
ঘুমানোর পর মানুষ নানাবিধ স্বপ্ন দেখে থাকে। তবে স্বপ্নে নিজেকে নতুন বর বা কনের সাজে দেখলে কিংবা নিজের বিয়ে হতে দেখলে মনে নানা কৌতূহল ও নানা প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক। ইসলামের দৃষ্টিতে স্বপ্নে নিজের বিয়ে দেখলে এর ব্যাখ্যা বা তাবির কী হতে পারে?
বিখ্যাত হাদিস বিশারদ আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানি (রহ.) স্বপ্নের শ্রেণিবিভাগ সম্পর্কে বলেন—মানুষ মূলত দুই ধরনের স্বপ্ন দেখে:
হাদিস শরিফে আরও এসেছে, ভালো ও পছন্দনীয় স্বপ্ন দেখলে মহান আল্লাহর প্রশংসা আদায় করা এবং তা কেবল ভালোবাসার মানুষের কাছে বলা উচিত। পক্ষান্তরে, অপছন্দনীয় বা মন্দ স্বপ্ন দেখলে শয়তানের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করে ৩ বার ‘আউজু বিল্লাহ...’ পড়া এবং কারও কাছে তা প্রকাশ না করাই উত্তম। (সহিহ বুখারি: ৬৫৮৪, সহিহ মুসলিম: ৫৮৬২)
ব্যক্তিভেদে স্বপ্নে বিয়ে দেখার ব্যাখ্যা ও তাৎপর্য বিভিন্ন হতে পারে:
১. কোনো অবিবাহিত পুরুষ বা নারী যদি প্রতিনিয়ত বিয়ে করার কথা ভাবেন কিংবা বিয়ের প্রস্তুতি ও আকাঙ্ক্ষায় মশগুল থাকেন, তবে অবচেতন মনের চিন্তার প্রতিফলনে স্বপ্নে বিয়ে দেখাটা খুবই স্বাভাবিক। স্বপ্নের তিন প্রকারের এক প্রকার হলো নিজের অন্তরের কল্পনার প্রকাশ।
২. অবিবাহিত কেউ যদি স্বাভাবিক অবস্থায় স্বপ্নে নিজের বিয়ে দেখে, তবে অনেক ফুকাহায়ে কেরামের মতে এর অর্থ দাঁড়ায়—আল্লাহ তাআলা অলৌকিকভাবে তাঁর রিজিক বা আর্থিক অবস্থায় বরকত দেবেন এবং তিনি অতি দ্রুত সম্পদশালী বা সচ্ছল হয়ে উঠতে পারেন। এর আরেকটি ব্যাখ্যা হলো, আল্লাহর হুকুমে সে শিগগিরই বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছে।
৩. কোনো বিবাহিত পুরুষ যদি স্বপ্নে দেখেন যে তিনি আবারও বিয়ে করছেন, তবে এর ব্যাখ্যামূলক অর্থ হলো—তার সামাজিক মর্যাদা ও সার্বিক অবস্থার উন্নতি ঘটবে। তার ব্যবসা-বাণিজ্য বা কর্মক্ষেত্রে অগ্রগতি হবে এবং বিশেষ করে নিজ বংশ বা পরিবার থেকে তিনি বিশেষ কল্যাণ ও সাহায্য লাভ করবেন।
৪. কোনো বিবাহিত নারী যদি স্বপ্নে নিজের দ্বিতীয় বিয়ে হতে দেখেন, তবে কিছু ব্যাখ্যাবিদদের মতে তিনি কারও পক্ষ থেকে কোনো অনিষ্ট বা ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন। এমন স্বপ্ন দেখলে ভয় না পেয়ে কিছু সদকা করে দেওয়া উত্তম; কারণ সদকা বিপদ-আপদ দূর করে।
হাদিস গ্রন্থ উমদাতুল কারি ও ফাতহুল বারি-তে বর্ণিত রয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) সাধারণত ফজরের নামাজ আদায়ের পরপরই সাহাবিদের থেকে স্বপ্নের কথা শুনতেন এবং এর সঠিক ব্যাখ্যা তুলে ধরতেন।
কেউ যদি বিজ্ঞ আলেমের কাছ থেকে নিজের স্বপ্নের তাবির জানতে চান, তবে ফজর পরবর্তী সময়টিই সর্বোত্তম। কারণ এই সময়ে স্বপ্ন দেখার পর বেশি সময় অতিবাহিত না হওয়ায় বিস্তারিত তথ্য মনে থাকে এবং ব্যাখ্যায় ভুল হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে।

ভুল করা মানুষের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য। জীবন চলার পথে ছোট-বড় ভুল সবারই হয়। কিন্তু সেই ভুলকে কীভাবে সংশোধন করতে হবে, তা মানবজাতির সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষাবিদ হজরত মুহাম্মদ (সা.) শিখিয়ে গেছেন। তিনি ভুলকে লজ্জা বা অপমানের কারণ হিসেবে দেখেননি, বরং এটিকে ইতিবাচক পরিবর্তনের একটি সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করেছেন।
১০ ঘণ্টা আগে
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
১৫ ঘণ্টা আগে
জীবনচক্রে অনাকাঙ্ক্ষিত বিপদ-আপদ, রোগব্যাধি কিংবা নানাবিধ সংকট আসা স্বাভাবিক। ইসলামে এসব অনিষ্ট ও ক্ষয়ক্ষতি থেকে আত্মরক্ষার মূল শিক্ষা হলো—সর্বাবস্থায় মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা (তাওয়াক্কুল) রাখা এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো দোয়াগুলো দৈনিক জীবনে চর্চা করা।
১ দিন আগে
আল্লাহ তাআলা মানুষকে পরিশ্রমনির্ভর করে সৃষ্টি করেছেন। তাই দিনের বেলায় নানা কাজ শেষে রাতে মানুষ বিশ্রাম নেয়। প্রশান্তিময় বিশ্রামের সর্বোত্তম উপায় হলো ঘুম। তবে শোয়ার আগে শরীর ও মনকে পবিত্র করে নেওয়া উচিত।
১ দিন আগে