আপনি যদি কখনো কোনো বক্তব্য বা প্রেজেন্টেশন দিয়ে থাকেন, তাহলে নিশ্চয় এসব মৌলিক বিষয় জানা থাকার কথা—পরিষ্কার থিসিস রাখুন, শ্রোতাদের সম্পর্কে জানুন, নোটকার্ডে মূল পয়েন্ট লিখুন, শরীরের ভাষার দিকে খেয়াল রাখুন এবং প্রচুর অনুশীলন করুন। কিন্তু এগুলোর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় আছে—বিশ্বাসযোগ্যতা।
আদালতে আইনজীবীরা প্রায়ই জিজ্ঞাসা করেন, কোনো সাক্ষী ‘বিশ্বাসযোগ্য’ কি না। অর্থাৎ, তাঁর কথা কতটা আস্থার যোগ্য। শুধু সত্য বলাই যথেষ্ট নয়; শ্রোতারা আপনাকে কতটা বিশ্বাস করছে, সেটাই আসল। আপনি হয়তো পরিবারের কারও স্বাস্থ্য পরামর্শ সন্দেহের চোখে দেখবেন, কিন্তু একজন চিকিৎসকের কথা সহজে গ্রহণ করবেন। কারণ, তাঁর পেশাগত পরিচয় ও দক্ষতা তাঁকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে।
জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। নিজেকে যতই দক্ষ ভাবুন না কেন, শ্রোতারা যদি আপনাকে বিশ্বাস না করে, তবে বক্তব্যের প্রভাব কমে যাবে। প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক আ্যারিস্টটল তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ রিটোরিকে বলেছেন, বক্তার চরিত্র ও ব্যক্তিত্ব প্ররোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। আত্মবিশ্বাস, ইতিবাচক মনোভাব, স্পষ্ট উপস্থাপন—এসবই বক্তব্যকে গ্রহণযোগ্য করে তোলে।
তাহলে কীভাবে গড়ে তুলবেন সেই বিশ্বাসযোগ্যতা? নিচে রইল পাঁচটি কার্যকর উপায়।
নিজের পরিচয় ও যোগ্যতা স্পষ্ট করুন
বক্তৃতার শুরুতে সংক্ষেপে নিজের পরিচয় দিন। কেন আপনি এই বিষয় নিয়ে কথা বলার যোগ্য, তা পরিষ্কার করুন। আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা বা ব্যক্তিগত আগ্রহ উল্লেখ করতে পারেন। গবেষণায় দেখা গেছে, শ্রোতারা যখন বক্তার দক্ষতা সম্পর্কে সচেতন থাকে, তখন তাঁর বক্তব্যকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। তবে আত্মপ্রচার নয়; সংক্ষিপ্ত, প্রাসঙ্গিক ও আত্মবিশ্বাসী পরিচয়ই যথেষ্ট।
শ্রোতার সঙ্গে সংযোগ গড়ে তুলুন
শ্রোতারা জানতে চায়, এই বক্তব্য থেকে তাদের কী লাভ হবে। তাই শুরুতে বোঝান, তারা কী শিখতে বা অর্জন করতে পারবে। নতুন তথ্য, ব্যবহারযোগ্য কৌশল বা ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি দিন। যদি বিষয়টি জটিল হয়, সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করুন।
‘আপনি’ শব্দের ব্যবহার শ্রোতার সঙ্গে ব্যক্তিগত সংযোগ তৈরি করে। এতে তারা অনুভব করে, আপনি সরাসরি তাদের সঙ্গে কথা বলছেন। এই যত্নশীল মনোভাবই বিশ্বাসের ভিত্তি তৈরি করে।
তথ্য, সূত্র ও গল্প ব্যবহার করুন
শুধু মতামত নয়, প্রমাণ দিন। প্রাসঙ্গিক গবেষণা, বিশেষজ্ঞের মতামত বা পরিসংখ্যান উল্লেখ করলে বক্তব্য শক্ত হয়। এতে বোঝা যায়, আপনি বিষয়টি নিয়ে প্রস্তুতি নিয়েছেন। এর পাশাপাশি গল্প বলার শক্তি অসাধারণ। একটি বাস্তব অভিজ্ঞতা বা ছোট গল্প তথ্যকে জীবন্ত করে তোলে। গবেষণায় দেখা গেছে, গল্পের মাধ্যমে উপস্থাপিত তথ্য মানুষ দীর্ঘ সময় মনে রাখে। তাই যুক্তির সঙ্গে আবেগের সংযোগ তৈরি করুন।
