মক্কার ১৩০ কিলোমিটার দূরে কাদিদের নিকটবর্তী মুশাল্লাল নামের স্থান। সেখানেই উম্মে মাবাদ খুজইয়ার বাড়ি। উম্মে মাবাদ হলেন আত্মমর্যাদাসম্পন্ন, অতিথিপরায়ণ এক বিদুষী নারী—যিনি নিজ বাড়ির আঙিনায় বসে থাকতেন মুসাফিরদের মেহমানদারি করার জন্য।
হিজরতের উদ্দেশ্যে নবী (সা.) মক্কা থেকে বেরিয়ে তিন দিন পর্যন্ত সওর গুহায় আত্মগোপনে ছিলেন। শত্রুর ভয় কেটে গেলে নবী (সা.) তাঁর সঙ্গী আবু বকর (রা.)-কে নিয়ে মদিনার পথে রওনা হন। পথিমধ্যে অল্প সময় উম্মে মাবাদের বাড়িতে অবস্থান করেন। নবী (সা.) উম্মে মাবাদের নিকট মেহমানদারি তলব করেন। উম্মে মাবাদ বলেন, ‘আল্লাহর কসম, আপনাকে দেওয়ার মতো কিছু থাকলে এতটুকু কার্পণ্য করতাম না।’
পালের বকরিগুলোও ছিল দুধশূন্য। এ সময় তাঁবুর এক কোণে নবী (সা.) জীর্ণশীর্ণ এক বকরি দেখে বললেন, ‘এটা কেমন?’ উম্মে মাবাদ বললেন, ‘শারীরিক দুর্বলতায় এটি পালের পেছনে পড়ে গেছে।’
নবী (সা.) বললেন, ‘এটি কি দুধ দেয়?’ উম্মে মাবাদ বললেন, ‘এটা তার পক্ষে অসম্ভব।’
নবী (সা.) বললেন, ‘তুমি আমাকে এটার দুধ দোহনের অনুমতি দেবে?’ তিনি বললেন, ‘আমার পিতামাতা আপনার ওপর কোরবান হোক! আপনি এটার মধ্যে দুধ দেখলে নির্বিঘ্নে দোহন করুন।’
নবী (সা.) বকরিটিকে কাছে এনে ওলানে তাঁর হাত বুলিয়ে দিলেন এবং আল্লাহর নিকট দোয়া করলেন।
শুরু হলো নবীজি (সা.)-এর মুজিজা। বকরিটি সঙ্গে সঙ্গে পা ছড়িয়ে দিল। দুধে ওলান ভরে গেল। নবী (সা.) বড় দেখে পাত্র চাইলেন। পাত্র আনা হলো। নবী (সা.) দুধ দোহালেন। প্রথমে উম্মে মাবাদ পান করে তৃপ্ত হলেন। পরে একে একে সবাই। সবশেষে নবীজি (সা.) নিজেও পান করে পরিতৃপ্ত হলেন। এরপর আবারও সেই পাত্রভর্তি দুধ দোহন করে বাড়িতে রেখে যাত্রা শুরু করলেন।
খানিক বাদে আবু মাবাদ বাড়িতে এসে পাত্রভর্তি দুধ দেখে অবাক হয়ে প্রশ্ন করলেন, ‘বকরির পাল তো ছিল দূরে। ঘরেও নেই দুধেল বকরি! তবে দুধ পেলে কোথায়?’
তখন উম্মে মাবাদ বললেন, ‘এ তো সেই বরকতের হাতের ছোঁয়া, যিনি অল্প সময়ের জন্য আমার মেহমান হয়েছিলেন।’
উম্মে মাবাদ খুব সুনিপুণভাবে স্বামীর কাছে নবীজির বর্ণনা দিলেন। আবু মাবাদ বললেন, ‘আল্লাহর কসম! তিনি তো সেই কুরাইশি ব্যক্তি—যাঁর কথা ইতিপূর্বে বহুত শুনেছি। শত্রুরা তাঁকে হন্যে হয়ে খুঁজছে। খুব শখ ছিল তাঁর সঙ্গ দেওয়া। কখনো এ সুযোগ এলে তা হাতছাড়া করব না।’ (আর রাহিকুল মাখতুম: ২৮৯-২৯০, মুসতাদরাকে হাকেম: ৪৩২৬)

আল্লাহ তাআলা সর্বময় ক্ষমতার একক মালিক। মানুষের জীবনের আলো-ছায়া, সুখ-দুঃখ, ভালো-মন্দ—সবই তাঁর সৃষ্টি ও হুকুমের অধীন। অরণ্যের একটি বৃক্ষপত্রও তাঁর অগোচরে এবং হুকুম ছাড়া ঝরে পড়ে না—এ সত্য প্রতিটি মুমিনের সুদৃঢ় বিশ্বাস। তবু প্রাত্যহিক জীবনের নানা ঘাত-প্রতিঘাতে দেখা যায়, মানুষ অজান্তেই ইমানের সরল-সোজা পথ
৫ ঘণ্টা আগে
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
৯ ঘণ্টা আগে
প্রতিটি মুমিনের পরম আকাঙ্ক্ষা জান্নাত। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, ইবাদত-বন্দেগি ও তওবা-ইস্তিগফারের মূল উদ্দেশ্যই হলো শেষ বিচারে রবের কাছে জান্নাতের মেহমান হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করা। যদি রাসুলুল্লাহ (সা)-এর পবিত্র হাদিস থেকে এমন একটি সংক্ষিপ্ত ও সহজ দোয়া পাওয়া যায়, যা পাঠ করলে জান্নাত ওয়াজিব...
১৯ ঘণ্টা আগেহজ ২০২৭-এর নিবন্ধনের সময়সীমা শেষ হতে যাচ্ছে ২৪ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়ে দিয়েছে, এই নির্ধারিত তারিখের পর নিবন্ধনের সময় আর কোনোভাবেই বাড়ানো হবে না। এদিকে, হজ কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব ব্যাংক ও সংস্থাকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশ...
১ দিন আগে