Ajker Patrika

প্রিয় নবী (সা.)-এর বিশেষ ৭ অসিয়ত

ইসলাম ডেস্ক 
প্রিয় নবী (সা.)-এর বিশেষ ৭ অসিয়ত
ছবি: সংগৃহীত

উম্মতের প্রতি সীমাহীন দরদ ও ভালোবাসা থেকে মহানবী মুহাম্মদ (সা.) জীবনের শেষ দিনগুলোতে এবং ঐতিহাসিক বিদায় হজের ভাষণে কিছু চিরন্তন দিকনির্দেশনা রেখে গেছেন। এর মধ্য থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ৮টি অসিয়ত নিচে আলোচনা করা হলো—

১. নামাজের প্রতি অবিচলতা: অন্তিম মুহূর্তে মারাত্মক শ্বাসকষ্টের মধ্যেও রাসুল (সা.)-এর মুখে একটি কথাই বারবার উচ্চারিত হচ্ছিল—‘সালাত, সালাত’ (অর্থাৎ তোমরা নিয়মিত নামাজ আদায় করবে)। (মুসনাদে আহমদ: ২৬৬৮৪)

২. অধীনদের সঙ্গে সদাচরণ ও মানবতা: তিনি অসিয়ত করে গেছেন, ‘তোমাদের দাস-দাসী ও অধীনদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো।’ অর্থাৎ তাদের সঙ্গে সর্বদা সদ্ব্যবহার ও ন্যায়সংগত আচরণ করবে। (ইবনে হিব্বান: ৬৬০৫)

৩. জীবন পরিচালনায় কোরআন ও সুন্নাহর অনুসরণ: বিদায় হজের ঐতিহাসিক ময়দানে তিনি ইরশাদ করেন, ‘আমি তোমাদের মাঝে দুটি জিনিস রেখে যাচ্ছি; যতক্ষণ তোমরা এ দুটিকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে রাখবে, কখনোই পথভ্রষ্ট হবে না—আল্লাহর কিতাব (কোরআন) এবং তাঁর নবীর সুন্নাহ।’ (মুসনাদে হাকেম: ৩১৮)

৪. আমানতদারি রক্ষা: বিদায় হজের মঞ্চে তিনি সুস্পষ্ট ভাষায় নির্দেশ দিয়ে গেছেন, ‘সাবধান! কারও কাছে যদি অন্যের কোনো আমানত রক্ষিত থাকে, তবে সে যেন তা যথাসময়ে প্রকৃত আমানতদাতার কাছে ফেরত দেয়।’ (মুসনাদে আহমদ: ২০৬৯৫)

৫. তাওহিদের সুরক্ষা ও শিরকের পথ রুদ্ধ করা: অন্তিম রোগশয্যায় রাসুল (সা.) সতর্ক করে বলেন, ‘ইহুদিদের প্রতি আল্লাহর অভিশাপ, কারণ তারা তাদের নবীদের কবরগুলোকে উপাসনালয়ে পরিণত করেছিল।’ (সহিহ মুসলিম: ৫২৯)

৬. অর্থনৈতিক শোষণের অবসান ও সুদ বর্জন: বিদায় হজের ভাষণে রাসুল (সা.) ঘোষণা করেন, ‘আজ থেকে জাহেলি যুগের সব ধরনের সুদ প্রথা সম্পূর্ণ বাতিল ঘোষণা করা হলো।’ (সহিহ মুসলিম: ১২১৮)

৭. নারীর অধিকার ও সম্মান প্রদর্শন: তিনি বিদায় হজে বলেন, ‘তোমরা নারীদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো। কারণ, তোমরা আল্লাহর অঙ্গীকারের মাধ্যমে তাদের নিজের জীবনে গ্রহণ করেছ এবং তাঁর নির্দেশেই তাদের ওপর অধিকার লাভ করেছ।’ (সহিহ মুসলিম: ১২১৮)

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত