
স্বপ্নে মৃত্যু দেখলে অধিকাংশ মানুষ ভয় পেয়ে যান। অনেকে মনে করেন, এমন স্বপ্ন হয়তো নিজের বা প্রিয়জনের মৃত্যুর পূর্বাভাস। কিন্তু ইসলামি স্বপ্নতত্ত্বে বিষয়টি এতটা সরল নয়। শরিয়তে এমন কোনো নির্দেশনা নেই যে, স্বপ্নে মৃত্যু দেখলেই বাস্তবে মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী। বরং প্রাচীন মুসলিম স্বপ্ন-ব্যাখ্যাকারীরা বিভিন্ন প্রেক্ষাপট বিবেচনায় এর ভিন্ন ভিন্ন সম্ভাব্য ব্যাখ্যা উল্লেখ করেছেন।
কেউ যদি স্বপ্নে নিজেকে মারা যেতে দেখেন, এরপর আবার জীবিত হয়ে ওঠেন, তাহলে তা গুনাহ থেকে তওবার ইঙ্গিত হতে পারে। আর যদি কেউ স্বপ্নের ভেতর ‘কখনো মৃত্যু হবে না’ বলে ধারণা করে থাকেন, তাহলে এটা তার জন্য আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হওয়ার ইঙ্গিত হতে পারে।
কোনো ব্যক্তি যদি অসুস্থ না হয়েও স্বপ্নে নিজের মৃত্যু দেখেন, তাহলে তা দীর্ঘায়ুর ইঙ্গিত হতে পারে। আবার কেউ যদি মৃত হয়ে পুনরায় মারা যেতে দেখেন এবং সেখানে কান্না ও বিলাপ না থাকে, তাহলে তা তার পরিবারের আনন্দ বা শুভ ঘটনার প্রতীক হতে পারে।
স্বপ্নে নিজের জানাজা, দাফন কিংবা কাফন দেখারও বিভিন্ন ব্যাখ্যা হতে পারে। কোথাও তা দ্বীনি দুর্বলতার প্রতি সতর্কবার্তা, কোথাও দুনিয়াবি পরিবর্তন, আবার কোথাও সামাজিক অবস্থার পরিবর্তনের ইঙ্গিত। একইভাবে স্বপ্নে স্ত্রী, সন্তান বা পরিচিত কারও মৃত্যু দেখার ক্ষেত্রেও একাধিক সম্ভাব্য ব্যাখ্যা রয়েছে। অর্থাৎ ব্যক্তির অবস্থা, স্বপ্নের ধরন এবং পারিপার্শ্বিকতা অনুযায়ী ব্যাখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে।
এগুলো মুসলিম মনীষীদের অভিজ্ঞতার আলোকে প্রস্তাবিত সম্ভাব্য ব্যাখ্যা। তাই কোনো স্বপ্ন দেখে আতঙ্কিত হওয়া বা নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী মনে করা একদমই উচিত নয়।
একজন মুমিনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—বাস্তব মৃত্যুর প্রস্তুতি নেওয়া। স্বপ্নে মৃত্যু দেখা যদি আমাদের গাফিলতি ঝেড়ে ফেলে আখিরাতের প্রস্তুতির কথা স্মরণ করিয়ে দেয়, তবে সেটিই হবে এ ধরনের স্বপ্নের সবচেয়ে বড় শিক্ষা।
তথ্যসূত্র: ইবনে সিরিন, তফসিরুল আহলাম: ৭৩-৭৪, আল-মাকতাবাতুত তাওফিকিয়্যাহ, কায়রো

দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি পদে, প্রতিটি নিশ্বাসে মানুষ মহান আল্লাহর করুণা ও সাহায্যের মুখাপেক্ষী। রবের সাহায্য ছাড়া মানুষের কোনো প্রচেষ্টা বা প্রার্থনাই পূর্ণতা পায় না। আর আল্লাহর অফুরন্ত রহমত ও অনুকম্পা লাভের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো ‘দোয়া’।
৬ ঘণ্টা আগে
মুমিনের দৈনন্দিন প্রতিটি বৈধ কর্ম, যদি তা সঠিক নিয়তে এবং শরিয়তের সীমারেখা মেনে সম্পাদন করা হয়, তবে তা-ই ইবাদতে পরিণত হয়। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘বলুন, আমার নামাজ, আমার কোরবানি, আমার জীবন ও আমার মৃত্যু—সবই বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।’ (সুরা আনআম: ১৬২)। জীবনের সবকিছুই যখন আল্লাহর জন্য....
১০ ঘণ্টা আগে
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
১৫ ঘণ্টা আগে
জুমার নামাজ ইসলামের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত। ‘জুমুআহ’ শব্দের অর্থ একত্র হওয়া বা সমবেত হওয়া। সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন শুক্রবারে প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানরা মসজিদে একত্র হয়ে জামাতের সঙ্গে জোহরের নামাজের পরিবর্তে যে নামাজ আদায় করেন, সেটিই জুমার নামাজ। এর গুরুত্ব এত বেশি যে, পবিত্র কোরআনে ‘জুমুআহ’...
১ দিন আগে