আঁধারে ডুবে ছিল পৃথিবী। জাহেলিয়াতের ঘোর অন্ধকারে মানুষ ভুলে গিয়েছিল মানবিকতা ও নৈতিকতার সবটুকু আলো। কন্যাশিশুকে জীবন্ত কবর দেওয়া হতো, গোত্রে গোত্রে লেগে থাকত রক্তক্ষয়ী সংঘাত, আরবের ধূলিকণার প্রতিটি বিন্দু ছিল অন্যায় আর পাপাচারের সাক্ষী। তখন এই জাহেলি সমাজে মূর্তি ছিল পূজার বস্তু, আর ক্ষমতার জোরে চলছিল মানুষের ওপর অত্যাচার। এমন একসময়ে, যখন বিশ্বমানবতা দিশা হারিয়েছে, ঠিক তখনই মক্কার পবিত্র ভূমিতে জন্ম নেন এক মহাপুরুষ—যিনি শুধু মানবজাতির জন্য নয়, বরং সমগ্র বিশ্বজগতের জন্য রহমত হয়ে আসেন।
তাঁর নাম মুহাম্মদ (সা.), যাঁর জন্মের পর থেকে আরবের আকাশ-বাতাসে এক নতুন সুর বেজে ওঠে। শৈশবে তিনি ছিলেন সবার প্রিয় ‘আল-আমিন’ (বিশ্বস্ত) উপাধিতে ভূষিত। তাঁর চারিত্রিক গুণাবলি, সততা ও ন্যায়পরায়ণতা তাঁকে সবার থেকে আলাদা করে তুলেছিল। যখন তিনি নবুওয়াত লাভ করেন, তখন তাঁর সামনে এক বিশাল চ্যালেঞ্জ ছিল—একের পর এক বাধা, সমাজের বিরোধিতা এবং নিজের আপনজনদের বিদ্রূপ। আল্লাহর নির্দেশে তিনি প্রথম তিন বছর গোপনে ইসলামের দাওয়াত দেন। এরপর প্রকাশ্যে সাফা পাহাড়ে উঠে এক আল্লাহর ওপর ইমান আনার ঘোষণা দেন।
মক্কাবাসী তাঁর এই আহ্বানকে প্রত্যাখ্যান করে। শুরু হয় তাঁর ওপর অকথ্য নির্যাতন। পাথর নিক্ষেপ, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, লাঞ্ছনা—সবকিছুই তিনি পরম ধৈর্য ও সহনশীলতার সঙ্গে মোকাবিলা করেন। কিন্তু তাঁর বিশ্বাস ছিল অটল। আল্লাহ তাঁর প্রিয় বন্ধুকে জানিয়ে দেন, মক্কার লোকজন তাঁর দাওয়াত গ্রহণ না করলেও মদিনার মানুষ তাঁর জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।
এই নির্দেশের পর তিনি আল্লাহ তাআলার ওপর ভরসা করে মদিনার পথে হিজরত করেন। তাঁর এই হিজরত শুধু একটি স্থান পরিবর্তন ছিল না, ছিল মানবতার মুক্তির জন্য এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। মক্কা ত্যাগ করার সময় বায়তুল্লাহর দিকে তাকিয়ে তাঁর হৃদয় থেকে যে আকুলতা বেরিয়ে এসেছিল, তা তাঁর জন্মভূমির প্রতি গভীর ভালোবাসারই বহিঃপ্রকাশ। ৬২২ খ্রিষ্টাব্দের ১২ রবিউল আউয়াল তিনি মদিনায় পৌঁছান। মদিনার মানুষ তাঁকে উষ্ণতম অভ্যর্থনা জানায়। এই হিজরতের মাধ্যমে মদিনা এক নতুন রাষ্ট্রের ভিত্তি স্থাপন করে এবং মহানবী (সা.) সেই রাষ্ট্রের প্রধান হন।
মদিনায় এসে তিনি গোত্রীয় বিভাজন ভুলে সবাইকে একই ছাতার নিচে নিয়ে আসেন। সেখানকার মুসলমান, ইহুদি ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের সঙ্গে ঐতিহাসিক মদিনা সনদ স্বাক্ষর করে পৃথিবীর প্রথম লিখিত সংবিধান প্রণয়ন করেন। এই সনদের মাধ্যমে মদিনা এক স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়, যেখানে সবার অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। এই নবগঠিত সমাজ ছিল পারস্পরিক সহযোগিতা, ভ্রাতৃত্ব ও ন্যায়বিচারের এক আদর্শ দৃষ্টান্ত।
মহানবী (সা.)-কে আল্লাহ তাআলা সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে পাঠিয়েছেন। তিনি মানুষকে মন্দ কাজের অশুভ পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করেছেন এবং সুন্দর ও কল্যাণের পথে আহ্বান করেছেন। তাঁর আগমনের উদ্দেশ্য ছিল মানবজাতির চারিত্রিক উৎকর্ষ সাধন করা। তিনি ছিলেন পথপ্রদর্শক, যিনি মানুষকে ইহকাল ও পরকালের মুক্তির পথ দেখিয়েছেন। মহান আল্লাহ কোরআনে বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আপনি মহান চারিত্রিক গুণাবলির ওপর অধিষ্ঠিত।’ (সুরা কলম: ৪)। তিনি শুধু কোনো বিশেষ জাতি বা গোষ্ঠীর জন্য প্রেরিত হননি, বরং সমগ্র বিশ্বজগতের জন্য রহমত হিসেবে এসেছিলেন।
