Ajker Patrika

চীনের বদলে যাওয়া ক্যারিয়ার

ফয়সল আবদুল্লাহ
আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮: ৪৭
চীনের বদলে যাওয়া ক্যারিয়ার
ছবি: সংগৃহীত

চীনে তরুণদের কাছে ‘অফিস’ আর চার দেয়ালের কক্ষ নয়। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টার বাধ্যতামূলক সময়ও নয়। কেউ কাজ করছেন লাইভস্ট্রিমিং স্টুডিওতে, কেউ মোবাইল ফোনকেই বানিয়েছেন নিজের অফিস। ডিজিটাল অর্থনীতির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে উঠে আসা হাংচৌ এই পরিবর্তনের অন্যতম কেন্দ্র।

সময় নয়, দক্ষতাই মূল: ই-কমার্স ও ডিজিটাল উদ্ভাবনের শহর হাংচৌতে সাফল্য এখন আর নির্দিষ্ট অফিস সময়ের ওপর নির্ভর করে না। বরং গুরুত্ব পাচ্ছে দক্ষতা, সৃজনশীলতা, ডেটা বিশ্লেষণ এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা। ল্যাব, হাসপাতাল বা ক্লাসরুমের প্রচলিত পেশার বাইরে এসে অনেক তরুণ যুক্ত হচ্ছেন লাইভস্ট্রিমিং, অনলাইন ব্যবসা ও ডেটাভিত্তিক কাজের সঙ্গে। প্রযুক্তি তাঁদের হাতে এনে দিয়েছে নতুন সম্ভাবনা।

লাইভস্ট্রিমিং নতুন কর্মক্ষেত্র: ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এখন তরুণদের বড় কর্মক্ষেত্র। লাইভস্ট্রিম স্টুডিও থেকে কারখানার উৎপাদন ফ্লোর—সবখানে দেখা যাচ্ছে নমনীয় কর্মঘণ্টা ও ‘মোবাইল অফিস’-এর চর্চা। অনেকে লাইভস্ট্রিমে পণ্যের বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করেন, বৈজ্ঞানিক দিক তুলে ধরেন, দর্শকের প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেন।

নতুন মিডিয়ার উত্থান: ইয়োওয়ান্ট টেকনোলজির লাইভস্ট্রিম ব্যবসা বিভাগের প্রধান ছাও তিফান টিভি প্রোডাকশন নিয়ে পড়াশোনা করে দীর্ঘদিন প্রচলিত মিডিয়ায় কাজ করেছেন। ২০১৫ সালে চীনে নতুন মিডিয়ার উত্থান তাঁকে নতুন পথ দেখায়।

কারখানায়ও ডিজিটাল পরিবর্তন: ডিজিটাল শ্রমের প্রভাব শুধু ক্যামেরায় নয়, শিল্প উৎপাদনেও পড়েছে। লাইভস্ট্রিমের মাধ্যমে সরাসরি বিক্রির ফলে গ্রাহকের প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়।

লাইভস্ট্রিমিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও বুদ্ধিমান ব্যবস্থাপনার সমন্বয়ে গড়ে উঠছে নতুন কর্মসংস্কৃতি। এতে যেমন সৃজনশীলতা বাড়ছে, তেমনি ভেঙে যাচ্ছে গৎবাঁধা অফিসের ধারণা। চীনের তরুণদের কাছে কাজ এখন একটি নির্দিষ্ট জায়গা নয়; বরং দক্ষতা, ডেটা ও ডিজিটাল উপস্থিতিনির্ভর এক চলমান ব্যবস্থা। ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্র হয়তো একটি ঠিকানা নয়—একটি নেটওয়ার্ক, একটি স্ক্রিন কিংবা হাতের স্মার্টফোনই হয়ে উঠবে নতুন অফিস।

সূত্র: সিএমজি, সিসিটিভি

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত