর্থনীতি ও প্রযুক্তি—এসব বিষয়ে প্রস্তুতি নিন। সাম্প্রতিক পরীক্ষায় সংবিধান, জাতীয় প্রতীক, বীরত্বসূচক উপাধি, ভ্যাট, স্থলবন্দর ও চতুর্থ শিল্পবিপ্লব নিয়ে প্রশ্ন এসেছে।

প্রতিষ্ঠানকেও জানুন

পদটি যেহেতু যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের, তাই প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে ধারণা রাখুন। বিগত পরীক্ষার প্রশ্নে যুব জনগোষ্ঠীর বয়সসীমা জানতে চাওয়া হয়েছিল। তাই জেনে রাখুন—সরকারি সংজ্ঞায় যুব জনগোষ্ঠীর বয়স ১৮ থেকে ৩৫ বছর। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭৮ সালে। অধিদপ্তরের রূপকল্প, অভিলক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও কার্যক্রম সম্পর্কে জানুন। প্রশিক্ষণ, উদ্বুদ্ধকরণ, ক্ষুদ্রঋণ ও আত্মকর্মসংস্থান এর গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম। এসব তথ্য লিখিত ও মৌখিক—দুই পরীক্ষায় কাজে আসতে পারে।

লিখিত ও মৌখিক

বাছাই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে লিখিত পরীক্ষায় ভাষার দখল ও গুছিয়ে লেখার দক্ষতা যাচাই করা হতে পারে। অনুচ্ছেদ, আবেদনপত্র ও সারমর্ম লেখার অনুশীলন করুন। মৌখিক পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আগে থেকে প্রস্তুত রাখুন। প্রবেশপত্র, শিক্ষাগত সনদ, নাগরিকত্ব সনদ ও চারিত্রিক সনদসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গুছিয়ে রাখুন।

শেষ সময়ে করণীয়

সবচেয়ে বেশি সময় দিন গণিত ও দুই ভাষার ব্যাকরণে। সাধারণ জ্ঞান প্রতিদিন অল্প অল্প করে পড়ুন। সপ্তাহে অন্তত একটি পূর্ণাঙ্গ মডেল টেস্ট দিন এবং নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা শেষ করার অভ্যাস করুন। বিগত প্রশ্ন সমাধানের সময় শুধু উত্তর মিলিয়ে থেমে থাকবেন না। কোন অধ্যায় থেকে বেশি প্রশ্ন এসেছে এবং কোথায় ভুল হচ্ছে, তা চিহ্নিত করুন। এতে শেষ সময়ে নিজের দুর্বল জায়গাগুলো ধরে প্রস্তুতি নেওয়া সহজ হবে।

অনুলিখন: জেলি খাতুন

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত