মানুষের জীবনে স্বপ্ন একটি রহস্যময় বাস্তবতা। প্রতিদিন ঘুমের মধ্যে আমরা নানা ধরনের দৃশ্য দেখি। কখনো আনন্দের, কখনো ভীতিকর, আবার কখনো এমন কিছু দেখি—যা বাস্তব জীবনের সঙ্গে যেন অদ্ভুতভাবে মিলে যায়। যুগে যুগে মানুষজন স্বপ্নের অর্থ বা ব্যাখ্যা জানার চেষ্টা করেছে। কেউ এটিকে ভবিষ্যতের ইঙ্গিত মনে করেছে, কেউবা মনে করেছে নিছক কল্পনা। কিন্তু ইসলাম এ বিষয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও সুস্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেছে।
ইসলামের দৃষ্টিতে সব স্বপ্ন মানুষের মানসিক কল্পনার নাম নয়; কিছু স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ বা সতর্কবার্তাও হতে পারে। তবে সব স্বপ্ন সমান নয় এবং সব স্বপ্নের বিশেষ কোনো অর্থও নেই। তাই স্বপ্নকে নিয়ে বাড়াবাড়ি যেমন অনুচিত, তেমনি একে পুরোপুরি অস্বীকার করাও সঠিক নয়।
ইসলাম স্বপ্নকে মূলত তিন ভাগে বিভক্ত করেছে। নবীজি (সা.) বলেন, ‘স্বপ্ন তিন প্রকার, একটি আল্লাহর পক্ষ থেকে, একটি শয়তানের পক্ষ থেকে এবং একটি মানুষের নিজের মনের চিন্তাভাবনার প্রতিফলন।’ (সহিহ্ মুসলিম: ২২৬৩)
আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা স্বপ্নকে বলা হয় রুইয়া সালিহা বা সৎ স্বপ্ন। এটি মানুষের জন্য সুসংবাদ কিংবা সতর্কবার্তা হতে পারে। শয়তানের পক্ষ থেকে আসা স্বপ্নের উদ্দেশ্য হলো মানুষকে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত বা বিভ্রান্ত করা। আর সারা দিনের চিন্তা, পরিকল্পনা, আবেগ কিংবা অবচেতন মনের প্রভাবেও অনেক স্বপ্ন দেখা যায়, যার বিশেষ কোনো তাৎপর্য থাকে না।
একজন মুমিনের উচিত স্বপ্নকে ইসলামের আলোকে মূল্যায়ন করা। ভালো স্বপ্ন দেখলে আল্লাহর প্রশংসা করা, প্রয়োজনে বিশ্বস্ত ও জ্ঞানী ব্যক্তির কাছে তা উল্লেখ করা। আর ভীতিকর বা অপছন্দের স্বপ্ন দেখলে শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাওয়া।
স্বপ্ন মানুষের জীবন পরিচালনার মূল ভিত্তি নয়। একজন মুমিনের পথপ্রদর্শক হলো কোরআন ও সুন্নাহ। স্বপ্ন কখনো উৎসাহ দিতে পারে কিংবা সতর্ক করতে পারে, কিন্তু ইমান, আমল ও সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত মানদণ্ড হতে পারে না। ইসলামের এই ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গিই স্বপ্ন সম্পর্কে আমাদের সঠিক উপলব্ধি গড়ে তুলবে।

দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি পদে, প্রতিটি নিশ্বাসে মানুষ মহান আল্লাহর করুণা ও সাহায্যের মুখাপেক্ষী। রবের সাহায্য ছাড়া মানুষের কোনো প্রচেষ্টা বা প্রার্থনাই পূর্ণতা পায় না। আর আল্লাহর অফুরন্ত রহমত ও অনুকম্পা লাভের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো ‘দোয়া’।
৮ ঘণ্টা আগে
মুমিনের দৈনন্দিন প্রতিটি বৈধ কর্ম, যদি তা সঠিক নিয়তে এবং শরিয়তের সীমারেখা মেনে সম্পাদন করা হয়, তবে তা-ই ইবাদতে পরিণত হয়। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘বলুন, আমার নামাজ, আমার কোরবানি, আমার জীবন ও আমার মৃত্যু—সবই বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।’ (সুরা আনআম: ১৬২)। জীবনের সবকিছুই যখন আল্লাহর জন্য....
১২ ঘণ্টা আগে
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
১৭ ঘণ্টা আগে
জুমার নামাজ ইসলামের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত। ‘জুমুআহ’ শব্দের অর্থ একত্র হওয়া বা সমবেত হওয়া। সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন শুক্রবারে প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানরা মসজিদে একত্র হয়ে জামাতের সঙ্গে জোহরের নামাজের পরিবর্তে যে নামাজ আদায় করেন, সেটিই জুমার নামাজ। এর গুরুত্ব এত বেশি যে, পবিত্র কোরআনে ‘জুমুআহ’...
১ দিন আগে