দরজায় কড়া নাড়ছে এসএসসি পরীক্ষা। পড়ার টেবিল ঘিরে বাড়ছে পড়াশোনার চাপ, প্রত্যাশা আর ফলাফলের হিসাব-নিকাশ। পরীক্ষা যত ঘনিয়ে আসে, শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবন ততই সীমিত হয়ে পড়ে—পড়া, নম্বর আর জিপিএর বৃত্তে আটকে যায় সব।
এই সময়ে অনেক শিক্ষার্থী বাইরে থেকে প্রস্তুত ও আত্মবিশ্বাসী মনে হলেও ভেতরে জমে ওঠে ভয়, উদ্বেগ আর আত্মসংশয়। যেখানে জিপিএকেই সাফল্যের প্রধান মাপকাঠি ধরা হয়, সেখানে নিজের দুশ্চিন্তা বা দুর্বলতার কথা বলা অনেকের কাছে হয়ে ওঠে অস্বস্তিকর। ফলে নীরবতাই হয়ে ওঠে তাদের আশ্রয়।
কেন এই নীরবতা
বোর্ড পরীক্ষা সামনে এলে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সময় একা একা পড়াশোনা করতে হয়। নিয়মিত বিরতির অভাব, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা বা একসঙ্গে পড়ার সুযোগ কমে যাওয়াও তাদের আরও নিঃসঙ্গ করে তোলে। সহপাঠীদের সঙ্গে যোগাযোগ কমে গেলে চাপ বাড়ে, ভয়ও গভীর হয়।
আন্তর্জাতিক গবেষণাও এই বাস্তবতারই প্রতিফলন দেখায়। ওইসিডির পিসা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৫৯ শতাংশ শিক্ষার্থী প্রায়ই আশঙ্কা করে যে পরীক্ষা খুব কঠিন হবে এবং ৬৬ শতাংশ শিক্ষার্থী খারাপ ফলের ভয় পায়। আবার ২০২৩ সালের একটি সিস্টেমেটিক রিভিউ জানায়, অতিরিক্ত পড়াশোনার চাপ শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এমনকি আত্মহানির চিন্তাও বাড়াতে পারে।
মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন জরুরি
শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে বড় বাজেটের প্রয়োজন নেই। দরকার নিয়মিত কথা বলার সুযোগ, বাস্তবসম্মত পড়াশোনার পরিকল্পনা এবং প্রয়োজনে সাহায্য চাওয়ার নিরাপদ পরিবেশ। স্কুলে কাউন্সেলিং সেবাকে ব্যতিক্রম নয়, বরং স্বাভাবিক ও নিয়মিত একটি ব্যবস্থার অংশ হিসেবে দেখা উচিত।
একই সঙ্গে শিক্ষকদের এমন প্রশিক্ষণ প্রয়োজন, যাতে তারা শিক্ষার্থীদের আচরণে হঠাৎ পরিবর্তন—চুপ হয়ে যাওয়া, আগ্রহ হারানো বা অতিরিক্ত দুশ্চিন্তার লক্ষণ—দ্রুত বুঝতে পারেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে পারেন।
ঘর থেকেই হোক ইতিবাচক পরিবর্তন
এই জায়গায় অভিভাবকদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শুধু ফলের কথা না বলে শেখার চেষ্টা, নিয়মিত পড়া বা ছোট অগ্রগতির প্রশংসা শিক্ষার্থীর আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। পর্যাপ্ত ঘুম, হালকা শারীরিক ব্যায়াম এবং নির্দিষ্ট বিশ্রামের সময় নিশ্চিত করাও জরুরি।
স্কুলে যেসব উদ্যোগ কার্যকর হতে পারে
স্কুলপর্যায়ে কিছু সহজ উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ অনেকটাই কমাতে পারে। মক পরীক্ষার ফল জানানোর সময় সংবেদনশীল ভাষা ব্যবহার, প্রয়োজনে কাউন্সেলরের কাছে পাঠানো—ফলে শিক্ষার্থীরা একাকিত্ব কাটাতে পারে।
মানসিক সুস্থতার এসব পদক্ষেপ নিন
১. নিয়মিত মেন্টর চেক-ইন: সপ্তাহে অন্তত একবার হলেও ২০ মিনিটের জন্য নির্ধারিত মেন্টরের সঙ্গে বসুন।
২. কাউন্সেলিং স্বাভাবিক করুন: প্রতিটি স্কুলে প্রশিক্ষিত কাউন্সেলর এবং সেবা নিশ্চিত করুন।
৩. মোকাবিলার কৌশল শেখান: শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন, ডায়েরি লেখা, ঘুমের যত্ন ও সময় ব্যবস্থাপনা নিয়ে সংক্ষিপ্ত ক্লাস নেওয়া যেতে পারে।
৪. রুটিন ঠিক রাখুন: প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম, স্ক্রিন থেকে বিরতি এবং সপ্তাহে অন্তত একদিন হলেও বন্ধু বা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো।
৫. প্রাপ্তবয়স্কদের প্রশিক্ষণ: শিক্ষকদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য ফার্স্ট এইড এবং অভিভাবকদের জন্য সহানুভূতিশীল ভাষা ব্যবহারের কর্মশালা।
গবেষণায় দেখা গেছে, এসব উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের নিঃসঙ্গতা কমায় এবং সাহায্য চাওয়ার প্রবণতা বাড়ায়। সহপাঠী ও প্রাপ্তবয়স্কদের সমর্থন পরীক্ষার চাপের ক্ষতিকর প্রভাব অনেকটাই প্রশমিত করতে পারে।
বোর্ড পরীক্ষা মানেই নীরবতা নয়। একটু যত্ন, একটু খোলামেলা আলোচনা আর কিছু বাস্তবসম্মত প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতা রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে নুভিস্তা ফার্মা পিএলসি। প্রতিষ্ঠানটিতে মেডিকেল প্রমোশন অফিসার পদে লোকবল নিয়োগ দেওয়া হবে। গত ১০ ফেব্রুয়ারি এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। অভিজ্ঞতা ছাড়াই আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন।
১৪ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের (বিজেএসসি) অফিস সহায়ক পদের মৌখিক পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। এতে ৩৯৬ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন সচিবালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ) ইয়াসমিন বেগম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
১৪ ঘণ্টা আগে
জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে অ্যাডভান্সড কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি (এসিআই)। বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানটির করপোরেট সেলস (কনজ্যুমার ব্র্যান্ড) বিভাগের শূন্য পদে একাধিক লোকবল নিয়োগ দেওয়া হবে। গত ১১ ফেব্রুয়ারি এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। আগ্রহী ও যোগ্য প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন।
১৫ ঘণ্টা আগে
বর্তমান বিশ্বে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির যে অভাবনীয় অগ্রগতি, তার পেছনে রয়েছে বহু বিজ্ঞানী, স্বপ্নদ্রষ্টা, প্রকৌশলী ও উদ্ভাবকের নিরলস সাধনা। তার ও তারহীন যোগাযোগব্যবস্থা, কম্পিউটারের গণনাশক্তির বিস্ময়কর বৃদ্ধি এবং মাইক্রো ইলেকট্রনিকসের বিকাশ—সব মিলিয়ে প্রযুক্তি আজ হাতের মুঠোয়।
১৮ ঘণ্টা আগে