জীবনের শেষ পর্যায়ে, বিদায় হজের ভাষণে তিনি মানবতাকে এক নতুন বার্তা পৌঁছে দেন—‘তোমাদের জন্য আজ তোমাদের দ্বীন পূর্ণাঙ্গ করেছি।’ এই আয়াত থেকে সাহাবিরা বুঝতে পারলেন, নবীজি (সা.)-এর দায়িত্ব সম্পন্ন হয়েছে এবং তাঁর বিদায় আসন্ন। বিদায় হজের পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁর অন্তিম দিনগুলো ছিল অসুস্থতা, কষ্ট এবং উম্মাহর জন্য উদ্বেগে ভরা। জীবনের শেষ মুহূর্তেও তিনি তাঁর উম্মাহর জন্য প্রার্থনা করেছেন। ১১ হিজরির ১২ রবিউল আউয়াল, এই মহান মানব ইহজগৎ ত্যাগ করে তাঁর রবের সান্নিধ্যে চলে যান। তাঁর বিদায়ে মদিনার আকাশ-বাতাস শোকে ভারী হয়ে ওঠে, কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া আদর্শের আলোয় বিশ্ব আজও আলোকিত।
মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ছিল মানবতার জন্য এক পূর্ণাঙ্গ আদর্শ। তিনি ছিলেন আল্লাহর প্রিয় বন্ধু, যিনি দাতা ও বণ্টনের মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছেন। তাঁর শিক্ষা ছিল নম্রতা, ক্ষমা, ধৈর্য এবং ভালোবাসার। তাঁর পবিত্র চরিত্র, অতুলনীয় আদর্শ এবং মানবিক গুণাবলি ঘোর শত্রুদেরও মুগ্ধ করেছিল। তিনি বলপ্রয়োগ করে নয়, বরং উত্তম চরিত্র ও দয়া দিয়ে ইসলামকে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন সমগ্র মানবজাতির মুক্তি ও কল্যাণের জন্য প্রেরিত এক মহামানব, যিনি কিয়ামত পর্যন্ত সবার জন্য অনুসরণীয়। তাঁর মাধ্যমে মানবজাতি আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের অনুগ্রহপ্রাপ্ত হয়েছে।
মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন, আদর্শ ও কর্ম পৃথিবীর সমস্ত আঁধার দূর করে আলো ছড়িয়ে দিয়েছে। তাঁর সৌন্দর্য শুধু বাহ্যিক ছিল না, ছিল তাঁর সচ্চরিত্রের মাঝেও। শেখ সাদীর কবিতায় তাঁর প্রশংসা যেন পূর্ণতা লাভ করে:
বালাগাল উলা বিকামালিহি,
কাশাফাদ্দুজা বিজামালিহি,
হাসুনাত জামিউ খিসালিহি,
সাল্লু আলাইহি ওয়া আলিহি।
‘সাধনায় যিনি সুউচ্চ মর্যাদায় পূর্ণতায় পৌঁছেছেন, যাঁর সৌন্দর্যের ছটায় বিতাড়িত হয়েছে সমস্ত আঁধার, সব সচ্চরিত্রের সম্মিলন ঘটেছে যাঁর মাঝে—আসুন, দরুদ ও সালাম জানাই তাঁর ও তাঁর বংশধরদের প্রতি।’

২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রায় এক হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা ইসলামি শিক্ষার পাশাপাশি জাতীয় শিক্ষাক্রম অনুযায়ী পাঠ গ্রহণ করছে। তাদের সম্পূর্ণ সিলেবাস প্রণয়ন করেছে ইতমিনান বোর্ড বাংলাদেশ।
২ ঘণ্টা আগে
ইসলাম ধর্মের অন্যতম মৌলিক ভিত্তি হলো নামাজ। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর থেকে প্রতিটি মুসলিম নারী ও পুরুষের ওপর দৈনন্দিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ বা অবশ্যপালনীয়। কোনো ব্যক্তির ওপর নামাজ ফরজ হওয়ার জন্য প্রধানত তিনটি শর্ত একসঙ্গে পূর্ণ হতে হয়।
১২ ঘণ্টা আগে
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
১৬ ঘণ্টা আগে
কওমি মাদ্রাসা নিয়ে অভিযোগ গ্রহণ, তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ, ফ্যাক্ট-চেক এবং তদারকি কার্যক্রম জোরদারের লক্ষ্যে একটি কেন্দ্রীয় ‘কওমি মাদ্রাসা পর্যবেক্ষণ সেল’ গঠন এবং অভিযোগ গ্রহণের জন্য বিশেষ হটলাইন চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ‘আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’।
১ দিন আগে