আত্মবিশ্বাসী শরীরের ভাষা বজায় রাখুন
যোগাযোগের বড় অংশই শরীরের ভাষায় প্রকাশ পায়। চোখে চোখ রেখে কথা বলা, সোজা ভঙ্গিতে দাঁড়ানো, অযথা তাড়াহুড়ো না করা—এসব ছোট বিষয় বড় প্রভাব ফেলে। খুব দ্রুত কথা বললে অনিশ্চয়তার ধারণা তৈরি হতে পারে। বরং ধীর, স্পষ্ট ও আত্মবিশ্বাসী উপস্থাপন শ্রোতাদের আস্থা বাড়ায়। একটি হাসি ও বন্ধুত্বপূর্ণ ভঙ্গি বক্তাকে আরও গ্রহণযোগ্য করে তোলে।
প্রশ্নোত্তরের সুযোগ দিন
বক্তব্য শেষে প্রশ্ন নেওয়ার প্রস্তাব দিন। এতে বোঝায়, আপনি আলোচনায় উন্মুক্ত এবং নিজের বক্তব্যের পক্ষে আত্মবিশ্বাসী। প্রশ্নের উত্তরে আপনি বিষয়টি আরও পরিষ্কার করতে পারেন, অতিরিক্ত তথ্য দিতে পারেন কিংবা প্রাসঙ্গিক উদাহরণ শেয়ার করতে পারেন। এই অংশ প্রায়ই শ্রোতার সঙ্গে ব্যক্তিগত সংযোগ তৈরি করে এবং আপনার বিশ্বাসযোগ্যতা আরও মজবুত করে।
বিশ্বাসযোগ্যতা এক দিনে তৈরি হয় না; এটি প্রস্তুতি, সততা ও আত্মবিশ্বাসের সমন্বয়। যখন আপনার পরিচয়, তথ্য, উপস্থাপন ভঙ্গি ও শ্রোতার প্রতি সম্মান একসঙ্গে কাজ করে, তখন আপনার বক্তব্য শুধু শোনা হয় না, গ্রহণও করা হয়। একজন সফল বক্তার আসল শক্তি এখানেই।

জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে ওয়ান ব্যাংক পিএলসি। ব্যাংকটিতে কন্টাক্ট সেন্টার বিভাগে ‘কাস্টমার সার্ভিস এক্সিকিউটিভ’ পদে লোকবল নিয়োগ দেওয়া হবে। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। আগ্রহী ও যোগ্য প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন।
১ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) একাধিক পদের এমসিকিউ পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশিত হয়েছে। সূচি অনুযায়ী, আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এতে মোট ৩ হাজার ৮৫২ জন প্রার্থী অংশ নেবেন। প্রতিষ্ঠানটির উপপরিচালক...
৩ ঘণ্টা আগে
বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারে সরাসরি নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। ৩ থেকে ৬ষ্ঠ গ্রেড পর্যন্ত ৫৩ ক্যাটাগরির পদে মোট ৩০০ জনকে সরাসরি নিয়োগ দেওয়া হবে। সম্প্রতি পিএসসির ওয়েবসাইটে এ-সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে।
৩ ঘণ্টা আগে
চীনে তরুণদের কাছে ‘অফিস’ আর চার দেয়ালের কক্ষ নয়। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টার বাধ্যতামূলক সময়ও নয়। কেউ কাজ করছেন লাইভস্ট্রিমিং স্টুডিওতে, কেউ মোবাইল ফোনকেই বানিয়েছেন নিজের অফিস। ডিজিটাল অর্থনীতির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে উঠে আসা হাংচৌ এই পরিবর্তনের অন্যতম কেন্দ্র।
১১ ঘণ্টা আগে